ঢাকা ১১:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :

সংবিধানে ফিরল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:১৪:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • / 23

ছবি সংগৃহীত

 

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে বহুল আলোচিত মামলায় হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান পুনর্বহাল হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ এ রায় দেন। রায় ঘোষণার পর সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোট পুনর্বহালসংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় বহাল রয়েছে।

পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে মোট তিনটি আপিল করা হয়েছিল। এর মধ্যে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ চার ব্যক্তি একটি আপিল করেন। পৃথক আপিল করেন নওগাঁর বাসিন্দা মো. মোফাজ্জল হোসেন। এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারও একটি আপিল দায়ের করেন।

আপিলের শুনানি সোমবার শুরু হয়ে মঙ্গলবার ও বুধবার পর্যন্ত চলে। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন।

বুধবার এক ব্রিফিংয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব পরিবর্তনের প্রভাব দেশের গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অগ্রযাত্রার ওপর পড়েছিল।

তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাস করে। ওই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ সংবিধানের ৫৪টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়। একই সঙ্গে অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান, জাতির পিতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বীকৃতি এবং জাতীয় চার মূলনীতি—জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা—সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরো আইন এবং এর কয়েকটি ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পৃথক দুটি রিট দায়ের করা হয়।

চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট বাতিলসংক্রান্ত সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধনী) আইনের ২০ ও ২১ ধারা বাতিল ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত ৭ক, ৭খ ও ৪৪(২) অনুচ্ছেদকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে বাতিল ঘোষণা করা হয়। আপিল বিভাগের সর্বশেষ রায়ে সেই রায় বহাল থাকল।

নিউজটি শেয়ার করুন

সংবিধানে ফিরল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট

আপডেট সময় ১১:১৪:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

 

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে বহুল আলোচিত মামলায় হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান পুনর্বহাল হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ এ রায় দেন। রায় ঘোষণার পর সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোট পুনর্বহালসংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় বহাল রয়েছে।

পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে মোট তিনটি আপিল করা হয়েছিল। এর মধ্যে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ চার ব্যক্তি একটি আপিল করেন। পৃথক আপিল করেন নওগাঁর বাসিন্দা মো. মোফাজ্জল হোসেন। এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারও একটি আপিল দায়ের করেন।

আপিলের শুনানি সোমবার শুরু হয়ে মঙ্গলবার ও বুধবার পর্যন্ত চলে। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন।

বুধবার এক ব্রিফিংয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব পরিবর্তনের প্রভাব দেশের গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অগ্রযাত্রার ওপর পড়েছিল।

তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাস করে। ওই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ সংবিধানের ৫৪টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়। একই সঙ্গে অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান, জাতির পিতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বীকৃতি এবং জাতীয় চার মূলনীতি—জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা—সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরো আইন এবং এর কয়েকটি ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পৃথক দুটি রিট দায়ের করা হয়।

চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট বাতিলসংক্রান্ত সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধনী) আইনের ২০ ও ২১ ধারা বাতিল ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত ৭ক, ৭খ ও ৪৪(২) অনুচ্ছেদকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে বাতিল ঘোষণা করা হয়। আপিল বিভাগের সর্বশেষ রায়ে সেই রায় বহাল থাকল।