যাত্রীদের নামিয়ে ইসমাইলকে বাসে আটকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩
- আপডেট সময় ০৬:৪৪:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 25
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে ইসমাইল হোসেন (৪৯) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের দুই দিন পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, বাসভাড়া দেওয়ার সময় ইসমাইলের কাছে থাকা টাকার বিষয়টি নজরে পড়ে বাসের সুপারভাইজারের। পরে চালক ও সুপারভাইজার মিলে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন এবং একপর্যায়ে বাসে ইসমাইলকে আটকে রেখে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, বনানী থানা-পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে।
পুলিশ জানায়, বাসভাড়া দেওয়ার সময় লুঙ্গির কোচর থেকে টাকা বের করেন যাত্রী ইসমাইল। তখন তার কাছে আরও টাকা থাকার বিষয়টি বাসের সুপারভাইজার সাজু ওরফে লিমনের নজরে আসে। পরে তিনি বিষয়টি বাসচালক সোহেল রানাকে জানান। এরপর দুজন ইসমাইলের টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন বলে পুলিশের ভাষ্য।
একপর্যায়ে বাসের অন্য যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে ইসমাইলকে বাসের ভেতরে আটকে রাখা হয়। পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে তার মরদেহ ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বনানী অংশে ফেলে রাখা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ঘটনায় বাসচালক সোহেল রানা (৪১), সুপারভাইজার সাজু ওরফে লিমন (২৬) এবং বাসের সহকারী (হেলপার) মো. মনির হোসেনকে (১৯) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি গামছা, রক্তমাখা দুটি আসনের কভার ও একটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বাসটিও জব্দ করেছে পুলিশ।
ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন বলেন, ৪ সেপ্টেম্বর সকাল পৌনে ৯টার দিকে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বনানী অংশে একটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে বনানী থানা-পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।
তিনি বলেন, মরদেহটির মুখ ও দুই হাতে স্কচটেপ প্যাঁচানো ছিল। গলায় কালো দাগও দেখা যায়। সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, তথ্যপ্রযুক্তি ও হাতের আঙুলের ছাপের (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) মাধ্যমে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে ইসমাইলের পরিবারের সদস্যরা থানায় এসে মরদেহের ছবি দেখে তাকে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় ইসমাইলের ছেলে বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে বনানী থানায় মামলা করেন। পরে তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বাসচালক, সুপারভাইজার ও হেলপারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
























