তুরস্ক-পাকিস্তানকে হুথিদের কড়া হুঁশিয়ারি
- আপডেট সময় ০৬:৪৭:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 23
ইয়েমেন সংঘাতে সৌদি আরবের পক্ষে তুরস্ক ও পাকিস্তান সামরিকভাবে জড়ালে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। গোষ্ঠীটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ও ধামার প্রদেশের গভর্নর মোহাম্মদ আল-বুখাইতি বলেছেন, দুই দেশ ইয়েমেনের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপে যুক্ত হলে তাদের ওপর হামলা চালানো হবে।
ইরাকি টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘অ্যানাদার রিডিং’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ হুঁশিয়ারি দেন আল-বুখাইতি। তিনি বলেন, ‘আল্লাহর কসম, তুরস্ক ও পাকিস্তান যদি এতে জড়িত হয়, তবে আমরা তাদের ওপর কঠোর আঘাত হানব।’ সৌদি আরবের পক্ষে ইয়েমেনে সামরিক হস্তক্ষেপ করলে তুরস্ক ও পাকিস্তানকে ‘শিক্ষা’ দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
সৌদি আরবের ওপর হুথিদের সাম্প্রতিক ধারাবাহিক হামলার পর রিয়াদ, ইসলামাবাদ ও আঙ্কারার মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এর মধ্যেই হুথিদের পক্ষ থেকে তুরস্ক ও পাকিস্তানকে এ সতর্কবার্তা দেওয়া হলো।
তবে আল-বুখাইতি দাবি করেন, পাকিস্তান ও তুরস্কের সাধারণ জনগণের মধ্যে ইয়েমেনের প্রতি সহানুভূতি রয়েছে। তাই তার হুঁশিয়ারি দেশ দুটির জনগণের উদ্দেশে নয়, বরং সরকার সামরিকভাবে ইয়েমেন সংঘাতে যুক্ত হলে তাদের জন্য প্রযোজ্য হবে।
চলতি বছরের ৭ আগস্ট তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে তিনপক্ষীয় একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে পারস্পরিক দায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে চুক্তিটি করা হয়। এতে অংশীদার কোনো একটি দেশের ওপর আক্রমণকে তিন দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে।
হুথিদের হুমকির মধ্যেই সৌদি আরবের প্রতি সমর্থনের কথা জানিয়েছে তুরস্ক। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা গুরুতর হুমকির মুখে রয়েছে। জোটের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তুরস্ক রিয়াদের পাশে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
হাকান ফিদান বলেন, সৌদি আরবের সামরিক পর্যায়ের সহযোগিতার প্রয়োজন হতে পারে। এ বিষয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেওয়ার কথাও জানান তিনি। একই সঙ্গে রিয়াদের তেল স্থাপনাগুলোতে হুথিদের হামলার নিন্দা জানিয়ে পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের কথা বলেন।
২০১৪ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখলের পর দেশটিতে সংঘাত শুরু হয়। পরের বছর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে পুনর্বহালের লক্ষ্যে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন আরব জোট দেশটির যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে।
চলতি বছরের জুলাইয়ে হুথিরা রিয়াদের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পর সংঘাত আবারও তীব্র হয়। সাম্প্রতিক সময়ে লোহিত সাগরের উপকূল ও বাব আল-মানদেব প্রণালিতে নিজেদের অগ্রগতির দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। পাশাপাশি সৌদি আরবের বিভিন্ন তেল স্থাপনায় হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এসব হামলা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও দামের বিষয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এদিকে সৌদি আরবের ওপর হুথিদের হামলার শুরু থেকেই নিন্দা জানিয়ে আসছে পাকিস্তান। হামলাকে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে রিয়াদের প্রতি সংহতি জানিয়েছে ইসলামাবাদ।
মক্কার কাছে সাম্প্রতিক হামলার খবরের পর পাকিস্তানের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এক সাক্ষাৎকারে বলেন, মক্কা ও মদিনার সুরক্ষা দেওয়া পাকিস্তানের জন্য ‘চিরন্তন চুক্তি’ এবং ধর্মীয় দায়িত্ব। পবিত্র কাবা বা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মস্থানে হামলা হলে কোনো চুক্তির অপেক্ষা না করে তা রক্ষা করা প্রতিটি মুসলিমের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পরে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরীও হারামাইন শরিফাইনের নিরাপত্তায় পাকিস্তান ‘যেকোনো সীমা পর্যন্ত’ যেতে প্রস্তুত বলে জানান।
























