ঢাকা ০৮:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
হাসপাতাল বন্ধ না করে দোষীদের শাস্তি চাইলেন আদ্-দ্বীনে নিহতের বাবা শিশু সুরক্ষায় টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের স্লোভাকিয়া—মধ্য ইউরোপের পাহাড়, ইতিহাস ও আধুনিক অগ্রগতির দেশ মালয়েশিয়া পাচারের সময় টেকনাফে উদ্ধার ৫০ আটক ৯ ‘পাচারকারী’ সাভারে তিন পোশাক কারখানায় ছাঁটাই, কর্মহীন প্রায় ১৯’শ শ্রমিক উত্তরখানে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ: একই পরিবারের ৩ সদস্য আইসিইউতে চারদিকে মেঘ, তবুও কমছে না গরম; অস্বস্তিতে ঢাকাবাসী রোববার থেকে বাড়ছে মেট্রোরেলের চলাচলের সময় জেলেনস্কির সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন পুতিন ১৫ বছর বয়সেই ভারত দলে সূর্যবংশী, টি-টোয়েন্টির নতুন অধিনায়ক আইয়ার

চাঁদ জয়ের রেকর্ড গড়া নভোচারীদের, রাজকীয় সংবর্ধনা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:০২:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • / 70

ছবি সংগৃহীত

 

গভীর মহাকাশে দীর্ঘতম পথ পাড়ি দেওয়ার অনন্য রেকর্ড গড়ে এবং চাঁদে যাওয়ার দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পৃথিবীতে ফিরেছেন আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী। গত শনিবার টেক্সাসের হিউস্টনে অবস্থিত নাসার জনসন স্পেস সেন্টারে এই বীরোচিত অভিযাত্রী দলকে রাজকীয় সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেনকে স্বাগত জানাতে এলিংটন ফিল্ডে শত শত উৎসুক জনতা উপস্থিত ছিলেন।

চাঁদ অভিমুখে ১০ দিনের এই সফল মিশন শেষে নভোচারীদের বহনকারী ওরিয়ন ক্যাপসুলটি ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করে। ঐতিহাসিক এই দিনটি ছিল অ্যাপোলো-১৩ মিশনের ৫৬তম বার্ষিকী। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান নভোচারীদের পরিচয় করিয়ে দিলে উপস্থিত সুধীবৃন্দ দাঁড়িয়ে তাদের অভিবাদন জানান। এ সময় কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান আবেগঘন কণ্ঠে মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে ফেরার ব্যাকুলতা ও পৃথিবীর সৌন্দর্য নিয়ে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন  নয় মাস পর পৃথিবীতে ফিরলেন নভোচারী সুনীতা ও বুচ

আর্টেমিস-২ মিশনের এই যাত্রায় নভোচারীরা পৃথিবী থেকে প্রায় ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৬ মাইল (৪ লাখ ৬ হাজার ৭৭১ কিলোমিটার) দূরে ভ্রমণ করেন, যা মানব ইতিহাসে মহাকাশে পাড়ি দেওয়া সর্বোচ্চ দূরত্ব। এর মাধ্যমে তারা দীর্ঘ কয়েক দশকের পুরনো অ্যাপোলো-১৩-এর গড়া দূরত্বের রেকর্ড ভেঙে নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছেন। যাত্রাপথে তারা প্রথমবারের মতো চাঁদের উল্টো পিঠ সরাসরি দেখার সুযোগ পান এবং মহাকাশ থেকে পূর্ণ সূর্যগ্রহণের বিরল অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

মিশন চলাকালীন নভোচারী ক্রিস্টিনা কচ চাঁদের দিগন্তে পৃথিবীর অস্ত যাওয়ার একটি অসাধারণ ছবি তোলেন, যা ১৯৬৮ সালের বিখ্যাত ‘আর্থরাইজ’ ছবির স্মৃতিকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। সফলতার পাশাপাশি কিছু যান্ত্রিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। বিশেষ করে মহাকাশযানের শৌচাগার অকেজো হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নাসা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে এবং পরবর্তী চন্দ্রাভিযানের আগে নকশায় প্রয়োজনীয় সংশোধনের নিশ্চয়তা দিয়েছে।

