ঢাকা ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
মেসিকে ছাড়াই দেশে টিম আর্জেন্টিনা, লাল গালিচায় উষ্ণ অভ্যর্থনা সাতক্ষীরায় শিশুর মরদেহ আলমারি থেকে উদ্ধার, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত নারী ইরানে টানা মার্কিন হামলার দশম দিন, পাল্টা হামলা কুয়েতে দাবি ইরানের ১৯ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত ‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শেখ হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত: নয়াদিল্লির আনুষ্ঠানিক বার্তা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:১৬:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • / 121

ছবি সংগৃহীত

 

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আনুষ্ঠানিক আবেদনটি খতিয়ে দেখছে ভারত সরকার।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আসা এই অনুরোধটি বর্তমানে ভারতের অভ্যন্তরীণ আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে।

আরও পড়ুন  পলাতক শেখ হাসিনা উসকানি দিয়ে পরিবেশ উত্তপ্ত করেছে

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে নেওয়ার একটি অনুরোধ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি বর্তমানে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভারত এই ইস্যুটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাবে। তবে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান আইনি মর্যাদা বা অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র জানান, নয়াদিল্লি বর্তমানে বাংলাদেশের প্রতিটি রাজনৈতিক ও সামাজিক ঘটনাপ্রবাহ অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও সুদৃঢ় করার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব পুনর্ব্যক্ত করেছেন। জয়সওয়াল বলেন, “আমরা বাংলাদেশের নতুন প্রশাসনের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করতে এবং দুই দেশের ঐতিহাসিক অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয় যে, দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক কাঠামোর মাধ্যমে সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাবগুলো উভয় পক্ষই খতিয়ে দেখছে। রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট করেন যে, বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে ভারতের অন্যান্য কৌশলগত অংশীদারদের সঙ্গেও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে ভারত আগ্রহী।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ইস্যু এবং সীমান্ত পরিস্থিতিসহ সমসাময়িক বিষয়গুলো নিয়ে শিগগিরই দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। ওই বৈঠকেই এই বিষয়গুলো নিয়ে আরও বিস্তারিত ও সুনির্দিষ্ট আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে ভারত সরকার এই সংবেদনশীল ইস্যুটি নিয়ে আইনি ও কূটনৈতিক—উভয় পথই খোলা রাখছে বলে মনে করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

শেখ হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত: নয়াদিল্লির আনুষ্ঠানিক বার্তা

আপডেট সময় ০৭:১৬:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

 

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আনুষ্ঠানিক আবেদনটি খতিয়ে দেখছে ভারত সরকার।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আসা এই অনুরোধটি বর্তমানে ভারতের অভ্যন্তরীণ আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে।

আরও পড়ুন  শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতের ওপর চাপ বাড়ছে: শফিকুল আলম

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে নেওয়ার একটি অনুরোধ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি বর্তমানে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভারত এই ইস্যুটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাবে। তবে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান আইনি মর্যাদা বা অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র জানান, নয়াদিল্লি বর্তমানে বাংলাদেশের প্রতিটি রাজনৈতিক ও সামাজিক ঘটনাপ্রবাহ অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও সুদৃঢ় করার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব পুনর্ব্যক্ত করেছেন। জয়সওয়াল বলেন, “আমরা বাংলাদেশের নতুন প্রশাসনের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করতে এবং দুই দেশের ঐতিহাসিক অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয় যে, দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক কাঠামোর মাধ্যমে সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাবগুলো উভয় পক্ষই খতিয়ে দেখছে। রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট করেন যে, বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে ভারতের অন্যান্য কৌশলগত অংশীদারদের সঙ্গেও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে ভারত আগ্রহী।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ইস্যু এবং সীমান্ত পরিস্থিতিসহ সমসাময়িক বিষয়গুলো নিয়ে শিগগিরই দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। ওই বৈঠকেই এই বিষয়গুলো নিয়ে আরও বিস্তারিত ও সুনির্দিষ্ট আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে ভারত সরকার এই সংবেদনশীল ইস্যুটি নিয়ে আইনি ও কূটনৈতিক—উভয় পথই খোলা রাখছে বলে মনে করা হচ্ছে।