ঢাকা ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

সমালোচনার মধ্যেই মালয়েশিয়ায় মিন অং হ্লাইং

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৫৭:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / 36

ছবি সংগৃহীত

 

মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট ও সামরিক বাহিনী-সমর্থিত সরকারপ্রধান মিন অং হ্লাইং বুধবার (৭ অক্টোবর) দুই দিনের সফরে মালয়েশিয়ায় গেছেন। সফরে তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পাশাপাশি দেশটির মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে একটি ব্যবসায়িক সংলাপেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এমআরটিভি জানিয়েছে, বুধবার সকালে নেপিদোর সামরিক বিমানবন্দর থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হন মিন অং হ্লাইং।

আরও পড়ুন  ইসরাইলের বিরুদ্ধে ১০০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি এরদোয়ানের

তবে তার সফরের সময়ই মালয়েশিয়া থেকে মিয়ানমারের নাগরিকদের দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের উদ্বেগ নতুন করে সামনে এসেছে।

মিন অং হ্লাইংয়ের সফরের চার দিন আগে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মিয়ানমার নাগরিক মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরে গেছেন। এই প্রত্যাবাসন নিয়ে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন সতর্কতা জানিয়েছে।

তাদের আশঙ্কা, মিয়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত ও মানবিক সংকট অব্যাহত থাকায় দেশে ফিরে যাওয়া ব্যক্তিরা নিপীড়নের শিকার হতে পারেন। একই সঙ্গে তাদের জোরপূর্বক সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের ঝুঁকিও রয়েছে বলে তারা মনে করছে।

মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রায় ৫ হাজার মিয়ানমার নাগরিক ধাপে ধাপে দেশে ফিরে যেতে সম্মত হয়েছেন। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের শেষ নাগাদ বিভিন্ন অভিবাসন আটককেন্দ্রে ১১ হাজার ৮০৪ জন মিয়ানমার নাগরিক ছিলেন।

তবে সাম্প্রতিক প্রত্যাবাসনের তালিকায় নিপীড়নের শিকার রোহিঙ্গারা ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মালয়েশিয়ায় ইউএনএইচসিআরের নিবন্ধিত শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার ৬০০। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার রোহিঙ্গা। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম বড় শরণার্থী জনগোষ্ঠী।

মালয়েশিয়া জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ নয়। ফলে দেশটিতে শরণার্থীদের আনুষ্ঠানিক মর্যাদা না দিয়ে অনথিভুক্ত অভিবাসী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় তাদের ঘিরে সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। চাকরি, সরকারি সেবা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম প্রত্যাবাসন উদ্যোগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজতেই এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছে। তার মতে, মালয়েশিয়া অনির্দিষ্টকাল শরণার্থীদের আশ্রয় দিতে পারে না এবং মিয়ানমারকে তার নাগরিকদের দায়িত্ব নিতে হবে।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার পর মিয়ানমারের সঙ্গে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশটিতে সশস্ত্র প্রতিরোধ ও গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

আসিয়ান এখনও মিয়ানমারের সামরিক সরকারের শীর্ষ নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক থেকে দূরে রেখেছে। তবে মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।

মালয়েশিয়া সফরটি আসিয়ানভুক্ত কোনো দেশে মিন অং হ্লাইংয়ের পঞ্চম সফর। এর আগে তিনি লাওস, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া সফর করেছেন।

তবে প্রত্যাবাসন ইস্যুকে কেন্দ্র করে তার মালয়েশিয়া সফর নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। স্বাধীন পর্যবেক্ষণ সংস্থা ACLED-এর বিশ্লেষক সিন্ডি আজারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, শরণার্থী ইস্যুতে সহযোগিতার মাধ্যমে এ ধরনের বৈঠক মিন অং হ্লাইংয়ের প্রশাসনের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, মিয়ানমারের চলমান সংঘাতের কার্যকর সমাধান ছাড়া প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি বলে তিনি মনে করেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

