ঢাকা ০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

সৌদিতে শ্রীলংকান যুবকের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:৫৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / 24

ছবি সংগৃহীত

ফেসবুকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে সৌদি আরবে ২৪ বছর বয়সী শ্রীলংকান যুবক অনুজান শিবারাসের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। ছেলের জীবন রক্ষায় ক্ষমার আবেদন জানিয়েছে তার পরিবার। এ ঘটনায় শ্রীলংকা সরকারও কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছে।

গত জুনে শ্রীলংকায় একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুসলিম ও হিন্দুদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। এরই একপর্যায়ে অনুজান মহানবী (সা.)-কে নিয়ে একটি অসম্মানজনক মন্তব্য ফেসবুকে পোস্ট করেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পরে নিজের ভুল বুঝতে পেরে তিনি মন্তব্যটি মুছে ফেলেন এবং ক্ষমা চেয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন।

তবে এর আগেই ওই মন্তব্যের স্ক্রিনশট সংগ্রহ করে কেউ সৌদি আরবে অনুজানের কর্মস্থলে পাঠিয়ে দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত জুলাইয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আরও পড়ুন  শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলা: সাবেক দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন

ইসলাম ধর্ম ও মহানবী (সা.)-কে অবমাননার অভিযোগের ক্ষেত্রে সৌদি আরবের আইন কঠোর। আল-আহসা ক্রিমিনাল কোর্টের প্রাথমিক রায়ে অনুজানকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়েছিল। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের পর মামলাটি সাইবার অপরাধ আইনের পরিবর্তে শরিয়া আইনের আওতায় নেওয়া হয় এবং তার সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়।

গত সেপ্টেম্বর থেকে পরিবারের সঙ্গে অনুজানের যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। সৌদি আরবে এ ধরনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সাধারণত আগে থেকে নির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা দেওয়া হয় না।

এদিকে অনুজানের পরিবার ও শ্রীলংকা সরকার তাকে সাধারণ ক্ষমার আওতায় আনার জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়াক এবং দেশটির বিভিন্ন ধর্মীয় নেতাও বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেছেন। এ ছাড়া শ্রীলংকার একটি আইনি দল সৌদি আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করতে সৌদি আরবে গেছে।

পরিবারের আশা, অনুজানের অনুতপ্ত হওয়া এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে সাধারণ ক্ষমা দেওয়া হতে পারে। এখন সেই সম্ভাবনার ওপরই তার পরিবার শেষ আশার আলো দেখছে।

সূত্র: বিবিসি।

নিউজটি শেয়ার করুন

সৌদিতে শ্রীলংকান যুবকের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ

আপডেট সময় ০৮:৫৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

ফেসবুকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে সৌদি আরবে ২৪ বছর বয়সী শ্রীলংকান যুবক অনুজান শিবারাসের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। ছেলের জীবন রক্ষায় ক্ষমার আবেদন জানিয়েছে তার পরিবার। এ ঘটনায় শ্রীলংকা সরকারও কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছে।

গত জুনে শ্রীলংকায় একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুসলিম ও হিন্দুদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। এরই একপর্যায়ে অনুজান মহানবী (সা.)-কে নিয়ে একটি অসম্মানজনক মন্তব্য ফেসবুকে পোস্ট করেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পরে নিজের ভুল বুঝতে পেরে তিনি মন্তব্যটি মুছে ফেলেন এবং ক্ষমা চেয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন।

তবে এর আগেই ওই মন্তব্যের স্ক্রিনশট সংগ্রহ করে কেউ সৌদি আরবে অনুজানের কর্মস্থলে পাঠিয়ে দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত জুলাইয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আরও পড়ুন  ফরিদপুরে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যা, স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

ইসলাম ধর্ম ও মহানবী (সা.)-কে অবমাননার অভিযোগের ক্ষেত্রে সৌদি আরবের আইন কঠোর। আল-আহসা ক্রিমিনাল কোর্টের প্রাথমিক রায়ে অনুজানকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়েছিল। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের পর মামলাটি সাইবার অপরাধ আইনের পরিবর্তে শরিয়া আইনের আওতায় নেওয়া হয় এবং তার সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়।

গত সেপ্টেম্বর থেকে পরিবারের সঙ্গে অনুজানের যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। সৌদি আরবে এ ধরনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সাধারণত আগে থেকে নির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা দেওয়া হয় না।

এদিকে অনুজানের পরিবার ও শ্রীলংকা সরকার তাকে সাধারণ ক্ষমার আওতায় আনার জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়াক এবং দেশটির বিভিন্ন ধর্মীয় নেতাও বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেছেন। এ ছাড়া শ্রীলংকার একটি আইনি দল সৌদি আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করতে সৌদি আরবে গেছে।

পরিবারের আশা, অনুজানের অনুতপ্ত হওয়া এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে সাধারণ ক্ষমা দেওয়া হতে পারে। এখন সেই সম্ভাবনার ওপরই তার পরিবার শেষ আশার আলো দেখছে।

সূত্র: বিবিসি।