ঢাকা ০৪:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
ছাত্রদলের পুস্তিকা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন করলেন রিজভী সাংবাদিকের লেখায় যেন কারও জীবন, ক্যারিয়ার ও মানসম্মান ক্ষতিগ্রস্ত না হয়: তথ্যমন্ত্রী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি হবে দুই সপ্তাহের মধ্যে: প্রতিমন্ত্রী অমিত জন্মের ১০০ বছরে উত্তম কুমার, দুই বাংলার দর্শকের ভালোবাসায় অমর মহানায়ক বিশ্ব ইজতেমা দুই পর্বে হবে, তারিখ ঘোষণা ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সন্ধ্যার মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ো হাওয়া, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনকে আত্মসমর্পণে বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ তাবলিগ জামাতের মাওলানা এহসানুল হক আর নেই বৃষ্টির ফোঁটা থেকেই বিদ্যুৎ! নতুন সম্ভাবনা দেখছেন গবেষকরা

রাশিয়াবিরোধী প্রস্তাবে ভোট দিয়ে ভুল! ক্ষমা চাইলেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:০২:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • / 432

ছবি: সংগৃহীত

 

জাতিসংঘে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আনা এক প্রস্তাবে সমর্থন দিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার ভুচিচ। দেশটির ঐতিহ্যগত রুশপ্রীতির বিপরীতে গিয়ে এই ভোট দেওয়াকে ‘ভুল’ স্বীকার করে জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অনুষ্ঠিত ওই ভোটে সার্বিয়া ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছিল, যা কার্যত রাশিয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার শামিল। কিন্তু এরপরই দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রুশপন্থী জনগণের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে প্রেসিডেন্ট ভুচিচ বলেন, ‘আমি মনে করি, সার্বিয়া ভুল করেছে। আমি জনগণের কাছে ক্ষমা চাই। আমিও ভুল করেছি।’

আরও পড়ুন  গাজায় মানবিক বিপর্যয়, পুনর্গঠন ও সাহায্য প্রয়োজন ৫৩০০ কোটি ডলার: জাতিসংঘ

তবে সার্বিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেক্সান্ডার ভুলিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আমি এটিকে ভুল বলে মনে করি না। কারণ, একজন প্রকৃত সার্ব কখনো রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার আগে দুইবার ভাববে।’ তার এই বক্তব্য দেশটির রাজনৈতিক বিভক্তির ইঙ্গিত বহন করে।

বিশ্লেষকদের মতে, সার্বিয়ার দীর্ঘদিনের রুশ ঘনিষ্ঠতার পেছনে ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক কারণ রয়েছে। সোভিয়েত যুগে সার্বিয়া ছিল কমিউনিজমের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি এবং যুগোস্লাভিয়ার অংশ হিসেবে মস্কোর সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ছিল ঘনিষ্ঠ। যদিও বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে সার্বিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে, তবুও রাশিয়ার সঙ্গে তাদের ঐতিহাসিক মৈত্রী সহজে ভাঙার নয়।

জাতিসংঘে সার্বিয়ার এই অবস্থান দেশটির ভবিষ্যৎ কূটনীতির দিক কোন পথে যাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। একদিকে পশ্চিমা জোটের চাপ, অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতি ঐতিহ্যগত আনুগত্য—এই দুই অবস্থানের মাঝখানে পড়ে প্রেসিডেন্ট ভুচিচ এখন কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি।

নিউজটি শেয়ার করুন

রাশিয়াবিরোধী প্রস্তাবে ভোট দিয়ে ভুল! ক্ষমা চাইলেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট

আপডেট সময় ০৫:০২:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

 

জাতিসংঘে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আনা এক প্রস্তাবে সমর্থন দিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার ভুচিচ। দেশটির ঐতিহ্যগত রুশপ্রীতির বিপরীতে গিয়ে এই ভোট দেওয়াকে ‘ভুল’ স্বীকার করে জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অনুষ্ঠিত ওই ভোটে সার্বিয়া ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছিল, যা কার্যত রাশিয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার শামিল। কিন্তু এরপরই দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রুশপন্থী জনগণের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে প্রেসিডেন্ট ভুচিচ বলেন, ‘আমি মনে করি, সার্বিয়া ভুল করেছে। আমি জনগণের কাছে ক্ষমা চাই। আমিও ভুল করেছি।’

আরও পড়ুন  জাতিসংঘে পাশ্চাত্যের দ্বিচারিতার সমালোচনা করলেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী সানচেজ

তবে সার্বিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেক্সান্ডার ভুলিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আমি এটিকে ভুল বলে মনে করি না। কারণ, একজন প্রকৃত সার্ব কখনো রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার আগে দুইবার ভাববে।’ তার এই বক্তব্য দেশটির রাজনৈতিক বিভক্তির ইঙ্গিত বহন করে।

বিশ্লেষকদের মতে, সার্বিয়ার দীর্ঘদিনের রুশ ঘনিষ্ঠতার পেছনে ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক কারণ রয়েছে। সোভিয়েত যুগে সার্বিয়া ছিল কমিউনিজমের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি এবং যুগোস্লাভিয়ার অংশ হিসেবে মস্কোর সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ছিল ঘনিষ্ঠ। যদিও বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে সার্বিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে, তবুও রাশিয়ার সঙ্গে তাদের ঐতিহাসিক মৈত্রী সহজে ভাঙার নয়।

জাতিসংঘে সার্বিয়ার এই অবস্থান দেশটির ভবিষ্যৎ কূটনীতির দিক কোন পথে যাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। একদিকে পশ্চিমা জোটের চাপ, অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতি ঐতিহ্যগত আনুগত্য—এই দুই অবস্থানের মাঝখানে পড়ে প্রেসিডেন্ট ভুচিচ এখন কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি।