ঢাকা ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রথমার্ধে গোলশূন্য; রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত আর্জেন্টিনা ‎বিতর্ক এড়াতে ফাইনালে সাত দেশের রেফারি জুলাই সনদ বিতর্কের ইতি টানার উচিত: মির্জা ফখরুলের ‎শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে ৫৮ নিহতের পরিচয় শনাক্ত: চিফ প্রসিকিউটর জিম্বাবুয়েকে ১৪৩ রানে থামাল বাংলাদেশ, লক্ষ্য ১৪৪ রাজনৈতিক পক্ষপাত ছাড়াই দায়িত্ব পালনের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‎গণমাধ্যমের তোষামোদী সংস্কৃতি এখনো রয়ে গেছে— মির্জা ফখরুল ‎সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে টস হেরে বোলিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে দুই পরিবর্তন জুলাই বিপ্লবে বিএনপির ১৭ বছরের আন্দোলন সফল হয়েছে: রিজভী জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পর নতুন দাবি তেহরানের

যাত্রাবাড়ীতে তরুণীর অভিযোগে ধরা পড়ল সিরিয়াল প্রতারক

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:৪২:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
  • / 135

ছবি সংগৃহীত

 

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় এক তরুণীর করা ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে এক দুর্ধর্ষ সিরিয়াল প্রতারক ও যৌন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে একই কৌশলে অন্তত ১০ জন নারীকে ফাঁদে ফেলার তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তারকৃত ওই প্রতারকের নাম রাশেদুল ইসলাম রাব্বি (৩০)।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান।

আরও পড়ুন  গুলিস্তানে ককটেলসহ গ্রেপ্তার ২

পুলিশ জানায়, রাব্বির অপরাধ করার পদ্ধতি ছিল অত্যন্ত সুকৌশলী ও ভিন্নধর্মী:

প্রথমে একজন নারীকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে তার মোবাইল ফোন হাতিয়ে নিতেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ নিতেন। ভুক্তভোগীর আইডি ব্যবহার করে তার বন্ধু তালিকায় থাকা অন্য নারীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতেন এবং আত্মীয় সেজে তাদের বাইরে ডেকে নিতেন। সাধারণত মেট্রো স্টেশন বা সচিবালয় এলাকা থেকে ভুক্তভোগীদের নিয়ে যাত্রাবাড়ীর দনিয়া কলেজ সংলগ্ন দুটি বাসায় যেতেন। বাসায় নিয়ে ভিডিও ধারণ, ধর্ষণ বা পর্নোগ্রাফির ভয় দেখিয়ে স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন হাতিয়ে নিতেন।

ডিসি মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী জানান, গত ৪ মার্চ প্রথম একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) পাওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়। ১৩ এপ্রিল রাব্বিকে গ্রেপ্তারের পর তিনি নিজে ১৩টি ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন। এখন পর্যন্ত ১০ জন ভুক্তভোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে, যাদের অধিকাংশের বয়স ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং তারা মিরপুর এলাকার বাসিন্দা। সামাজিক সম্মানের ভয়ে অনেকে সরাসরি অভিযোগ না করে ‘মোবাইল হারানো’র জিডি করেছিলেন, যা যাচাই করে পুলিশ এই সিরিয়াল অপরাধীকে শনাক্ত করে।

প্রতারক রাব্বি বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। অবাক করা বিষয় হলো, তিনি তার স্ত্রীকেও একইভাবে ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তার কোনো বৈধ পেশা ছিল না; মূলত ব্ল্যাকমেইল ও প্রতারণার মাধ্যমেই তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন।

বর্তমানে রাব্বির বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আরও বেশ কিছু জিডি তদন্তাধীন রয়েছে। তার কাছ থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে, প্রযুক্তিতে দক্ষ এই প্রতারকের আরও সহযোগী থাকতে পারে। এই চক্রের শিকার অন্য কাউকে দপ্তরে যোগাযোগ করে অভিযোগ জানানোর অনুরোধ করেছে ডিএমপি।

নিউজটি শেয়ার করুন

যাত্রাবাড়ীতে তরুণীর অভিযোগে ধরা পড়ল সিরিয়াল প্রতারক

আপডেট সময় ০৬:৪২:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

 

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় এক তরুণীর করা ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে এক দুর্ধর্ষ সিরিয়াল প্রতারক ও যৌন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে একই কৌশলে অন্তত ১০ জন নারীকে ফাঁদে ফেলার তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তারকৃত ওই প্রতারকের নাম রাশেদুল ইসলাম রাব্বি (৩০)।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান।

আরও পড়ুন  কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং লিডার অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার

পুলিশ জানায়, রাব্বির অপরাধ করার পদ্ধতি ছিল অত্যন্ত সুকৌশলী ও ভিন্নধর্মী:

প্রথমে একজন নারীকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে তার মোবাইল ফোন হাতিয়ে নিতেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ নিতেন। ভুক্তভোগীর আইডি ব্যবহার করে তার বন্ধু তালিকায় থাকা অন্য নারীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতেন এবং আত্মীয় সেজে তাদের বাইরে ডেকে নিতেন। সাধারণত মেট্রো স্টেশন বা সচিবালয় এলাকা থেকে ভুক্তভোগীদের নিয়ে যাত্রাবাড়ীর দনিয়া কলেজ সংলগ্ন দুটি বাসায় যেতেন। বাসায় নিয়ে ভিডিও ধারণ, ধর্ষণ বা পর্নোগ্রাফির ভয় দেখিয়ে স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন হাতিয়ে নিতেন।

ডিসি মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী জানান, গত ৪ মার্চ প্রথম একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) পাওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়। ১৩ এপ্রিল রাব্বিকে গ্রেপ্তারের পর তিনি নিজে ১৩টি ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন। এখন পর্যন্ত ১০ জন ভুক্তভোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে, যাদের অধিকাংশের বয়স ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং তারা মিরপুর এলাকার বাসিন্দা। সামাজিক সম্মানের ভয়ে অনেকে সরাসরি অভিযোগ না করে ‘মোবাইল হারানো’র জিডি করেছিলেন, যা যাচাই করে পুলিশ এই সিরিয়াল অপরাধীকে শনাক্ত করে।

প্রতারক রাব্বি বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। অবাক করা বিষয় হলো, তিনি তার স্ত্রীকেও একইভাবে ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তার কোনো বৈধ পেশা ছিল না; মূলত ব্ল্যাকমেইল ও প্রতারণার মাধ্যমেই তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন।

বর্তমানে রাব্বির বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আরও বেশ কিছু জিডি তদন্তাধীন রয়েছে। তার কাছ থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে, প্রযুক্তিতে দক্ষ এই প্রতারকের আরও সহযোগী থাকতে পারে। এই চক্রের শিকার অন্য কাউকে দপ্তরে যোগাযোগ করে অভিযোগ জানানোর অনুরোধ করেছে ডিএমপি।