ঢাকা ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
টকশো ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিভ্রান্তি থেকে সতর্ক থাকতে হবে: মির্জা ফখরুল রুশ তেল আমদানিতে ৬০ দিনের ‘বিশেষ ছাড়’ পেল বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ৮ আরোহীর সবার মৃত্যু শেখ হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত: নয়াদিল্লির আনুষ্ঠানিক বার্তা অস্ট্রিয়া—সংগীত, ইতিহাস ও পাহাড়ের দেশ চাঁদ জয়ের রেকর্ড গড়া নভোচারীদের, রাজকীয় সংবর্ধনা সিনেমার বাইরে বাস্তব নাটক—রোহিত শেঠির বাড়িতে গুলির ঘটনায় গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ায় অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা ‘ক্লান্ত’ মির্জা ফখরুল কি তবে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? গুঞ্জন ও আগামীর সমীকরণ খাবার শেষে পানি পান: উপকার নাকি ক্ষতি—চিকিৎসকরা কী বলছেন

ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার পক্ষে ট্রাম্প দূতের মন্তব্য, ব্রিটিশ উদ্যোগকে ‘রাজনৈতিক স্ট্যান্ট’ বললেন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৩৪:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ মার্চ ২০২৫
  • / 211

ছবি সংগৃহীত

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশংসা করেছেন এবং ইউক্রেন ইস্যুতে পশ্চিমা বিশ্বের কৌশলগত অবস্থানকে সরাসরি আক্রমণ করেছেন। প্রভাবশালী সাংবাদিক টাকার কার্লসনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি পুতিনকে খারাপ মানুষ মনে করি না। বরং তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমান, সোজাসাপ্টা এবং দয়ালু।”

ইউক্রেনের জন্য একটি আন্তর্জাতিক সামরিক জোট গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। কিন্তু এই উদ্যোগকে উইটকফ এক কথায় ‘লোক-দেখানো’ বলে উড়িয়ে দেন। তার মতে, স্টারমার এবং ইউরোপীয় নেতারা আজ উইনস্টন চার্চিলের ভূমিকায় অভিনয় করার চেষ্টা করছেন, যা বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে।

আরও পড়ুন  শান্তি আলোচনায় প্রস্তুত ইউক্রেন, শর্ত একটাই - পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি: জেলেনস্কি

উইটকফ বলেন, “রাশিয়া ইউরোপ আক্রমণ করতে যাচ্ছে এ ধারণা সরলীকৃত এবং বিভ্রান্তিকর। ন্যাটো এখন এক শক্তিশালী জোট, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ছিল না।”

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “ডনবাস, লুহানস্ক, দোনেৎস্ক, জাপোরিঝিয়া, খেরসন ও ক্রিমিয়া এই পাঁচটি অঞ্চল ইতিমধ্যে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে। রুশদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী এগুলো এখন রাশিয়ার অংশ। মূল প্রশ্ন হলো বিশ্ব এই বাস্তবতাকে স্বীকৃতি দেবে কি না।”

উইটকফ আরও বলেন, “রাশিয়ার মতে, ইউক্রেন একটি কৃত্রিম রাষ্ট্র, বিভিন্ন অঞ্চল জোড়া দিয়ে গঠিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই রাশিয়া এই অঞ্চলগুলো নিজের বলে দাবি করে আসছে, কিন্তু আন্তর্জাতিক মহল তা অগ্রাহ্য করছে।”

পুতিন দাবি করেছেন, ন্যাটোর সম্প্রসারণ এবং স্বাধীন ইউক্রেনের অস্তিত্বই রাশিয়ার আগ্রাসনের মূল কারণ। উইটকফের মতে, “রাশিয়া যা চেয়েছিল, তা তারা পেয়ে গেছে। এখন ইউক্রেন দখলের আর কোনো প্রয়োজন নেই।”

বিশ্লেষকদের মতে, উইটকফের এই বক্তব্য শুধু যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিকেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাশিয়ার অবস্থানকে ঘিরেও নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার পক্ষে ট্রাম্প দূতের মন্তব্য, ব্রিটিশ উদ্যোগকে ‘রাজনৈতিক স্ট্যান্ট’ বললেন

আপডেট সময় ১০:৩৪:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ মার্চ ২০২৫

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশংসা করেছেন এবং ইউক্রেন ইস্যুতে পশ্চিমা বিশ্বের কৌশলগত অবস্থানকে সরাসরি আক্রমণ করেছেন। প্রভাবশালী সাংবাদিক টাকার কার্লসনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি পুতিনকে খারাপ মানুষ মনে করি না। বরং তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমান, সোজাসাপ্টা এবং দয়ালু।”

ইউক্রেনের জন্য একটি আন্তর্জাতিক সামরিক জোট গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। কিন্তু এই উদ্যোগকে উইটকফ এক কথায় ‘লোক-দেখানো’ বলে উড়িয়ে দেন। তার মতে, স্টারমার এবং ইউরোপীয় নেতারা আজ উইনস্টন চার্চিলের ভূমিকায় অভিনয় করার চেষ্টা করছেন, যা বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে।

আরও পড়ুন  ট্রাম্পের নীতিতে পরিবর্তন: ইউক্রেনকে নিরাপত্তা দিবে না যুক্তরাষ্ট্র

উইটকফ বলেন, “রাশিয়া ইউরোপ আক্রমণ করতে যাচ্ছে এ ধারণা সরলীকৃত এবং বিভ্রান্তিকর। ন্যাটো এখন এক শক্তিশালী জোট, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ছিল না।”

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “ডনবাস, লুহানস্ক, দোনেৎস্ক, জাপোরিঝিয়া, খেরসন ও ক্রিমিয়া এই পাঁচটি অঞ্চল ইতিমধ্যে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে। রুশদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী এগুলো এখন রাশিয়ার অংশ। মূল প্রশ্ন হলো বিশ্ব এই বাস্তবতাকে স্বীকৃতি দেবে কি না।”

উইটকফ আরও বলেন, “রাশিয়ার মতে, ইউক্রেন একটি কৃত্রিম রাষ্ট্র, বিভিন্ন অঞ্চল জোড়া দিয়ে গঠিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই রাশিয়া এই অঞ্চলগুলো নিজের বলে দাবি করে আসছে, কিন্তু আন্তর্জাতিক মহল তা অগ্রাহ্য করছে।”

পুতিন দাবি করেছেন, ন্যাটোর সম্প্রসারণ এবং স্বাধীন ইউক্রেনের অস্তিত্বই রাশিয়ার আগ্রাসনের মূল কারণ। উইটকফের মতে, “রাশিয়া যা চেয়েছিল, তা তারা পেয়ে গেছে। এখন ইউক্রেন দখলের আর কোনো প্রয়োজন নেই।”

বিশ্লেষকদের মতে, উইটকফের এই বক্তব্য শুধু যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিকেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাশিয়ার অবস্থানকে ঘিরেও নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।