ঢাকা ০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

সড়ক-রেল-নৌপথে মার্চে হতাহত ২৫০০ ছুঁইছুঁই; দুর্ঘটনার মূল কারণ বেপরোয়া গতি ও অব্যবস্থাপনা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:২৫:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
  • / 267

ছবি সংগৃহীত

 

বিদায়ী মার্চ মাসে দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনার এক ভয়াবহ পরিসংখ্যান সামনে এসেছে। মাসজুড়ে মোট ৬৭০টি দুর্ঘটনায় ৬৮২ জন নিহত এবং ১ হাজার ৭৯৬ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে কেবল সড়কেই ৬১৬টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৬১৯ জন। শনিবার (৪ এপ্রিল) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিভাগীয় পরিসংখ্যান: শীর্ষে ঢাকা, নিচে বরিশাল
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে।
ঢাকা বিভাগ: ১৬০টি দুর্ঘটনায় ১৭০ জন নিহত ও ৩২০ জন আহত।
বরিশাল বিভাগ: সবচেয়ে কম দুর্ঘটনার রেকর্ড এই বিভাগে; ৩০টি দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত ও ১২২ জন আহত।

আরও পড়ুন  জাতিসংঘের আঞ্চলিক সংস্থায় বাংলাদেশ: নতুন নির্বাচিত সদস্য

দুর্ঘটনার শিকার ও নিহতের পরিচয়
মার্চ মাসে প্রাণ হারানোদের মধ্যে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন। উল্লেখযোগ্যরা হলেন:
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী: ৫ জন পুলিশ, ১ জন আনসার ও ১ জন বিজিবি সদস্য।
পেশাজীবী: ১ জন চিকিৎসক, ১ জন আইনজীবী, ৩ জন প্রকৌশলী এবং ১৪ জন শিক্ষক।
সাধারণ যাত্রী ও অন্যান্য: ১৫০ জন চালক, ৮৪ জন পথচারী, ৭৪ জন নারী, ৮২ জন শিশু এবং ৬৭ জন শিক্ষার্থী।

রেল ও নৌপথের চিত্র
সড়কের পাশাপাশি রেল ও নৌপথও ছিল অনিরাপদ:
রেলপথ: ৪৫টি দুর্ঘটনায় ৫৪ জন নিহত এবং ২২৯ জন আহত হয়েছেন।
নৌপথ: ৯টি দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত এবং ১৯ জন আহত হয়েছেন; এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৩ জন।
দুর্ঘটনার নেপথ্যে প্রধান কারণসমূহ
যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী দুর্ঘটনার মূল কারণগুলো হলো:
মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার অবাধ চলাচল।
রোড সাইন, মার্কিং ও সড়কবাতির অভাব।
অদক্ষ চালক ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের দাপট।
উল্টো পথে যান চলাচল এবং বেপরোয়া গতি।
ঈদযাত্রা স্পেশাল: বাসের ছাদে, ট্রাক-পিকআপে এবং ট্রেনের ছাদে ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত।

উত্তরণের উপায়: সমিতির সুপারিশ
সড়ক নিরাপদ করতে প্রতিবেদনে বেশ কিছু জরুরি সুপারিশ করা হয়েছে:
১. প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ফিটনেস ও লাইসেন্স প্রদান।
২. জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে রাতে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা নিশ্চিত করা।
৩. বিআরটিএ-র সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত ‘রোড সেফটি অডিট’ পরিচালনা।
৪. ফিটনেসবিহীন যান ও ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন বন্ধ করা।
৫. মহাসড়কে সার্ভিস লেন নির্মাণ এবং চাঁদাবাজি বন্ধ করা।

নিউজটি শেয়ার করুন

সড়ক-রেল-নৌপথে মার্চে হতাহত ২৫০০ ছুঁইছুঁই; দুর্ঘটনার মূল কারণ বেপরোয়া গতি ও অব্যবস্থাপনা

আপডেট সময় ০৫:২৫:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

 

বিদায়ী মার্চ মাসে দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনার এক ভয়াবহ পরিসংখ্যান সামনে এসেছে। মাসজুড়ে মোট ৬৭০টি দুর্ঘটনায় ৬৮২ জন নিহত এবং ১ হাজার ৭৯৬ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে কেবল সড়কেই ৬১৬টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৬১৯ জন। শনিবার (৪ এপ্রিল) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিভাগীয় পরিসংখ্যান: শীর্ষে ঢাকা, নিচে বরিশাল
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে।
ঢাকা বিভাগ: ১৬০টি দুর্ঘটনায় ১৭০ জন নিহত ও ৩২০ জন আহত।
বরিশাল বিভাগ: সবচেয়ে কম দুর্ঘটনার রেকর্ড এই বিভাগে; ৩০টি দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত ও ১২২ জন আহত।

আরও পড়ুন  ফ্রান্সের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ: ড. মঈন খান

দুর্ঘটনার শিকার ও নিহতের পরিচয়
মার্চ মাসে প্রাণ হারানোদের মধ্যে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন। উল্লেখযোগ্যরা হলেন:
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী: ৫ জন পুলিশ, ১ জন আনসার ও ১ জন বিজিবি সদস্য।
পেশাজীবী: ১ জন চিকিৎসক, ১ জন আইনজীবী, ৩ জন প্রকৌশলী এবং ১৪ জন শিক্ষক।
সাধারণ যাত্রী ও অন্যান্য: ১৫০ জন চালক, ৮৪ জন পথচারী, ৭৪ জন নারী, ৮২ জন শিশু এবং ৬৭ জন শিক্ষার্থী।

রেল ও নৌপথের চিত্র
সড়কের পাশাপাশি রেল ও নৌপথও ছিল অনিরাপদ:
রেলপথ: ৪৫টি দুর্ঘটনায় ৫৪ জন নিহত এবং ২২৯ জন আহত হয়েছেন।
নৌপথ: ৯টি দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত এবং ১৯ জন আহত হয়েছেন; এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৩ জন।
দুর্ঘটনার নেপথ্যে প্রধান কারণসমূহ
যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী দুর্ঘটনার মূল কারণগুলো হলো:
মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার অবাধ চলাচল।
রোড সাইন, মার্কিং ও সড়কবাতির অভাব।
অদক্ষ চালক ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের দাপট।
উল্টো পথে যান চলাচল এবং বেপরোয়া গতি।
ঈদযাত্রা স্পেশাল: বাসের ছাদে, ট্রাক-পিকআপে এবং ট্রেনের ছাদে ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত।

উত্তরণের উপায়: সমিতির সুপারিশ
সড়ক নিরাপদ করতে প্রতিবেদনে বেশ কিছু জরুরি সুপারিশ করা হয়েছে:
১. প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ফিটনেস ও লাইসেন্স প্রদান।
২. জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে রাতে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা নিশ্চিত করা।
৩. বিআরটিএ-র সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত ‘রোড সেফটি অডিট’ পরিচালনা।
৪. ফিটনেসবিহীন যান ও ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন বন্ধ করা।
৫. মহাসড়কে সার্ভিস লেন নির্মাণ এবং চাঁদাবাজি বন্ধ করা।