ঢাকা ০৯:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রিজেন্টের সেই সাহেদ ফের গ্রেপ্তার সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন

নেপাল ও বাংলাদেশের জেন-জি রাজনীতির ভিন্নতা: বিবিসির বিশ্লেষণ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৪০:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
  • / 237

ছবি: সংগৃহীত

নেপাল ও বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্মের (জেন-জি) আন্দোলনের প্রেক্ষাপট একই রকম হলেও রাজনৈতিক সাফল্যের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বৈপরীত্য দেখা গেছে। নেপালে গত মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তরুণদের নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) বিপুল জয় পায় এবং সাবেক র‍্যাপার বালেন্দ্র শাহ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এর ফলে দেশটির পার্লামেন্ট এখন অসংখ্য তরুণ মুখ ও নতুন নেতৃত্বে উজ্জ্বল। অন্যদিকে, বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ছাত্র আন্দোলন থেকে গড়ে ওঠা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আশানুরূপ ফল করতে পারেনি এবং প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরেছে।

নেপালের এই সাফল্যের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে তরুণ নেতাদের গভীর সংযোগ এবং একটি সুসংগঠিত দলীয় কাঠামো গড়ে তোলার সক্ষমতাকে চিহ্নিত করেছেন। নেপালের প্রতিষ্ঠিত তিনটি প্রধান দল দীর্ঘ সময় ধরে শাসনক্ষমতায় থেকে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছিল, যার পূর্ণ সুযোগ নিয়েছে মাত্র চার বছর বয়সী দল আরএসপি। এছাড়া বালেন্দ্র শাহর মতো জনপ্রিয় নেতার সাথে জোট করা এবং দেশব্যাপী বিস্তৃত সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক তাদের জয়কে সহজতর করেছে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। বিশ্লেষকদের মতে, আন্দোলন গড়ে তোলা আর নির্বাচনে জয়ী হওয়া দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। বাংলাদেশের তরুণ নেতৃত্বাধীন এনসিপি দেশব্যাপী শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তুলতে পারেনি। এছাড়া বিতর্কিত ও রক্ষণশীল দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট করার সিদ্ধান্তটি তাদের অনেক প্রগতিশীল ও নারী সমর্থককে দূরে ঠেলে দিয়েছিল। একই সঙ্গে বাংলাদেশে আন্দোলন ও নির্বাচনের মধ্যে দীর্ঘ দেড় বছরের ব্যবধান থাকায় বিপ্লবের প্রাথমিক গতি বা ‘মোমেন্টাম’ কিছুটা ঝিমিয়ে পড়েছিল বলে মনে করা হয়। এই সুযোগে বিএনপি ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠিত দলগুলো নিজেদের সংস্কারমুখী হিসেবে উপস্থাপন করে তরুণদের আবেগকে নিজেদের পক্ষে টানতে সক্ষম হয়েছে।

আরও পড়ুন  সর্বোচ্চ সংখ্যক শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ ও সেরার তালিকায় বাংলাদেশ

তবে ফলাফল যা-ই হোক, উভয় দেশের তরুণরাই পরিবর্তনের অঙ্গীকারে অটল। নেপালের নতুন জেন-জি পার্লামেন্ট সদস্যরা তাদের সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের এনসিপি নেতা রাহাত হোসেন জানিয়েছেন, তারা বর্তমানে স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে লড়ছেন এবং প্রয়োজনে আবারও রাজপথে নামার প্রস্তুতি রাখছেন। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের এই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো এটি শাসনব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কারের দাবিকে অনিবার্য করে তুলেছে, যা এখন জাতীয় আলোচনার মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

নেপাল ও বাংলাদেশের জেন-জি রাজনীতির ভিন্নতা: বিবিসির বিশ্লেষণ

আপডেট সময় ০৭:৪০:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

নেপাল ও বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্মের (জেন-জি) আন্দোলনের প্রেক্ষাপট একই রকম হলেও রাজনৈতিক সাফল্যের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বৈপরীত্য দেখা গেছে। নেপালে গত মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তরুণদের নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) বিপুল জয় পায় এবং সাবেক র‍্যাপার বালেন্দ্র শাহ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এর ফলে দেশটির পার্লামেন্ট এখন অসংখ্য তরুণ মুখ ও নতুন নেতৃত্বে উজ্জ্বল। অন্যদিকে, বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ছাত্র আন্দোলন থেকে গড়ে ওঠা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আশানুরূপ ফল করতে পারেনি এবং প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরেছে।

নেপালের এই সাফল্যের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে তরুণ নেতাদের গভীর সংযোগ এবং একটি সুসংগঠিত দলীয় কাঠামো গড়ে তোলার সক্ষমতাকে চিহ্নিত করেছেন। নেপালের প্রতিষ্ঠিত তিনটি প্রধান দল দীর্ঘ সময় ধরে শাসনক্ষমতায় থেকে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছিল, যার পূর্ণ সুযোগ নিয়েছে মাত্র চার বছর বয়সী দল আরএসপি। এছাড়া বালেন্দ্র শাহর মতো জনপ্রিয় নেতার সাথে জোট করা এবং দেশব্যাপী বিস্তৃত সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক তাদের জয়কে সহজতর করেছে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। বিশ্লেষকদের মতে, আন্দোলন গড়ে তোলা আর নির্বাচনে জয়ী হওয়া দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। বাংলাদেশের তরুণ নেতৃত্বাধীন এনসিপি দেশব্যাপী শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তুলতে পারেনি। এছাড়া বিতর্কিত ও রক্ষণশীল দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট করার সিদ্ধান্তটি তাদের অনেক প্রগতিশীল ও নারী সমর্থককে দূরে ঠেলে দিয়েছিল। একই সঙ্গে বাংলাদেশে আন্দোলন ও নির্বাচনের মধ্যে দীর্ঘ দেড় বছরের ব্যবধান থাকায় বিপ্লবের প্রাথমিক গতি বা ‘মোমেন্টাম’ কিছুটা ঝিমিয়ে পড়েছিল বলে মনে করা হয়। এই সুযোগে বিএনপি ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠিত দলগুলো নিজেদের সংস্কারমুখী হিসেবে উপস্থাপন করে তরুণদের আবেগকে নিজেদের পক্ষে টানতে সক্ষম হয়েছে।

আরও পড়ুন  সর্বোচ্চ সংখ্যক শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ ও সেরার তালিকায় বাংলাদেশ

তবে ফলাফল যা-ই হোক, উভয় দেশের তরুণরাই পরিবর্তনের অঙ্গীকারে অটল। নেপালের নতুন জেন-জি পার্লামেন্ট সদস্যরা তাদের সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের এনসিপি নেতা রাহাত হোসেন জানিয়েছেন, তারা বর্তমানে স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে লড়ছেন এবং প্রয়োজনে আবারও রাজপথে নামার প্রস্তুতি রাখছেন। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের এই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো এটি শাসনব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কারের দাবিকে অনিবার্য করে তুলেছে, যা এখন জাতীয় আলোচনার মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।