ঢাকা ১২:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিল্লিতে দুই বিমানের সংঘর্ষ, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন যাত্রীরা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৪৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • / 20

ছবি সংগৃহীত

 

ভারতের দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে উড্ডয়ন ও অবতরণের প্রস্তুতিকালে দুটি যাত্রীবাহী বিমানের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে আকাশ এয়ার এবং স্পাইসজেটের বিমানের মধ্যে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বিমান দুটির ডানা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো যাত্রী বা ক্রু সদস্যের হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, লাদাখ থেকে আসা স্পাইসজেটের একটি বি ৭৩৭-৭০০ বিমান অবতরণ শেষে টারম্যাকের দিকে যাচ্ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে রানওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা হায়দরাবাদগামী আকাশ এয়ারের একটি বিমানের ডানার সাথে স্পাইসজেটের বিমানের ডানার ঘর্ষণ লাগে। এতে স্পাইসজেটের ডান দিকের ‘উইংলেট’ এবং আকাশ এয়ারের বাম দিকের ডানা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আরও পড়ুন  গাজীপুরে মোটরসাইকেলের সঙ্গে সংঘর্ষে যাত্রীবাহী বাসে আগুন

দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল দুটি বিমানেরই উড্ডয়ন সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। আকাশ এয়ারের হায়দরাবাদগামী ফ্লাইটের যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে বিকল্প বিমানের ব্যবস্থা করে কর্তৃপক্ষ। এতে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্ব হলেও বড় ধরনের বিপত্তি এড়ানো গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রাথমিক তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, রানওয়েতে বিমানের অবস্থান নির্ধারণে সমন্বয়ের অভাব ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্পাইসজেটের বিমানটি অবতরণের পর নির্ধারিত পথ ধরে এগোচ্ছিল, অন্যদিকে আকাশ এয়ারের বিমানটি রানওয়েতে দাঁড়িয়ে উড্ডয়নের অপেক্ষায় ছিল। এই সংকীর্ণ স্থানে দুই বিমানের ডানার দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার পরপরই সিভিল এভিয়েশন অথরিটি এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল অথবা গ্রাউন্ড স্টাফদের নির্দেশনায় কোনো ভুল ছিল কি না কিংবা পাইলটের পক্ষ থেকে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা এই তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।

দিল্লি বিমানবন্দরের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, রানওয়ের নিরাপত্তা প্রোটোকল কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়, তবুও এ ধরনের সংঘর্ষের পেছনে যান্ত্রিক নাকি মানবিক ত্রুটি রয়েছে তা গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বিমান দুটিকে গ্রাউন্ডেড করে রাখা হবে।

উল্লেখ্য, ব্যস্ততম এই বিমানবন্দরে প্রতিদিন শত শত ফ্লাইট ওঠানামা করে। এ ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা রানওয়ে ব্যবস্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিমান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

নিউজটি শেয়ার করুন

দিল্লিতে দুই বিমানের সংঘর্ষ, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন যাত্রীরা

আপডেট সময় ১১:৪৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

 

ভারতের দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে উড্ডয়ন ও অবতরণের প্রস্তুতিকালে দুটি যাত্রীবাহী বিমানের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে আকাশ এয়ার এবং স্পাইসজেটের বিমানের মধ্যে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বিমান দুটির ডানা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো যাত্রী বা ক্রু সদস্যের হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, লাদাখ থেকে আসা স্পাইসজেটের একটি বি ৭৩৭-৭০০ বিমান অবতরণ শেষে টারম্যাকের দিকে যাচ্ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে রানওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা হায়দরাবাদগামী আকাশ এয়ারের একটি বিমানের ডানার সাথে স্পাইসজেটের বিমানের ডানার ঘর্ষণ লাগে। এতে স্পাইসজেটের ডান দিকের ‘উইংলেট’ এবং আকাশ এয়ারের বাম দিকের ডানা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আরও পড়ুন  বড়াইগ্রামে ট্রাক-প্রাইভেট কার মুখোমুখি সংঘর্ষ: চালক নিহত, আহত ২

দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল দুটি বিমানেরই উড্ডয়ন সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। আকাশ এয়ারের হায়দরাবাদগামী ফ্লাইটের যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে বিকল্প বিমানের ব্যবস্থা করে কর্তৃপক্ষ। এতে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্ব হলেও বড় ধরনের বিপত্তি এড়ানো গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রাথমিক তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, রানওয়েতে বিমানের অবস্থান নির্ধারণে সমন্বয়ের অভাব ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্পাইসজেটের বিমানটি অবতরণের পর নির্ধারিত পথ ধরে এগোচ্ছিল, অন্যদিকে আকাশ এয়ারের বিমানটি রানওয়েতে দাঁড়িয়ে উড্ডয়নের অপেক্ষায় ছিল। এই সংকীর্ণ স্থানে দুই বিমানের ডানার দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার পরপরই সিভিল এভিয়েশন অথরিটি এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল অথবা গ্রাউন্ড স্টাফদের নির্দেশনায় কোনো ভুল ছিল কি না কিংবা পাইলটের পক্ষ থেকে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা এই তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।

দিল্লি বিমানবন্দরের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, রানওয়ের নিরাপত্তা প্রোটোকল কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়, তবুও এ ধরনের সংঘর্ষের পেছনে যান্ত্রিক নাকি মানবিক ত্রুটি রয়েছে তা গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বিমান দুটিকে গ্রাউন্ডেড করে রাখা হবে।

উল্লেখ্য, ব্যস্ততম এই বিমানবন্দরে প্রতিদিন শত শত ফ্লাইট ওঠানামা করে। এ ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা রানওয়ে ব্যবস্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিমান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।