‘আহার গ্রহণও করা যাবে না’: নির্বাচনে কর্মকর্তাদের কঠোর নিরপেক্ষতার নির্দেশ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার
- আপডেট সময় ০৭:২৯:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 1908
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে জননিরাপত্তা ও জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)। বুধবার বিকেলে রাজশাহী কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র মিলনায়তনে বিভাগীয় প্রশাসন আয়োজিত এক বিশেষ আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই নির্দেশনা দেন।
বক্তব্যকালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কর্মকর্তাদের সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, কোনো ব্যক্তি, দল কিংবা রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে কেউ জড়িত হতে পারবে না। সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বকে নির্বাচনের মূল শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, যারা নীতি বিবর্জিত কাজ করবে কিংবা দায়িত্বে অবহেলা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতিমুক্ত নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখতে তিনি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন যাতে তারা প্রার্থী বা তাদের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে কোনো প্রকার অর্থ বা অন্য কোনো সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ না করেন। এমনকি নির্বাচনের সময় প্রার্থীর পক্ষ থেকে কোনো প্রকার আহার বা খাবার গ্রহণ করা থেকেও পুরোপুরি বিরত থাকতে হবে।
রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের প্রতি উপদেষ্টা নির্দেশনা দেন যাতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রকে স্বচ্ছ ও নির্বাচনের উপযোগী করে প্রস্তুত রাখা হয়। ভোটকেন্দ্রে যাতায়াতের রাস্তা মসৃণ রাখা এবং ব্যালট বাক্সসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম সঠিক সময়ে কেন্দ্রে পৌঁছানোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরও তিনি জোর দেন। সভায় সভাপতির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে একটি বৈষম্যমুক্ত ও সৌহার্দ্যপূর্ণ নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের আহ্বান জানান এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে একটি অবাধ ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দেওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান যে, এবারের নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেকর্ড সংখ্যক প্রায় ৯ লক্ষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে আনসার ও ভিডিপির ৫ লক্ষ ৭৬ হাজার ৩১৪ জন, পুলিশের ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৪৪৩ জন, সেনাবাহিনীর ১ লক্ষ জন এবং বিজিবি’র ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন সদস্য রয়েছেন। এছাড়া র্যাব, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, কোস্ট গার্ড এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও এই বিশাল কর্মযজ্ঞে অংশ নেবেন। নির্বাচনী সহিংসতা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া পরিবেশ অন্যান্য বারের তুলনায় অনেক শান্ত ও সুন্দর রয়েছে।


























