ঢাকা ১১:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রিজেন্টের সেই সাহেদ ফের গ্রেপ্তার সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন

সব ধর্মের মানুষের মিলিত চেষ্টায় নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জামায়াত আমিরের

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:৩৭:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ জুন ২০২৫
  • / 428

ছবি সংগৃহীত

 

ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বিভেদ নয় এমন মন্তব্য করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “আমরা এই দেশেই জন্মেছি, আমরা এই দেশেরই মর্যাদাবান নাগরিক। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও মুসলমান এই চার ধর্মের অনুসারীরাই একত্রে বাংলাদেশ গড়েছে এবং ভবিষ্যতেও সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।”

সোমবার বিকেলে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত সকল ধর্মাবলম্বীর মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন  গোপালগঞ্জের প্রশাসনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর দাবি জামায়াত নেতা হাফিজের

সভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “৫ আগস্টের পর আমাদের কী হবে এই প্রশ্ন অনেকেই করেছিলেন। সত্যি বলতে, এরপর আমার স্ত্রী-সন্তান এমনকি বাবা-মাও আমাকে পাননি। আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন করতেও দেওয়া হয়নি। অথচ আমি কোনো অপরাধী নই। আমি চোর, ডাকাত, সন্ত্রাসী বা খুনি নই। তাহলে আমাকে কেন জেলে রাখা হলো? এমন অন্যায় শুধু আমার নয়, লক্ষ মানুষের সঙ্গেই ঘটেছে। আমাদের সুখ-দুঃখে অংশ নেওয়ার সুযোগ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।”

এক হৃদয়বিদারক ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সম্প্রতি বরগুনায় পঞ্চম শ্রেণির এক শিশুকে ধর্ষণের পর তার বাবাকে খুন করা হয়, কারণ তিনি মামলা করেছিলেন। ভিকটিমের পরিবার এখন নিঃস্ব তিনটি মেয়ের মধ্যে বড় মেয়েটির বয়স মাত্র ১১, ছোট দুটির একজন আড়াই মাসের। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি নিহত হওয়ার পর ওই মা প্রায় অচেতন অবস্থায় বলছিলেন ‘আমরা কী খাব, কে দেখবে আমাদের।’ আমি তখন আড়াই মাসের শিশুটিকে কোলে নিয়ে তার দায়িত্ব গ্রহণ করি এবং আমাদের সংগঠন এখন প্রতি মাসে সেই পরিবারের খরচ বহন করছে।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন বড়লেখা উপজেলা জামায়াতের আমির এমাদুল ইসলাম। সঞ্চালনায় ছিলেন উপজেলা সেক্রেটারি আব্দুল বাছিত। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির ফখরুল ইসলাম, জেলা সেক্রেটারি ইয়ামীর আলী, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

সভায় হিন্দু ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন সংগঠনের নেতারাও বক্তব্য রাখেন। শেষে ডা. শফিকুর রহমান উপস্থিত সবার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

সব ধর্মের মানুষের মিলিত চেষ্টায় নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জামায়াত আমিরের

আপডেট সময় ০৪:৩৭:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ জুন ২০২৫

 

ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বিভেদ নয় এমন মন্তব্য করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “আমরা এই দেশেই জন্মেছি, আমরা এই দেশেরই মর্যাদাবান নাগরিক। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও মুসলমান এই চার ধর্মের অনুসারীরাই একত্রে বাংলাদেশ গড়েছে এবং ভবিষ্যতেও সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।”

সোমবার বিকেলে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত সকল ধর্মাবলম্বীর মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন  জাতীয় ঐকমত্য আলোচনায় দ্বিতীয় দিনে জামায়াতের অংশগ্রহণ

সভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “৫ আগস্টের পর আমাদের কী হবে এই প্রশ্ন অনেকেই করেছিলেন। সত্যি বলতে, এরপর আমার স্ত্রী-সন্তান এমনকি বাবা-মাও আমাকে পাননি। আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন করতেও দেওয়া হয়নি। অথচ আমি কোনো অপরাধী নই। আমি চোর, ডাকাত, সন্ত্রাসী বা খুনি নই। তাহলে আমাকে কেন জেলে রাখা হলো? এমন অন্যায় শুধু আমার নয়, লক্ষ মানুষের সঙ্গেই ঘটেছে। আমাদের সুখ-দুঃখে অংশ নেওয়ার সুযোগ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।”

এক হৃদয়বিদারক ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সম্প্রতি বরগুনায় পঞ্চম শ্রেণির এক শিশুকে ধর্ষণের পর তার বাবাকে খুন করা হয়, কারণ তিনি মামলা করেছিলেন। ভিকটিমের পরিবার এখন নিঃস্ব তিনটি মেয়ের মধ্যে বড় মেয়েটির বয়স মাত্র ১১, ছোট দুটির একজন আড়াই মাসের। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি নিহত হওয়ার পর ওই মা প্রায় অচেতন অবস্থায় বলছিলেন ‘আমরা কী খাব, কে দেখবে আমাদের।’ আমি তখন আড়াই মাসের শিশুটিকে কোলে নিয়ে তার দায়িত্ব গ্রহণ করি এবং আমাদের সংগঠন এখন প্রতি মাসে সেই পরিবারের খরচ বহন করছে।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন বড়লেখা উপজেলা জামায়াতের আমির এমাদুল ইসলাম। সঞ্চালনায় ছিলেন উপজেলা সেক্রেটারি আব্দুল বাছিত। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির ফখরুল ইসলাম, জেলা সেক্রেটারি ইয়ামীর আলী, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

সভায় হিন্দু ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন সংগঠনের নেতারাও বক্তব্য রাখেন। শেষে ডা. শফিকুর রহমান উপস্থিত সবার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।