ঢাকা ০২:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রিজেন্টের সেই সাহেদ ফের গ্রেপ্তার সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন

টকশো ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিভ্রান্তি থেকে সতর্ক থাকতে হবে: মির্জা ফখরুল

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৩৭:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • / 103

ছবি সংগৃহীত

 

বর্তমান সময়ে তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, বর্তমানে মানুষ সোশ্যাল মিডিয়া দ্বারা ব্যাপকভাবে আক্রান্ত এবং টেলিভিশন টকশো ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষকে বিভ্রান্তির পথে পরিচালিত করছে। আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর বারিধারায় একটি সংগঠন আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল তাঁর বক্তব্যে বলেন, “টেলিভিশনের টকশো আপনাদের বিভ্রান্ত করবে। আরও বেশি বিভ্রান্ত করবে সোশ্যাল মিডিয়া। এই বিষয়গুলো সম্পর্কে আপনাদের সচেতনভাবে ভাবতে হবে।” রাজনীতিতে নানা ধরনের আলোচনা ও বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পার্লামেন্টের কথা বা রাজপথের বক্তৃতা অনেক সময় সাধারণ মানুষের কাছে অনাকাঙ্ক্ষিত মনে হতে পারে, কিন্তু সেই বাস্তবতাকে মেনে নিয়েই ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে নজর দিতে হবে। এ সময় তিনি সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে বিত্তবান ও সুশীল সমাজের সহযোগিতা কামনা করেন।

আরও পড়ুন  ‎গণমাধ্যমের তোষামোদী সংস্কৃতি এখনো রয়ে গেছে— মির্জা ফখরুল

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী দাবি করেন, স্বাধীনতার ৫৬ বছর পার হলেও আমাদের অনেক ব্যর্থতা রয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের মাথাপিছু আয় ও জিডিপি এখনও আশানুরূপ নয় এবং প্রায় ৪২ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে। ফুটপাতে মানুষের মানবেতর জীবনযাপন এবং শিশুশ্রমের আধিক্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এই সমাজ পরিবর্তনের চেষ্টা বারবার হলেও আমরা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারিনি। কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তিকে দায়ী না করে আমি একে আমাদের সামগ্রিক ব্যর্থতা হিসেবেই দেখি।”

তবে ব্যর্থতার পাশাপাশি জাতীয় কিছু অর্জনের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন মন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালে দেশে সাড়ে সাত কোটি মানুষের জন্য যেখানে বিপুল খাদ্য ঘাটতি ছিল, আজ ১৮ কোটি মানুষের দেশে সেই ঘাটতি প্রায় নেই বললেই চলে। এই অর্জনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও দারিদ্র্য বিমোচনে নিজেদের অক্ষমতার কথা তিনি অকপটে স্বীকার করেন।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করে বলেন, “জিয়াউর রহমানই নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তিনি একদলীয় শাসন ব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলেন এবং কৃষি ও তরুণ সমাজের মধ্যে উৎপাদনের স্পৃহা জাগিয়ে তুলেছিলেন।”

জুলাই অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনের পর যখন মানুষের দম বন্ধ হয়ে আসছিল, যখন গুম ও খুনের আতঙ্কে দেশ স্তব্ধ ছিল, তখন জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলন নতুন আশা জাগিয়েছে। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশে আবার স্বপ্নের সূর্য উদিত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

টকশো ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিভ্রান্তি থেকে সতর্ক থাকতে হবে: মির্জা ফখরুল

আপডেট সময় ০৭:৩৭:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

 

বর্তমান সময়ে তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, বর্তমানে মানুষ সোশ্যাল মিডিয়া দ্বারা ব্যাপকভাবে আক্রান্ত এবং টেলিভিশন টকশো ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষকে বিভ্রান্তির পথে পরিচালিত করছে। আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর বারিধারায় একটি সংগঠন আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল তাঁর বক্তব্যে বলেন, “টেলিভিশনের টকশো আপনাদের বিভ্রান্ত করবে। আরও বেশি বিভ্রান্ত করবে সোশ্যাল মিডিয়া। এই বিষয়গুলো সম্পর্কে আপনাদের সচেতনভাবে ভাবতে হবে।” রাজনীতিতে নানা ধরনের আলোচনা ও বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পার্লামেন্টের কথা বা রাজপথের বক্তৃতা অনেক সময় সাধারণ মানুষের কাছে অনাকাঙ্ক্ষিত মনে হতে পারে, কিন্তু সেই বাস্তবতাকে মেনে নিয়েই ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে নজর দিতে হবে। এ সময় তিনি সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে বিত্তবান ও সুশীল সমাজের সহযোগিতা কামনা করেন।

আরও পড়ুন  ঢাকা আর বাসযোগ্য মনে হয় না - মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী দাবি করেন, স্বাধীনতার ৫৬ বছর পার হলেও আমাদের অনেক ব্যর্থতা রয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের মাথাপিছু আয় ও জিডিপি এখনও আশানুরূপ নয় এবং প্রায় ৪২ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে। ফুটপাতে মানুষের মানবেতর জীবনযাপন এবং শিশুশ্রমের আধিক্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এই সমাজ পরিবর্তনের চেষ্টা বারবার হলেও আমরা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারিনি। কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তিকে দায়ী না করে আমি একে আমাদের সামগ্রিক ব্যর্থতা হিসেবেই দেখি।”

তবে ব্যর্থতার পাশাপাশি জাতীয় কিছু অর্জনের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন মন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালে দেশে সাড়ে সাত কোটি মানুষের জন্য যেখানে বিপুল খাদ্য ঘাটতি ছিল, আজ ১৮ কোটি মানুষের দেশে সেই ঘাটতি প্রায় নেই বললেই চলে। এই অর্জনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও দারিদ্র্য বিমোচনে নিজেদের অক্ষমতার কথা তিনি অকপটে স্বীকার করেন।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করে বলেন, “জিয়াউর রহমানই নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তিনি একদলীয় শাসন ব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলেন এবং কৃষি ও তরুণ সমাজের মধ্যে উৎপাদনের স্পৃহা জাগিয়ে তুলেছিলেন।”

জুলাই অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনের পর যখন মানুষের দম বন্ধ হয়ে আসছিল, যখন গুম ও খুনের আতঙ্কে দেশ স্তব্ধ ছিল, তখন জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলন নতুন আশা জাগিয়েছে। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশে আবার স্বপ্নের সূর্য উদিত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।