ঢাকা ০৮:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

ডিসিদের প্রধানমন্ত্রীর একগুচ্ছ নির্দেশনা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:০০:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬
  • / 93

ছবি সংগৃহীত

 

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আজ রবিবার (৩ মে) অনুষ্ঠিত ‘জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন-২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জন্য একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেছেন। বিশেষ করে বাজার সিন্ডিকেট দমন, জনভোগান্তি নিরসন এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “মজুতদারি বা কারসাজির মাধ্যমে কেউ যেন বাজারে অস্থিতিশীলতা বা কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সেজন্য নিয়মিত বাজার তদারকি জোরদার করতে হবে।” কৃষকরা যেন তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পায় এবং সার-বীজ-সেচ সুবিধা নিশ্চিত হয়, সেদিকেও নজর দিতে ডিসিদের নির্দেশ দেন তিনি।

আরও পড়ুন  নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে বিএনপির ‘নতুন যুদ্ধ’ শুরু: প্রধানমন্ত্রী

জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী এক বলিষ্ঠ বার্তা প্রদান করেন। তিনি বলেন, “শুধুমাত্র পদোন্নতি বা পছন্দের জায়গায় পোস্টিংয়ের জন্য পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপস করা যাবে না। জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদকেই গুরুত্বপূর্ণ মনে করতে হবে এবং দেশের যেকোনো প্রান্তে দায়িত্ব পালনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে।” তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, কোনো পদই কারো জন্য চিরস্থায়ী নয়।

সরকার ঘোষিত বিদ্যুৎ সাশ্রয় নীতি অনুযায়ী সন্ধ্যার মধ্যে মার্কেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া মাদক নিয়ন্ত্রণ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের কথা বলেন। খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম আরও নিয়মিত ও দৃশ্যমান করার তাগিদ দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে গত ১৫ বছরের ভঙ্গুর অর্থনীতি ও অকার্যকর প্রতিষ্ঠানের কথা উল্লেখ করে বলেন, “বর্তমান সরকার ৩০ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। তবে আমরা নির্বাচনী ইশতেহার এবং জনগণের সামনে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতিটি অঙ্গীকার পালনে বদ্ধপরিকর।” তিনি বিচার বিভাগ, দুদক ও নির্বাচন কমিশনসহ সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় কার্যকর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

প্রযুক্তিনির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দেন তারেক রহমান। পরিশেষে তিনি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই মূলমন্ত্র ধারণ করে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে বলেন, “আমাদের মধ্যে মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে আমাদের এক হতে হবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

ডিসিদের প্রধানমন্ত্রীর একগুচ্ছ নির্দেশনা

আপডেট সময় ০৫:০০:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

 

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আজ রবিবার (৩ মে) অনুষ্ঠিত ‘জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন-২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জন্য একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেছেন। বিশেষ করে বাজার সিন্ডিকেট দমন, জনভোগান্তি নিরসন এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “মজুতদারি বা কারসাজির মাধ্যমে কেউ যেন বাজারে অস্থিতিশীলতা বা কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সেজন্য নিয়মিত বাজার তদারকি জোরদার করতে হবে।” কৃষকরা যেন তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পায় এবং সার-বীজ-সেচ সুবিধা নিশ্চিত হয়, সেদিকেও নজর দিতে ডিসিদের নির্দেশ দেন তিনি।

আরও পড়ুন  ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি 

জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী এক বলিষ্ঠ বার্তা প্রদান করেন। তিনি বলেন, “শুধুমাত্র পদোন্নতি বা পছন্দের জায়গায় পোস্টিংয়ের জন্য পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপস করা যাবে না। জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদকেই গুরুত্বপূর্ণ মনে করতে হবে এবং দেশের যেকোনো প্রান্তে দায়িত্ব পালনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে।” তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, কোনো পদই কারো জন্য চিরস্থায়ী নয়।

সরকার ঘোষিত বিদ্যুৎ সাশ্রয় নীতি অনুযায়ী সন্ধ্যার মধ্যে মার্কেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া মাদক নিয়ন্ত্রণ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের কথা বলেন। খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম আরও নিয়মিত ও দৃশ্যমান করার তাগিদ দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে গত ১৫ বছরের ভঙ্গুর অর্থনীতি ও অকার্যকর প্রতিষ্ঠানের কথা উল্লেখ করে বলেন, “বর্তমান সরকার ৩০ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। তবে আমরা নির্বাচনী ইশতেহার এবং জনগণের সামনে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতিটি অঙ্গীকার পালনে বদ্ধপরিকর।” তিনি বিচার বিভাগ, দুদক ও নির্বাচন কমিশনসহ সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় কার্যকর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

প্রযুক্তিনির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দেন তারেক রহমান। পরিশেষে তিনি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই মূলমন্ত্র ধারণ করে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে বলেন, “আমাদের মধ্যে মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে আমাদের এক হতে হবে।”