ঢাকা ০৬:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইমরান সমর্থকদের মিছিল ঘিরে ইসলামাবাদে লকডাউন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৩১:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 62

ছবি সংগৃহীত

 

কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদে মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পাকিস্তান সরকার। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রবেশপথে কনটেইনার বসিয়ে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে এবং বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

পিটিআই জানিয়েছে, নির্ধারিত কর্মসূচি থেকে তারা সরে আসবে না। অন্যদিকে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি বলেছেন, রাজধানীর সড়ক দখল করে দীর্ঘ সময় জনজীবন ব্যাহত করার সুযোগ দেওয়া হবে না। ইসলামাবাদ হাইকোর্টও রাজনৈতিক দল বা তাদের নেতৃত্বের রাজধানীর সড়ক, মহাসড়ক, ইন্টারচেঞ্জ, টোল প্লাজা ও সরকারি স্থাপনা দখল করে রাখার আইনগত অধিকার নেই বলে জানিয়েছে।

আরও পড়ুন  পাকিস্তানে সামরিক গাড়িতে হামলা, ১২ সেনা নিহত

মিছিলের আগে ইমরান খানের তিন বোন—আলিমা খান, ডা. উজমা খান ও নোরিন নিয়াজি—আটক হয়েছেন। তাদের মধ্যে আলিমা খানকে ২০ সেপ্টেম্বর ৩০ দিনের জন্য আটক করার আদেশ দেওয়া হয়। পরদিন উজমা খান ও নোরিন নিয়াজিকেও ৩০ দিনের জন্য আটক করা হয়। তাদের আটকের আদেশ লাহোর হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ এসব পদক্ষেপের ক্ষেত্রে জননিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার বিষয়টি সামনে এনেছে। অন্যদিকে পিটিআই আটক ব্যক্তিদের মুক্তি এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচির সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। আটকের বৈধতা নিয়েও আদালতে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে স্থানীয় সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, পিটিআইয়ের কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণের আশঙ্কা করছে নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ। এ কারণে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রধান সড়ক ও প্রবেশপথে কনটেইনার বসানো হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিক্ষোভের কারণে রাজধানীর স্বাভাবিক কার্যক্রম দীর্ঘ সময় ব্যাহত হতে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে পিটিআই নেতারা ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে কর্মসূচিকে ঘিরে সরকার ও ইমরান খানের দলের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে।

ইমরান খান ২০২৩ সাল থেকে কারাগারে রয়েছেন। তার দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে তার কারাবাস, চিকিৎসা এবং কারাগারে সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ করা হয়ে আসছে। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছে।

২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিকে সামনে রেখে ইসলামাবাদে সড়ক যোগাযোগে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কনটেইনার দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ বন্ধ করার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এর ফলে পরিবহন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে পাকিস্তানের জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ৭০০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচির পর্যালোচনাও চলছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে রয়েছে। রাজধানীর পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী তাদের পরবর্তী কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।

২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদে এরই মধ্যে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখন পিটিআইয়ের ঘোষিত মিছিল কীভাবে অনুষ্ঠিত হয় এবং কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীর পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর রয়েছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ইমরান সমর্থকদের মিছিল ঘিরে ইসলামাবাদে লকডাউন

আপডেট সময় ০২:৩১:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদে মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পাকিস্তান সরকার। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রবেশপথে কনটেইনার বসিয়ে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে এবং বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

পিটিআই জানিয়েছে, নির্ধারিত কর্মসূচি থেকে তারা সরে আসবে না। অন্যদিকে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি বলেছেন, রাজধানীর সড়ক দখল করে দীর্ঘ সময় জনজীবন ব্যাহত করার সুযোগ দেওয়া হবে না। ইসলামাবাদ হাইকোর্টও রাজনৈতিক দল বা তাদের নেতৃত্বের রাজধানীর সড়ক, মহাসড়ক, ইন্টারচেঞ্জ, টোল প্লাজা ও সরকারি স্থাপনা দখল করে রাখার আইনগত অধিকার নেই বলে জানিয়েছে।

আরও পড়ুন  ভারতীয় ও পাকিস্তানি সেনাদের মধ্যে ২ দিন ধরে গোলাগুলি চলছে

মিছিলের আগে ইমরান খানের তিন বোন—আলিমা খান, ডা. উজমা খান ও নোরিন নিয়াজি—আটক হয়েছেন। তাদের মধ্যে আলিমা খানকে ২০ সেপ্টেম্বর ৩০ দিনের জন্য আটক করার আদেশ দেওয়া হয়। পরদিন উজমা খান ও নোরিন নিয়াজিকেও ৩০ দিনের জন্য আটক করা হয়। তাদের আটকের আদেশ লাহোর হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ এসব পদক্ষেপের ক্ষেত্রে জননিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার বিষয়টি সামনে এনেছে। অন্যদিকে পিটিআই আটক ব্যক্তিদের মুক্তি এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচির সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। আটকের বৈধতা নিয়েও আদালতে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে স্থানীয় সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, পিটিআইয়ের কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণের আশঙ্কা করছে নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ। এ কারণে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রধান সড়ক ও প্রবেশপথে কনটেইনার বসানো হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিক্ষোভের কারণে রাজধানীর স্বাভাবিক কার্যক্রম দীর্ঘ সময় ব্যাহত হতে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে পিটিআই নেতারা ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে কর্মসূচিকে ঘিরে সরকার ও ইমরান খানের দলের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে।

ইমরান খান ২০২৩ সাল থেকে কারাগারে রয়েছেন। তার দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে তার কারাবাস, চিকিৎসা এবং কারাগারে সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ করা হয়ে আসছে। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছে।

২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিকে সামনে রেখে ইসলামাবাদে সড়ক যোগাযোগে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কনটেইনার দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ বন্ধ করার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এর ফলে পরিবহন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে পাকিস্তানের জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ৭০০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচির পর্যালোচনাও চলছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে রয়েছে। রাজধানীর পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী তাদের পরবর্তী কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।

২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদে এরই মধ্যে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখন পিটিআইয়ের ঘোষিত মিছিল কীভাবে অনুষ্ঠিত হয় এবং কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীর পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর রয়েছে।