ঢাকা ০৭:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

সুপার এআই দখলের লড়াইয়ে চীনের প্রযুক্তি জায়ান্টরা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:১০:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 2170

ছবি: সংগৃহীত

 

চীনা নববর্ষ সাধারণত ছুটি ও উৎসবের সময় হলেও, এবার এই সময়টিকেই কৌশলগতভাবে কাজে লাগাচ্ছে চীনের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। লক্ষ্য একটাই—কে আগে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ এআই সহকারী হয়ে উঠতে পারে।

টেনসেন্ট, আলিবাবা, বাইটড্যান্স ও বাইতুর মতো প্রযুক্তি জায়ান্টদের ধারণা, ২০২৬ সালই হবে সেই সন্ধিক্ষণ, যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর ভবিষ্যতের প্রযুক্তি হিসেবে নয়, বরং নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় টুল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে।

আরও পড়ুন  মার্কিন–চীন প্রযুক্তি যুদ্ধ: সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত ইউরোপ

এই প্রতিযোগিতায় প্রথম বড় ঘোষণা দিয়েছে টেনসেন্ট। প্রতিষ্ঠানটি ১ বিলিয়ন ইউয়ানের একটি উপহার কর্মসূচি চালু করেছে। এআই-চালিত ‘ইউয়ানবাও’ অ্যাপ ব্যবহার করে গ্রাহকেরা সর্বোচ্চ ১০ হাজার ইউয়ান পর্যন্ত পুরস্কার পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এর প্রভাবেই অল্প সময়ের মধ্যে অ্যাপটি অ্যাপলের চীনা অ্যাপ স্টোরের শীর্ষ তালিকায় উঠে এসেছে।

আলিবাবাও পিছিয়ে নেই। তাদের এআই প্ল্যাটফর্ম ‘ছিয়ানওয়েন’ ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করেছে ৩ বিলিয়ন ইউয়ানের উৎসবভিত্তিক প্রচারণা। এই কর্মসূচির আওতায় অনলাইন কেনাকাটা, খাবার অর্ডার, ভ্রমণ ও বিনোদনে দেওয়া হচ্ছে ভর্তুকি। সব কার্যক্রমই পরিচালিত হচ্ছে এআই-চালিত শপিং ইকোসিস্টেমের ভেতর দিয়ে। পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের যুক্ত করা হচ্ছে আলিবাবার হেলথকেয়ার এআই অ্যাপ ‘অ্যান্ট আফু’-এর সঙ্গে।

অন্যদিকে বাইটড্যান্স ও বাইতু চীনা নববর্ষের জনপ্রিয় টেলিভিশন গালার সঙ্গে এআই-ভিত্তিক প্রচারণা যুক্ত করেছে। বিনোদনের মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতের এআই ব্যবহারের সম্ভাবনা তুলে ধরাই তাদের মূল লক্ষ্য।

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতিযোগিতার লক্ষ্য শুধু নতুন ব্যবহারকারী বাড়ানো নয়। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই এমন একটি এআই প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে চাইছে, যা হবে ব্যবহারকারীর সব ধরনের ডিজিটাল কাজের কেন্দ্রবিন্দু।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে স্মার্টফোনের ভেতরের এআই এজেন্ট আলাদা করে অ্যাপ খোলার প্রয়োজন অনেকটাই কমিয়ে দেবে। ব্যবহারকারীর একটি নির্দেশেই এআই নিজে থেকে সিনেমার টিকিট বুক করা, পেমেন্ট সম্পন্ন করা কিংবা দৈনন্দিন পরিকল্পনা সামলানোর কাজ করতে পারবে।

তবে সবার জন্য এক ধরনের এআই সমাধান কার্যকর হবে না—এমনটাই মনে করেন টেনসেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পনি মা। তাঁর মতে, ব্যক্তিগত চাহিদা ও তথ্যের গোপনীয়তা বিবেচনায় রেখে তৈরি ইকোসিস্টেমই ভবিষ্যতের মূল চাবিকাঠি।

এ কারণেই চীনের প্রযুক্তি জায়ান্টরা এআইকে ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়োগ করছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, অনলাইন কেনাকাটা, লাইভ কমার্সে ডিজিটাল অ্যাভাটার ব্যবহারের মতো নতুন নতুন ক্ষেত্র এতে যুক্ত হচ্ছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, সুপার এআই নিয়ে চীনের এই প্রতিযোগিতা শুধু প্রযুক্তি বাজার নয়, বরং আগামী দিনের ডিজিটাল জীবনের দিকনির্দেশনাও ঠিক করে দিচ্ছে।

