ঢাকা ০১:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের আধিপত্যের লড়াই: কুপিয়ে হত্যা করা হলো ‘এলেক্স ইমনকে’ শান্তি আলোচনা থেকে ইরান কি হার না মানার বার্তা দিতে চায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শক্তি, বৈচিত্র্য আর বিশ্বনেতৃত্বের প্রতীক হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর জামিন মঞ্জুর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শক্তি, বৈচিত্র্য আর বিশ্বনেতৃত্বের প্রতীক হামে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু দুই কলেজ শিক্ষককে পার্সেলে কাফনের কাপড় পাঠিয়ে হুমকি মারা গেছেন কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে ঝালকাঠিতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সাবেক কাউন্সিলর নিহত মীরসরাইয়ে ৬০ কেজি গাঁজাসহ কাভার্ড ভ্যান জব্দ, গ্রেপ্তার ২

চাঁদাবাজির দ্বন্দ্বে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মোসাব্বিরকে হত্যা: ডিবি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৪৩:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 504

ছবি সংগৃহীত

রাজধানীর ব্যস্ততম কারওয়ান বাজার এলাকায় চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মোসাব্বিরকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে একাধিক চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব কাজ করেছে বলে দাবি পুলিশের।
শনিবার সকালে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, কারওয়ান বাজার এলাকায় প্রকাশ্যে ও গোপনে চাঁদা আদায়ের সঙ্গে জড়িত অন্তত ৮ থেকে ৯টি সক্রিয় সিন্ডিকেট রয়েছে। এসব সিন্ডিকেটের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ ও অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধ থেকেই পরিকল্পিতভাবে মোসাব্বিরকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বিদেশে অবস্থানরত আন্ডারওয়ার্ল্ড সন্ত্রাসী দিলীপ ওরফে ‘বিনাশ’-এর নির্দেশনায় এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

আরও পড়ুন  জন এফ কেনেডি হত্যা: প্রকাশ্যে আসছে ট্রাম্প প্রশাসনের ৮০ হাজার পৃষ্ঠার গোপন নথি

ডিবির প্রধান আরও বলেন, ‘চাঁদাবাজদের কোনো স্থায়ী রাজনৈতিক পরিচয় নেই। বড় বাজার এলাকায় দখল ধরে রাখতে তারা প্রয়োজন অনুযায়ী রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়াল নেয়।’
গত ৭ জানুয়ারি কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ের পাশের একটি গলিতে গুলি করে হত্যা করা হয় স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা উত্তর সিটি ইউনিটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোসাব্বিরকে। এ ঘটনায় সরাসরি গুলি চালানোয় জড়িত অন্যতম প্রধান শুটার মো. রহিমকে শুক্রবার নরসিংদীর মাধবদী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।

গ্রেপ্তারের সময় রহিমের কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ১২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এর আগে একই মামলায় আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত পাঁচজন আসামি পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে রহিম ও জিন্নাত নামের দুই ব্যক্তি সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার হওয়া একজন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন, যেখানে ‘দাদা’ নামে পরিচিত বিনাশের নির্দেশের কথা উঠে এসেছে। বিনাশ বর্তমানে বিদেশে থাকলেও তাঁর নাম ব্যবহার করে কারওয়ান বাজারে নিয়মিত চাঁদাবাজি চালানো হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে ডিবির প্রধান সতর্ক করে বলেন, কারওয়ান বাজারে সক্রিয় সব চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে শিগগিরই বিশেষ অভিযান শুরু করা হবে। তিনি আরও জানান, আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে একটি গোষ্ঠী অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে। তবে পুলিশ সতর্ক রয়েছে এবং গত এক মাসে রাজধানী থেকে সর্বোচ্চ ১৩টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

চাঁদাবাজির দ্বন্দ্বে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মোসাব্বিরকে হত্যা: ডিবি

আপডেট সময় ০৩:৪৩:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

রাজধানীর ব্যস্ততম কারওয়ান বাজার এলাকায় চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মোসাব্বিরকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে একাধিক চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব কাজ করেছে বলে দাবি পুলিশের।
শনিবার সকালে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, কারওয়ান বাজার এলাকায় প্রকাশ্যে ও গোপনে চাঁদা আদায়ের সঙ্গে জড়িত অন্তত ৮ থেকে ৯টি সক্রিয় সিন্ডিকেট রয়েছে। এসব সিন্ডিকেটের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ ও অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধ থেকেই পরিকল্পিতভাবে মোসাব্বিরকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বিদেশে অবস্থানরত আন্ডারওয়ার্ল্ড সন্ত্রাসী দিলীপ ওরফে ‘বিনাশ’-এর নির্দেশনায় এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

আরও পড়ুন  নথি ফাঁস: ২০১৯ সালে মার্কিন বাহিনী উত্তর কোরিয়ার বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করে

ডিবির প্রধান আরও বলেন, ‘চাঁদাবাজদের কোনো স্থায়ী রাজনৈতিক পরিচয় নেই। বড় বাজার এলাকায় দখল ধরে রাখতে তারা প্রয়োজন অনুযায়ী রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়াল নেয়।’
গত ৭ জানুয়ারি কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ের পাশের একটি গলিতে গুলি করে হত্যা করা হয় স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা উত্তর সিটি ইউনিটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোসাব্বিরকে। এ ঘটনায় সরাসরি গুলি চালানোয় জড়িত অন্যতম প্রধান শুটার মো. রহিমকে শুক্রবার নরসিংদীর মাধবদী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।

গ্রেপ্তারের সময় রহিমের কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ১২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এর আগে একই মামলায় আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত পাঁচজন আসামি পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে রহিম ও জিন্নাত নামের দুই ব্যক্তি সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার হওয়া একজন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন, যেখানে ‘দাদা’ নামে পরিচিত বিনাশের নির্দেশের কথা উঠে এসেছে। বিনাশ বর্তমানে বিদেশে থাকলেও তাঁর নাম ব্যবহার করে কারওয়ান বাজারে নিয়মিত চাঁদাবাজি চালানো হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে ডিবির প্রধান সতর্ক করে বলেন, কারওয়ান বাজারে সক্রিয় সব চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে শিগগিরই বিশেষ অভিযান শুরু করা হবে। তিনি আরও জানান, আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে একটি গোষ্ঠী অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে। তবে পুলিশ সতর্ক রয়েছে এবং গত এক মাসে রাজধানী থেকে সর্বোচ্চ ১৩টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।