ঢাকা ০৫:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
মার্কিন সেনাবাহিনীর সচিবের পদত্যাগ দুর্ঘটনার কবল থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেল ভারতীয় বিমান জাপানের বিশেষ দূতের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ রাশিয়ায় পর্বতারোহীদের ওপর ভয়াবহ তুষারধস, নিহত অন্তত ১১ মাঝপদ্মায় ইঞ্জিন বিকল, স্রোতে দেড় কিলোমিটার ভেসে গেল ফেরি প্রধানমন্ত্রী যথাসময়ে ভারত সফর করবেন, নতুন আলোচনার দরকার নেই: দীনেশ ত্রিবেদী বিদ্যুৎ বিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির অভিযোগ, সিফাতের জামিন নামঞ্জুর অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি বন্ধ: ববি হাজ্জাজ ‘মেগা প্রজেক্টের নামে মুখোরোচক কথা শুনেছি’: রিজভী ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন রাষ্ট্রপতি

জাপানের বিশেষ দূতের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:০২:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 20

ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারে ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন বিষয়ক জাপান সরকারের বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাদের মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনার শুরুতে বিশেষ দূত জানান, বিগত পাঁচ দশক ধরে তিনি বিশ্বের নানা প্রান্তে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য দূরীকরণে সম্পৃক্ত রয়েছেন। এ সময় মিয়ানমার সংক্রান্ত জাপানের বিশেষ দূত হিসেবে তার কার্যপরিধি সম্পর্কেও প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন তিনি। রোহিঙ্গা সংকটের কারণে বাংলাদেশের ওপর সৃষ্ট চাপের বিষয়ে নিজের সচেতনতা প্রকাশ করে তিনি রোহিঙ্গাদের প্রতি জাপান সরকারের বিভিন্ন মানবিক ও আর্থিক সহায়তার কথাও উল্লেখ করেন।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ সফরের জন্য সাসাকাওয়াকে কৃতজ্ঞতা জানান এবং দীর্ঘদিনের মানবিক অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি রোহিঙ্গা সংকটকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হিসেবে অভিহিত করে এ বিষয়ে জাপানের ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।

আরও পড়ুন  প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না দলীয় প্রধান

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ইতিমধ্যে ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে দীর্ঘসময় ধরে বিপুল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার ফলে দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত চাপ পড়েছে। তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছাপ্রণোদিত ও সম্মানজনক উপায়ে নিজ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে বিশেষ দূতকে অনুরোধ জানান। পাশাপাশি তিনি বলেন, প্রত্যাবাসন-পরবর্তী পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায়ও সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে।

বিশেষ দূত জানান, রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার কথা হয়েছে এবং সংকট সমাধানে মিয়ানমার সরকারের আন্তরিকতা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তবে রাখাইনের বর্তমান জটিল অবস্থার কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ধীরগতিতে এগোচ্ছে বলেও তিনি স্বীকার করেন।

প্রধানমন্ত্রী পুনরায় জানান, রোহিঙ্গাদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে বাংলাদেশ সর্বাত্মক সহায়তা দিতে ইচ্ছুক এবং প্রত্যাবাসনের পর তাদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ জীবনযাত্রার মান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এর জবাবে বিশেষ দূত রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে নিজের সাধ্যমতো সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

বৈঠকে উভয়পক্ষ একমত হন যে, শুধুমাত্র দ্বিপক্ষীয় প্রচেষ্টায় এই সংকটের টেকসই সমাধান সম্ভব নয়; বরং এ জন্য বহুপাক্ষিক উদ্যোগ ও বিস্তৃত আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

আলোচনার আরেক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে একটি ভ্যাকসিন উৎপাদন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় সহায়তা চান, যার জবাবে বিশেষ দূত এ বিষয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া জাপানি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার একটি অনুকূল বিনিয়োগ পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার আগ্রহও তিনি ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান।

নিউজটি শেয়ার করুন

জাপানের বিশেষ দূতের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

আপডেট সময় ০৫:০২:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মিয়ানমারে ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন বিষয়ক জাপান সরকারের বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাদের মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনার শুরুতে বিশেষ দূত জানান, বিগত পাঁচ দশক ধরে তিনি বিশ্বের নানা প্রান্তে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য দূরীকরণে সম্পৃক্ত রয়েছেন। এ সময় মিয়ানমার সংক্রান্ত জাপানের বিশেষ দূত হিসেবে তার কার্যপরিধি সম্পর্কেও প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন তিনি। রোহিঙ্গা সংকটের কারণে বাংলাদেশের ওপর সৃষ্ট চাপের বিষয়ে নিজের সচেতনতা প্রকাশ করে তিনি রোহিঙ্গাদের প্রতি জাপান সরকারের বিভিন্ন মানবিক ও আর্থিক সহায়তার কথাও উল্লেখ করেন।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ সফরের জন্য সাসাকাওয়াকে কৃতজ্ঞতা জানান এবং দীর্ঘদিনের মানবিক অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি রোহিঙ্গা সংকটকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হিসেবে অভিহিত করে এ বিষয়ে জাপানের ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।

আরও পড়ুন  ডব্লিউইএফ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ইতিমধ্যে ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে দীর্ঘসময় ধরে বিপুল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার ফলে দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত চাপ পড়েছে। তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছাপ্রণোদিত ও সম্মানজনক উপায়ে নিজ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে বিশেষ দূতকে অনুরোধ জানান। পাশাপাশি তিনি বলেন, প্রত্যাবাসন-পরবর্তী পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায়ও সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে।

বিশেষ দূত জানান, রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার কথা হয়েছে এবং সংকট সমাধানে মিয়ানমার সরকারের আন্তরিকতা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তবে রাখাইনের বর্তমান জটিল অবস্থার কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ধীরগতিতে এগোচ্ছে বলেও তিনি স্বীকার করেন।

প্রধানমন্ত্রী পুনরায় জানান, রোহিঙ্গাদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে বাংলাদেশ সর্বাত্মক সহায়তা দিতে ইচ্ছুক এবং প্রত্যাবাসনের পর তাদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ জীবনযাত্রার মান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এর জবাবে বিশেষ দূত রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে নিজের সাধ্যমতো সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

বৈঠকে উভয়পক্ষ একমত হন যে, শুধুমাত্র দ্বিপক্ষীয় প্রচেষ্টায় এই সংকটের টেকসই সমাধান সম্ভব নয়; বরং এ জন্য বহুপাক্ষিক উদ্যোগ ও বিস্তৃত আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

আলোচনার আরেক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে একটি ভ্যাকসিন উৎপাদন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় সহায়তা চান, যার জবাবে বিশেষ দূত এ বিষয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া জাপানি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার একটি অনুকূল বিনিয়োগ পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার আগ্রহও তিনি ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান।