ঢাকা ১২:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের সঙ্গে চুক্তির হলে স্বাক্ষরের জন্য ইসলামাবাদ যেতে পারেন ট্রাম্প

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৪১:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • / 17

ছবি সংগৃহীত

 

মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা নিরসনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা বা চুক্তির সম্ভাবনা জোরালো হয়ে উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে পাকিস্তান সফরে যেতে পারেন। গতকাল বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই ইঙ্গিত দেন। মূলত ইসলামাবাদকে ভেন্যু হিসেবে ব্যবহার করে দুই বৈরী দেশের মধ্যে বরফ গলার এক নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

সংবাদ সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, লাস ভেগাস সফরের উদ্দেশ্যে হোয়াইট হাউস ত্যাগ করার সময় ট্রাম্প গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন। সেখানে তিনি ইরান সংকটের সমাধানের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমরা ইরানের সঙ্গে একটি অর্থবহ চুক্তির অত্যন্ত কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।” এ সময় সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন যে, এই চুক্তির আনুষ্ঠানিকতার জন্য তিনি পাকিস্তানে যাবেন কি না। জবাবে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, আমি যেতে পারি। যদি ইসলামাবাদে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়, তবে আমি সেখানে যাওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করছি না।”

আরও পড়ুন  ভেস্তে গেল ইসলামাবাদ শান্তি আলোচনা, চুক্তি ছাড়াই ফিরছে মার্কিন প্রতিনিধি দল

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, গত সপ্তাহান্তেই পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা এক গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী প্রতিনিধি দল ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করেন। যদিও প্রাথমিক সেই বৈঠক থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বড় অগ্রগতির খবর পাওয়া যায়নি এবং ভ্যান্স ওয়াশিংটনে ফিরে আসেন, তবে আলোচনার সুতো ছিঁড়ে যায়নি বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দ্বিতীয় দফার আলোচনার প্রস্তুতি ও দিনক্ষণ নিয়ে বর্তমানে কাজ চলছে। এই আলোচনা পুনরায় পাকিস্তানেই আয়োজিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই নমনীয় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে লেবানন ও ইসরায়েল সীমান্তে চলা সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সম্ভাব্য চুক্তিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।

লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্প্রতি ঘোষিত ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি এবং ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর প্রতি ট্রাম্পের শান্তি বজায় রাখার আহ্বানও এই সামগ্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করছে যে, ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণায় ইসরায়েলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে, তবে ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরাতে এখন তেহরানের সঙ্গে চুক্তিতেই বেশি মনোযোগী।

পাকিস্তানের কূটনৈতিক অঙ্গনে ট্রাম্পের এই সম্ভাব্য সফর নিয়ে ইতিবাচক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান সরকার শুরু থেকেই দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনের আগ্রহ প্রকাশ করে আসছিল। ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল যে, একটি নিরপেক্ষ ও সহযোগিতামূলক পরিবেশে দুই দেশের প্রতিনিধিরা যেন আলোচনার টেবিলে বসেন। ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্য পাকিস্তানের সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে ইরানের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক সংকেত পাওয়ার দাবি করেছে মার্কিন প্রশাসন। ট্রাম্পের দাবি, ইরান নিজেই এখন চুক্তি সম্পন্ন করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। এর আগে ট্রাম্প ইরানকে কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধ এবং ‘নৌ-অবরোধের’ হুমকি দিলেও, বর্তমানে তার সুর অনেকটাই নমনীয়। তিনি উল্লেখ করেছেন, চুক্তি হোক বা না হোক, যুক্তরাষ্ট্র তার শক্তিমত্তার প্রমাণ দিয়েছে; তবে বিশ্ব শান্তির স্বার্থে একটি চুক্তি হওয়া সবার জন্যই মঙ্গলজনক।

তবে এই শান্তি প্রক্রিয়ার পথ যে খুব মসৃণ, তা বলা যাচ্ছে না। কারণ মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা এখনও বিদ্যমান। লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়েও এখনও দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করে, যা নিয়ে জেডি ভ্যান্স ইসলামাবাদে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন।

অন্যদিকে, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি বেশ স্পর্শকাতর। ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এর আগে জানিয়েছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনা সফল করতে হলে তাদের ‘কর্তৃত্ববাদী’ মনোভাব ছাড়তে হবে। তাসত্ত্বেও, ট্রাম্পের পাকিস্তান সফরের আগ্রহ এটাই প্রমাণ করে যে, পর্দার আড়ালে বড় কোনো সমঝোতার খসড়া প্রায় প্রস্তুত হয়ে আছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসলামাবাদে গিয়ে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে সই করেন, তবে তা হবে বর্তমান দশকের অন্যতম সেরা কূটনৈতিক ঘটনা। এটি শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বৈরিতাই কমাবে না, বরং পুরো এশিয়ায় পাকিস্তানের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে হোয়াইট হাউস এবং তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইরানের সঙ্গে চুক্তির হলে স্বাক্ষরের জন্য ইসলামাবাদ যেতে পারেন ট্রাম্প