সমালোচনার মধ্যেই মালয়েশিয়ায় মিন অং হ্লাইং

আপডেট সময় ১২:৫৭:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

 

মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট ও সামরিক বাহিনী-সমর্থিত সরকারপ্রধান মিন অং হ্লাইং বুধবার (৭ অক্টোবর) দুই দিনের সফরে মালয়েশিয়ায় গেছেন। সফরে তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পাশাপাশি দেশটির মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে একটি ব্যবসায়িক সংলাপেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এমআরটিভি জানিয়েছে, বুধবার সকালে নেপিদোর সামরিক বিমানবন্দর থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হন মিন অং হ্লাইং।

আরও পড়ুন  ইসরাইলের বিরুদ্ধে ১০০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি এরদোয়ানের

তবে তার সফরের সময়ই মালয়েশিয়া থেকে মিয়ানমারের নাগরিকদের দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের উদ্বেগ নতুন করে সামনে এসেছে।

মিন অং হ্লাইংয়ের সফরের চার দিন আগে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মিয়ানমার নাগরিক মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরে গেছেন। এই প্রত্যাবাসন নিয়ে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন সতর্কতা জানিয়েছে।

তাদের আশঙ্কা, মিয়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত ও মানবিক সংকট অব্যাহত থাকায় দেশে ফিরে যাওয়া ব্যক্তিরা নিপীড়নের শিকার হতে পারেন। একই সঙ্গে তাদের জোরপূর্বক সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের ঝুঁকিও রয়েছে বলে তারা মনে করছে।

মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রায় ৫ হাজার মিয়ানমার নাগরিক ধাপে ধাপে দেশে ফিরে যেতে সম্মত হয়েছেন। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের শেষ নাগাদ বিভিন্ন অভিবাসন আটককেন্দ্রে ১১ হাজার ৮০৪ জন মিয়ানমার নাগরিক ছিলেন।

তবে সাম্প্রতিক প্রত্যাবাসনের তালিকায় নিপীড়নের শিকার রোহিঙ্গারা ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মালয়েশিয়ায় ইউএনএইচসিআরের নিবন্ধিত শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার ৬০০। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার রোহিঙ্গা। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম বড় শরণার্থী জনগোষ্ঠী।

মালয়েশিয়া জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ নয়। ফলে দেশটিতে শরণার্থীদের আনুষ্ঠানিক মর্যাদা না দিয়ে অনথিভুক্ত অভিবাসী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় তাদের ঘিরে সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। চাকরি, সরকারি সেবা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম প্রত্যাবাসন উদ্যোগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজতেই এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছে। তার মতে, মালয়েশিয়া অনির্দিষ্টকাল শরণার্থীদের আশ্রয় দিতে পারে না এবং মিয়ানমারকে তার নাগরিকদের দায়িত্ব নিতে হবে।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার পর মিয়ানমারের সঙ্গে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশটিতে সশস্ত্র প্রতিরোধ ও গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

আসিয়ান এখনও মিয়ানমারের সামরিক সরকারের শীর্ষ নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক থেকে দূরে রেখেছে। তবে মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।

মালয়েশিয়া সফরটি আসিয়ানভুক্ত কোনো দেশে মিন অং হ্লাইংয়ের পঞ্চম সফর। এর আগে তিনি লাওস, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া সফর করেছেন।

তবে প্রত্যাবাসন ইস্যুকে কেন্দ্র করে তার মালয়েশিয়া সফর নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। স্বাধীন পর্যবেক্ষণ সংস্থা ACLED-এর বিশ্লেষক সিন্ডি আজারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, শরণার্থী ইস্যুতে সহযোগিতার মাধ্যমে এ ধরনের বৈঠক মিন অং হ্লাইংয়ের প্রশাসনের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, মিয়ানমারের চলমান সংঘাতের কার্যকর সমাধান ছাড়া প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি বলে তিনি মনে করেন।