ঢাকা ০৩:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
ছাত্রদলের পুস্তিকা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন করলেন রিজভী সাংবাদিকের লেখায় যেন কারও জীবন, ক্যারিয়ার ও মানসম্মান ক্ষতিগ্রস্ত না হয়: তথ্যমন্ত্রী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি হবে দুই সপ্তাহের মধ্যে: প্রতিমন্ত্রী অমিত জন্মের ১০০ বছরে উত্তম কুমার, দুই বাংলার দর্শকের ভালোবাসায় অমর মহানায়ক বিশ্ব ইজতেমা দুই পর্বে হবে, তারিখ ঘোষণা ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সন্ধ্যার মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ো হাওয়া, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনকে আত্মসমর্পণে বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ তাবলিগ জামাতের মাওলানা এহসানুল হক আর নেই বৃষ্টির ফোঁটা থেকেই বিদ্যুৎ! নতুন সম্ভাবনা দেখছেন গবেষকরা

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় সীমানা বিরোধে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১৫

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:৪২:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ এপ্রিল ২০২৫
  • / 600

ছবি সংগৃহীত

 

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় পূর্বশত্রুতাকে কেন্দ্র করে বাড়ির সীমানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (২০ এপ্রিল) রাতে নওপাড়া ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৪-১৫ জন আহত হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকজনকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাহিদ হাসান রিয়াদের ভাগনে অনন্ত (১৫) ও ইয়াসিন মিয়া তুষারের চাচাতো ভাই সোহান (১৫)-এর মধ্যে পূর্ব থেকেই শত্রুতা চলে আসছিল। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হলে তা দ্রুত উত্তপ্ত রূপ নেয় এবং তা দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

আরও পড়ুন  বাস-অ্যাম্বুলেন্স সংঘর্ষে নিহত ৫ জনের ৪ জনই একই পরিবারের

সোহানের চাচা আবুল কাশেম অভিযোগ করে বলেন, “প্রতিপক্ষের লোকজন আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে। আমার পুরনো রাখা ৪০ মণ ধান ও প্রায় ৫ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। এমনকি বাড়ির সীমানায় থাকা গাছগুলো পর্যন্ত কেটে নিয়েছে তারা।”

তিনি আরও জানান, তাদের পক্ষের ৬-৭ জন গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন। সোহানের বাবা আবুল কালাম বলেন, “আমরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ঘর থেকে বের হতেও ভয় পাচ্ছি। আমার ছেলে সোহান এবার এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে, তাকে নিয়েও আমরা গভীর উদ্বিগ্ন।”

অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষের কিরণ বলেন, “আমরা হামলা বা লুটপাটের সঙ্গে জড়িত নই। আমাদের ঘরেই বরং হামলা হয়েছে। আমাদের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে, বিআরএস এবং আরওআর-এর মাধ্যমে প্রমাণ করা সম্ভব। তারা দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নানা উগ্র কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।”

তিনি দাবি করেন, “আমাদের পক্ষেরও ৭-৮ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।”

এ বিষয়ে নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সারোয়ার জাহান কাওছার জানান, “উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং প্রশাসনের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।”

এদিকে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।”

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে পুলিশি তৎপরতায় বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

নিউজটি শেয়ার করুন

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় সীমানা বিরোধে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১৫

আপডেট সময় ০৬:৪২:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ এপ্রিল ২০২৫

 

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় পূর্বশত্রুতাকে কেন্দ্র করে বাড়ির সীমানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (২০ এপ্রিল) রাতে নওপাড়া ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৪-১৫ জন আহত হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকজনকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাহিদ হাসান রিয়াদের ভাগনে অনন্ত (১৫) ও ইয়াসিন মিয়া তুষারের চাচাতো ভাই সোহান (১৫)-এর মধ্যে পূর্ব থেকেই শত্রুতা চলে আসছিল। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হলে তা দ্রুত উত্তপ্ত রূপ নেয় এবং তা দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

আরও পড়ুন  নরসিংদীতে মোটরসাইকেল-ইজিবাইক সাইড নিয়ে সংঘর্ষ, নিহত ১ আহত ২০

সোহানের চাচা আবুল কাশেম অভিযোগ করে বলেন, “প্রতিপক্ষের লোকজন আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে। আমার পুরনো রাখা ৪০ মণ ধান ও প্রায় ৫ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। এমনকি বাড়ির সীমানায় থাকা গাছগুলো পর্যন্ত কেটে নিয়েছে তারা।”

তিনি আরও জানান, তাদের পক্ষের ৬-৭ জন গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন। সোহানের বাবা আবুল কালাম বলেন, “আমরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ঘর থেকে বের হতেও ভয় পাচ্ছি। আমার ছেলে সোহান এবার এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে, তাকে নিয়েও আমরা গভীর উদ্বিগ্ন।”

অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষের কিরণ বলেন, “আমরা হামলা বা লুটপাটের সঙ্গে জড়িত নই। আমাদের ঘরেই বরং হামলা হয়েছে। আমাদের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে, বিআরএস এবং আরওআর-এর মাধ্যমে প্রমাণ করা সম্ভব। তারা দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নানা উগ্র কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।”

তিনি দাবি করেন, “আমাদের পক্ষেরও ৭-৮ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।”

এ বিষয়ে নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সারোয়ার জাহান কাওছার জানান, “উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং প্রশাসনের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।”

এদিকে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।”

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে পুলিশি তৎপরতায় বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।