আপডেট সময় ১০:৪১:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

 

মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা নিরসনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা বা চুক্তির সম্ভাবনা জোরালো হয়ে উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে পাকিস্তান সফরে যেতে পারেন। গতকাল বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই ইঙ্গিত দেন। মূলত ইসলামাবাদকে ভেন্যু হিসেবে ব্যবহার করে দুই বৈরী দেশের মধ্যে বরফ গলার এক নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

সংবাদ সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, লাস ভেগাস সফরের উদ্দেশ্যে হোয়াইট হাউস ত্যাগ করার সময় ট্রাম্প গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন। সেখানে তিনি ইরান সংকটের সমাধানের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমরা ইরানের সঙ্গে একটি অর্থবহ চুক্তির অত্যন্ত কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।” এ সময় সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন যে, এই চুক্তির আনুষ্ঠানিকতার জন্য তিনি পাকিস্তানে যাবেন কি না। জবাবে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, আমি যেতে পারি। যদি ইসলামাবাদে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়, তবে আমি সেখানে যাওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করছি না।”

আরও পড়ুন  ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে বাড়ছে জ্বালানি তেলের আমদানি খরচ বাড়ছে

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, গত সপ্তাহান্তেই পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা এক গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী প্রতিনিধি দল ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করেন। যদিও প্রাথমিক সেই বৈঠক থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বড় অগ্রগতির খবর পাওয়া যায়নি এবং ভ্যান্স ওয়াশিংটনে ফিরে আসেন, তবে আলোচনার সুতো ছিঁড়ে যায়নি বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দ্বিতীয় দফার আলোচনার প্রস্তুতি ও দিনক্ষণ নিয়ে বর্তমানে কাজ চলছে। এই আলোচনা পুনরায় পাকিস্তানেই আয়োজিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই নমনীয় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে লেবানন ও ইসরায়েল সীমান্তে চলা সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সম্ভাব্য চুক্তিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।

লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্প্রতি ঘোষিত ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি এবং ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর প্রতি ট্রাম্পের শান্তি বজায় রাখার আহ্বানও এই সামগ্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করছে যে, ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণায় ইসরায়েলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে, তবে ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরাতে এখন তেহরানের সঙ্গে চুক্তিতেই বেশি মনোযোগী।

পাকিস্তানের কূটনৈতিক অঙ্গনে ট্রাম্পের এই সম্ভাব্য সফর নিয়ে ইতিবাচক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান সরকার শুরু থেকেই দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনের আগ্রহ প্রকাশ করে আসছিল। ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল যে, একটি নিরপেক্ষ ও সহযোগিতামূলক পরিবেশে দুই দেশের প্রতিনিধিরা যেন আলোচনার টেবিলে বসেন। ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্য পাকিস্তানের সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে ইরানের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক সংকেত পাওয়ার দাবি করেছে মার্কিন প্রশাসন। ট্রাম্পের দাবি, ইরান নিজেই এখন চুক্তি সম্পন্ন করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। এর আগে ট্রাম্প ইরানকে কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধ এবং ‘নৌ-অবরোধের’ হুমকি দিলেও, বর্তমানে তার সুর অনেকটাই নমনীয়। তিনি উল্লেখ করেছেন, চুক্তি হোক বা না হোক, যুক্তরাষ্ট্র তার শক্তিমত্তার প্রমাণ দিয়েছে; তবে বিশ্ব শান্তির স্বার্থে একটি চুক্তি হওয়া সবার জন্যই মঙ্গলজনক।

তবে এই শান্তি প্রক্রিয়ার পথ যে খুব মসৃণ, তা বলা যাচ্ছে না। কারণ মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা এখনও বিদ্যমান। লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়েও এখনও দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করে, যা নিয়ে জেডি ভ্যান্স ইসলামাবাদে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন।

অন্যদিকে, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি বেশ স্পর্শকাতর। ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এর আগে জানিয়েছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনা সফল করতে হলে তাদের ‘কর্তৃত্ববাদী’ মনোভাব ছাড়তে হবে। তাসত্ত্বেও, ট্রাম্পের পাকিস্তান সফরের আগ্রহ এটাই প্রমাণ করে যে, পর্দার আড়ালে বড় কোনো সমঝোতার খসড়া প্রায় প্রস্তুত হয়ে আছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসলামাবাদে গিয়ে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে সই করেন, তবে তা হবে বর্তমান দশকের অন্যতম সেরা কূটনৈতিক ঘটনা। এটি শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বৈরিতাই কমাবে না, বরং পুরো এশিয়ায় পাকিস্তানের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে হোয়াইট হাউস এবং তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।