পরকীয়া মামলায় কল রেকর্ড ও হোটেল বিল গ্রহণযোগ্য প্রমাণ: ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট
- আপডেট সময় ০৫:৫৭:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
- / 12
বিবাহবিচ্ছেদসংক্রান্ত মামলায় পরকীয়ার অভিযোগ প্রমাণে ফোনের কল রেকর্ড ও হোটেলের বিল গুরুত্বপূর্ণ এবং গ্রহণযোগ্য প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। আদালত বলেছেন, বিচারিক প্রয়োজনের কারণে এ ধরনের তথ্য তলব করা হলে তা গোপনীয়তার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল নয়।
বুধবার (৮ জুলাই) বিচারপতি মনমোহন ও বিচারপতি কে. বিনোদ চন্দ্রনের সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ দিল্লি হাইকোর্টের আগের রায় বহাল রেখে এ পর্যবেক্ষণ দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালে রাজস্থানের জয়পুরের এক নারী স্বামীর বিরুদ্ধে পরকীয়া ও পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে পারিবারিক আদালতে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন। অভিযোগের সমর্থনে তিনি প্রথমে একটি হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ চাইলেও মামলা দায়েরের আগেই সেটি ডেটাবেস থেকে মুছে যায়।
পরে তিনি স্বামীর কল রেকর্ড, হোটেলের বিল, চেক-ইনের সময় জমা দেওয়া পরিচয়পত্র এবং সংশ্লিষ্ট নথি আদালতে তলবের আবেদন জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে জয়পুরের পারিবারিক আদালত সংশ্লিষ্ট কল রেকর্ড ও হোটেলসংক্রান্ত তথ্য সিলগালা খামে আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
এর বিরুদ্ধে অভিযুক্ত স্বামী দাবি করেন, তার ব্যক্তিগত কল রেকর্ড ও হোটেলসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হলে ভারতীয় সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে স্বীকৃত গোপনীয়তার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হবে। পরে বিষয়টি দিল্লি হাইকোর্ট হয়ে সুপ্রিম কোর্টে গড়ায়।
সুপ্রিম কোর্ট ওই যুক্তি খারিজ করে জানায়, গোপনীয়তার অধিকার কোনো পরম বা নিরঙ্কুশ অধিকার নয়। কোনো মামলার সুষ্ঠু বিচার এবং জীবনসঙ্গীর প্রতারণার অভিযোগ যাচাইয়ের প্রয়োজনে আদালত ডিজিটাল বা তৃতীয় পক্ষের নথি তলবের নির্দেশ দিতে পারেন।
আদালত আরও উল্লেখ করেন, এ ধরনের তথ্য সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। কেবল আদালতের নির্দেশে এবং নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সিলগালা খামে এসব তথ্য আদালতে জমা দেওয়া যাবে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে স্বেচ্ছায় সংঘটিত পরকীয়াকে ফৌজদারি অপরাধের তালিকা থেকে বাদ দেয়। তবে দেওয়ানি আইনের আওতায় বিবাহবিচ্ছেদ ও পারিবারিক বিরোধের মামলায় পরকীয়া এখনো গুরুত্বপূর্ণ আইনি ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।
আইনজীবীদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এ পর্যবেক্ষণের ফলে ভবিষ্যতে বিবাহবিচ্ছেদসংক্রান্ত মামলায় ডিজিটাল ও প্রাতিষ্ঠানিক নথি প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ আরও সুস্পষ্ট হলো।























