ঢাকা ০১:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কাতারে হামলা করেছি, বোমাও ফেলেছি: নেতানিয়াহু

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:২৮:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 20

ছবি: সংগৃহীত

কাতারে ইসরায়েলি হামলার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে গাজায় কাতারের পাঠানো অর্থ ইসরায়েলের অনুমোদনেই মানবিক সহায়তার জন্য প্রবেশ করেছিল বলে দাবি করেছেন তিনি।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম আই২৪নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু এসব কথা বলেন। কাতারকে ইসরায়েলের জন্য ‘শত্রুভাবাপন্ন’ দেশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, গাজা যুদ্ধের সময় ইসরায়েলের নীতিতে কাতার কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।

কাতারে ইসরায়েলি হামলার বিষয়ে নেতানিয়াহু বলেন, “আমি কাতারে হামলা করেছি, যুদ্ধের সময় তাদের ওপর বোমাও ফেলেছি, তারাও আমাকে আক্রমণ করেছে।”

আরও পড়ুন  গাজায় ইসরাইলি হামলায় একদিনে নিহত ৯৪, আহত শতাধিক

আগামী ৯ সেপ্টেম্বর কাতারের রাজধানী দোহায় ইসরায়েলি হামলার এক বছর পূর্ণ হবে। ২০২৫ সালের ওই হামলায় হামাসের পাঁচ সদস্য এবং কাতারের এক নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। হামাস নেতাদের একটি বৈঠক চলার সময় হামলাটি চালানো হয়েছিল বলে জানা যায়। ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত গাজা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল।

হামলার পর কাতার ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতির ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে আখ্যা দেয়। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও কাতারের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর হামলার নিন্দা করে একে গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

সাক্ষাৎকারে গাজায় কাতারের অর্থ পাঠানোর বিষয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন নেতানিয়াহু। তাঁর দাবি, ইসরায়েলের নিরাপত্তা সংস্থা মোসাদ ও শিন বেতের সুপারিশের ভিত্তিতেই মানবিক সহায়তার জন্য ওই অর্থ গাজায় পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

নেতানিয়াহু বলেন, গাজায় প্রবেশ করা মোট অর্থের প্রায় ২ শতাংশ ছিল কাতারের পাঠানো অর্থ।

তবে নেতানিয়াহুর সমালোচকেরা অভিযোগ করে আসছেন, কাতারের অর্থ হামাসের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়েছিল। কাতার এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তাদের সব সহায়তা গাজার সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছেছে এবং পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছতা ও কঠোর নজরদারির আওতায় ছিল।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি এর আগে কাতারের অর্থ হামাসকে অর্থায়নের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছিলেন। এসব অর্থ স্থানান্তরের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রও অবগত ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে, ইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবর সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে নেতানিয়াহুর বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি করেছে। গাজা যুদ্ধ, অর্থনীতি এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাত—নির্বাচনে এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

সমালোচকদের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে জাতীয়তাবাদী সমর্থন জোরদার করতে নেতানিয়াহু বারবার আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ানোর কৌশল নিচ্ছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

কাতারে হামলা করেছি, বোমাও ফেলেছি: নেতানিয়াহু

আপডেট সময় ১২:২৮:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কাতারে ইসরায়েলি হামলার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে গাজায় কাতারের পাঠানো অর্থ ইসরায়েলের অনুমোদনেই মানবিক সহায়তার জন্য প্রবেশ করেছিল বলে দাবি করেছেন তিনি।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম আই২৪নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু এসব কথা বলেন। কাতারকে ইসরায়েলের জন্য ‘শত্রুভাবাপন্ন’ দেশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, গাজা যুদ্ধের সময় ইসরায়েলের নীতিতে কাতার কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।

কাতারে ইসরায়েলি হামলার বিষয়ে নেতানিয়াহু বলেন, “আমি কাতারে হামলা করেছি, যুদ্ধের সময় তাদের ওপর বোমাও ফেলেছি, তারাও আমাকে আক্রমণ করেছে।”

আরও পড়ুন  নেতানিয়াহুকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ ট্রাম্পের, আলোচনায় যুদ্ধবিরতি

আগামী ৯ সেপ্টেম্বর কাতারের রাজধানী দোহায় ইসরায়েলি হামলার এক বছর পূর্ণ হবে। ২০২৫ সালের ওই হামলায় হামাসের পাঁচ সদস্য এবং কাতারের এক নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। হামাস নেতাদের একটি বৈঠক চলার সময় হামলাটি চালানো হয়েছিল বলে জানা যায়। ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত গাজা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল।

হামলার পর কাতার ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতির ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে আখ্যা দেয়। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও কাতারের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর হামলার নিন্দা করে একে গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

সাক্ষাৎকারে গাজায় কাতারের অর্থ পাঠানোর বিষয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন নেতানিয়াহু। তাঁর দাবি, ইসরায়েলের নিরাপত্তা সংস্থা মোসাদ ও শিন বেতের সুপারিশের ভিত্তিতেই মানবিক সহায়তার জন্য ওই অর্থ গাজায় পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

নেতানিয়াহু বলেন, গাজায় প্রবেশ করা মোট অর্থের প্রায় ২ শতাংশ ছিল কাতারের পাঠানো অর্থ।

তবে নেতানিয়াহুর সমালোচকেরা অভিযোগ করে আসছেন, কাতারের অর্থ হামাসের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়েছিল। কাতার এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তাদের সব সহায়তা গাজার সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছেছে এবং পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছতা ও কঠোর নজরদারির আওতায় ছিল।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি এর আগে কাতারের অর্থ হামাসকে অর্থায়নের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছিলেন। এসব অর্থ স্থানান্তরের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রও অবগত ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে, ইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবর সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে নেতানিয়াহুর বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি করেছে। গাজা যুদ্ধ, অর্থনীতি এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাত—নির্বাচনে এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

সমালোচকদের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে জাতীয়তাবাদী সমর্থন জোরদার করতে নেতানিয়াহু বারবার আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ানোর কৌশল নিচ্ছেন।