১৯৭২ সালের অ্যাপোলো-১৭ মিশনের দীর্ঘ ৫৩ বছর পর মানুষের এই চন্দ্রাভিযান নাসার পরবর্তী বৃহৎ প্রকল্পগুলোর জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছর আর্টেমিস-৩ মিশনে লুনার ল্যান্ডারের সঙ্গে ওরিয়ন ক্যাপসুলের ডকিং মহড়া অনুষ্ঠিত হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৮ সালে আর্টেমিস-৪ মিশনের মাধ্যমে আবারও চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে মানুষের পদচিহ্ন পড়বে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি

নিউজটি শেয়ার করুন

চাঁদ জয়ের রেকর্ড গড়া নভোচারীদের, রাজকীয় সংবর্ধনা

আপডেট সময় ০৭:০২:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

 

গভীর মহাকাশে দীর্ঘতম পথ পাড়ি দেওয়ার অনন্য রেকর্ড গড়ে এবং চাঁদে যাওয়ার দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পৃথিবীতে ফিরেছেন আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী। গত শনিবার টেক্সাসের হিউস্টনে অবস্থিত নাসার জনসন স্পেস সেন্টারে এই বীরোচিত অভিযাত্রী দলকে রাজকীয় সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেনকে স্বাগত জানাতে এলিংটন ফিল্ডে শত শত উৎসুক জনতা উপস্থিত ছিলেন।

চাঁদ অভিমুখে ১০ দিনের এই সফল মিশন শেষে নভোচারীদের বহনকারী ওরিয়ন ক্যাপসুলটি ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করে। ঐতিহাসিক এই দিনটি ছিল অ্যাপোলো-১৩ মিশনের ৫৬তম বার্ষিকী। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান নভোচারীদের পরিচয় করিয়ে দিলে উপস্থিত সুধীবৃন্দ দাঁড়িয়ে তাদের অভিবাদন জানান। এ সময় কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান আবেগঘন কণ্ঠে মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে ফেরার ব্যাকুলতা ও পৃথিবীর সৌন্দর্য নিয়ে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন  ৫০ বছর পর চাঁদ জয় করে ফিরলেন চার নভোচারী

আর্টেমিস-২ মিশনের এই যাত্রায় নভোচারীরা পৃথিবী থেকে প্রায় ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৬ মাইল (৪ লাখ ৬ হাজার ৭৭১ কিলোমিটার) দূরে ভ্রমণ করেন, যা মানব ইতিহাসে মহাকাশে পাড়ি দেওয়া সর্বোচ্চ দূরত্ব। এর মাধ্যমে তারা দীর্ঘ কয়েক দশকের পুরনো অ্যাপোলো-১৩-এর গড়া দূরত্বের রেকর্ড ভেঙে নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছেন। যাত্রাপথে তারা প্রথমবারের মতো চাঁদের উল্টো পিঠ সরাসরি দেখার সুযোগ পান এবং মহাকাশ থেকে পূর্ণ সূর্যগ্রহণের বিরল অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

মিশন চলাকালীন নভোচারী ক্রিস্টিনা কচ চাঁদের দিগন্তে পৃথিবীর অস্ত যাওয়ার একটি অসাধারণ ছবি তোলেন, যা ১৯৬৮ সালের বিখ্যাত ‘আর্থরাইজ’ ছবির স্মৃতিকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। সফলতার পাশাপাশি কিছু যান্ত্রিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। বিশেষ করে মহাকাশযানের শৌচাগার অকেজো হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নাসা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে এবং পরবর্তী চন্দ্রাভিযানের আগে নকশায় প্রয়োজনীয় সংশোধনের নিশ্চয়তা দিয়েছে।

১৯৭২ সালের অ্যাপোলো-১৭ মিশনের দীর্ঘ ৫৩ বছর পর মানুষের এই চন্দ্রাভিযান নাসার পরবর্তী বৃহৎ প্রকল্পগুলোর জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছর আর্টেমিস-৩ মিশনে লুনার ল্যান্ডারের সঙ্গে ওরিয়ন ক্যাপসুলের ডকিং মহড়া অনুষ্ঠিত হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৮ সালে আর্টেমিস-৪ মিশনের মাধ্যমে আবারও চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে মানুষের পদচিহ্ন পড়বে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি