ঢাকা ০৭:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
টকশো ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিভ্রান্তি থেকে সতর্ক থাকতে হবে: মির্জা ফখরুল রুশ তেল আমদানিতে ৬০ দিনের ‘বিশেষ ছাড়’ পেল বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ৮ আরোহীর সবার মৃত্যু শেখ হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত: নয়াদিল্লির আনুষ্ঠানিক বার্তা অস্ট্রিয়া—সংগীত, ইতিহাস ও পাহাড়ের দেশ চাঁদ জয়ের রেকর্ড গড়া নভোচারীদের, রাজকীয় সংবর্ধনা সিনেমার বাইরে বাস্তব নাটক—রোহিত শেঠির বাড়িতে গুলির ঘটনায় গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ায় অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা ‘ক্লান্ত’ মির্জা ফখরুল কি তবে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? গুঞ্জন ও আগামীর সমীকরণ খাবার শেষে পানি পান: উপকার নাকি ক্ষতি—চিকিৎসকরা কী বলছেন

রুশ তেল আমদানিতে ৬০ দিনের ‘বিশেষ ছাড়’ পেল বাংলাদেশ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৩০:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • / 10

ছবি সংগৃহীত

 

বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির খবর দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে দেশটি থেকে জ্বালানি তেল আমদানির জন্য বাংলাদেশকে ৬০ দিনের বিশেষ ছাড় দিয়েছে ওয়াশিংটন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ সুবিধার মেয়াদ আগামী ৯ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে।

সূত্র অনুযায়ী, গত ১১ এপ্রিল মার্কিন প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সরকারকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। এর আগে গত ১২ মার্চ রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য সংক্রান্ত লেনদেনের ওপর ৩০ দিনের একটি সাময়িক ছাড় দিয়েছিল মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ, যার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন করে এই ৬০ দিনের সময়সীমা বাড়ানো হলো। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার কারণে ওই অঞ্চল থেকে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিকল্প উৎস হিসেবে রাশিয়ার শরণাপন্ন হয় বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন  ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ

রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেজন্য বাংলাদেশ সরকার আগেই ওয়াশিংটনকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছিল। এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গত ৩১ মার্চ ওয়াশিংটনে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। সেই বৈঠকে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চাওয়া হলে মার্কিন প্রশাসন ইতিবাচক সাড়া দেয়। এমনকি রাশিয়ার তেল তৃতীয় কোনো দেশে পরিশোধিত হয়ে বাংলাদেশে আসার বিকল্প পদ্ধতি নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

এদিকে, মার্কিন সবুজ সংকেত পাওয়ার পর রাশিয়ার সঙ্গেও আলোচনা জোরদার করেছে ঢাকা। গত ১৫ এপ্রিল ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল ও অন্যান্য কারিগরি সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির এই জটিল সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই ছাড় বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বর্তমান বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় যে বিঘ্ন ঘটেছে, তা সামাল দিতে এই ৬০ দিনের সময়সীমাকে কাজে লাগিয়ে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ নিশ্চিত করতে চায় সরকার।

নিউজটি শেয়ার করুন

রুশ তেল আমদানিতে ৬০ দিনের ‘বিশেষ ছাড়’ পেল বাংলাদেশ

আপডেট সময় ০৭:৩০:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

 

বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির খবর দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে দেশটি থেকে জ্বালানি তেল আমদানির জন্য বাংলাদেশকে ৬০ দিনের বিশেষ ছাড় দিয়েছে ওয়াশিংটন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ সুবিধার মেয়াদ আগামী ৯ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে।

সূত্র অনুযায়ী, গত ১১ এপ্রিল মার্কিন প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সরকারকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। এর আগে গত ১২ মার্চ রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য সংক্রান্ত লেনদেনের ওপর ৩০ দিনের একটি সাময়িক ছাড় দিয়েছিল মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ, যার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন করে এই ৬০ দিনের সময়সীমা বাড়ানো হলো। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার কারণে ওই অঞ্চল থেকে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিকল্প উৎস হিসেবে রাশিয়ার শরণাপন্ন হয় বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশের সামনে দারুণ সুযোগ: বিশ্বকাপ নিশ্চিত করার লড়াই

রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেজন্য বাংলাদেশ সরকার আগেই ওয়াশিংটনকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছিল। এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গত ৩১ মার্চ ওয়াশিংটনে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। সেই বৈঠকে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চাওয়া হলে মার্কিন প্রশাসন ইতিবাচক সাড়া দেয়। এমনকি রাশিয়ার তেল তৃতীয় কোনো দেশে পরিশোধিত হয়ে বাংলাদেশে আসার বিকল্প পদ্ধতি নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

এদিকে, মার্কিন সবুজ সংকেত পাওয়ার পর রাশিয়ার সঙ্গেও আলোচনা জোরদার করেছে ঢাকা। গত ১৫ এপ্রিল ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল ও অন্যান্য কারিগরি সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির এই জটিল সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই ছাড় বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বর্তমান বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় যে বিঘ্ন ঘটেছে, তা সামাল দিতে এই ৬০ দিনের সময়সীমাকে কাজে লাগিয়ে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ নিশ্চিত করতে চায় সরকার।