সূত্র: সিএমজি

নিউজটি শেয়ার করুন

সুপার এআই দখলের লড়াইয়ে চীনের প্রযুক্তি জায়ান্টরা

আপডেট সময় ১১:১০:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

চীনা নববর্ষ সাধারণত ছুটি ও উৎসবের সময় হলেও, এবার এই সময়টিকেই কৌশলগতভাবে কাজে লাগাচ্ছে চীনের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। লক্ষ্য একটাই—কে আগে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ এআই সহকারী হয়ে উঠতে পারে।

টেনসেন্ট, আলিবাবা, বাইটড্যান্স ও বাইতুর মতো প্রযুক্তি জায়ান্টদের ধারণা, ২০২৬ সালই হবে সেই সন্ধিক্ষণ, যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর ভবিষ্যতের প্রযুক্তি হিসেবে নয়, বরং নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় টুল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে।

আরও পড়ুন  প্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনশক্তি ও উদ্যোক্তা গড়ে তুললেই জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি সম্ভব : আইসিটি সচিব

এই প্রতিযোগিতায় প্রথম বড় ঘোষণা দিয়েছে টেনসেন্ট। প্রতিষ্ঠানটি ১ বিলিয়ন ইউয়ানের একটি উপহার কর্মসূচি চালু করেছে। এআই-চালিত ‘ইউয়ানবাও’ অ্যাপ ব্যবহার করে গ্রাহকেরা সর্বোচ্চ ১০ হাজার ইউয়ান পর্যন্ত পুরস্কার পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এর প্রভাবেই অল্প সময়ের মধ্যে অ্যাপটি অ্যাপলের চীনা অ্যাপ স্টোরের শীর্ষ তালিকায় উঠে এসেছে।

আলিবাবাও পিছিয়ে নেই। তাদের এআই প্ল্যাটফর্ম ‘ছিয়ানওয়েন’ ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করেছে ৩ বিলিয়ন ইউয়ানের উৎসবভিত্তিক প্রচারণা। এই কর্মসূচির আওতায় অনলাইন কেনাকাটা, খাবার অর্ডার, ভ্রমণ ও বিনোদনে দেওয়া হচ্ছে ভর্তুকি। সব কার্যক্রমই পরিচালিত হচ্ছে এআই-চালিত শপিং ইকোসিস্টেমের ভেতর দিয়ে। পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের যুক্ত করা হচ্ছে আলিবাবার হেলথকেয়ার এআই অ্যাপ ‘অ্যান্ট আফু’-এর সঙ্গে।

অন্যদিকে বাইটড্যান্স ও বাইতু চীনা নববর্ষের জনপ্রিয় টেলিভিশন গালার সঙ্গে এআই-ভিত্তিক প্রচারণা যুক্ত করেছে। বিনোদনের মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতের এআই ব্যবহারের সম্ভাবনা তুলে ধরাই তাদের মূল লক্ষ্য।

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতিযোগিতার লক্ষ্য শুধু নতুন ব্যবহারকারী বাড়ানো নয়। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই এমন একটি এআই প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে চাইছে, যা হবে ব্যবহারকারীর সব ধরনের ডিজিটাল কাজের কেন্দ্রবিন্দু।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে স্মার্টফোনের ভেতরের এআই এজেন্ট আলাদা করে অ্যাপ খোলার প্রয়োজন অনেকটাই কমিয়ে দেবে। ব্যবহারকারীর একটি নির্দেশেই এআই নিজে থেকে সিনেমার টিকিট বুক করা, পেমেন্ট সম্পন্ন করা কিংবা দৈনন্দিন পরিকল্পনা সামলানোর কাজ করতে পারবে।

তবে সবার জন্য এক ধরনের এআই সমাধান কার্যকর হবে না—এমনটাই মনে করেন টেনসেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পনি মা। তাঁর মতে, ব্যক্তিগত চাহিদা ও তথ্যের গোপনীয়তা বিবেচনায় রেখে তৈরি ইকোসিস্টেমই ভবিষ্যতের মূল চাবিকাঠি।

এ কারণেই চীনের প্রযুক্তি জায়ান্টরা এআইকে ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়োগ করছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, অনলাইন কেনাকাটা, লাইভ কমার্সে ডিজিটাল অ্যাভাটার ব্যবহারের মতো নতুন নতুন ক্ষেত্র এতে যুক্ত হচ্ছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, সুপার এআই নিয়ে চীনের এই প্রতিযোগিতা শুধু প্রযুক্তি বাজার নয়, বরং আগামী দিনের ডিজিটাল জীবনের দিকনির্দেশনাও ঠিক করে দিচ্ছে।

সূত্র: সিএমজি