ঢাকা ০৪:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্পকে চাপে ফেলতে চায় ইরান

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৫৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 55

ছবি: সংগৃহীত

 

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত আরও কয়েক মাস দীর্ঘায়িত করার বিষয়ে ইরান দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাতে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে ইরান সংঘাত অব্যাহত রাখতে আগ্রহী।

শুক্রবার নিউইয়র্ক টাইমস সাম্প্রতিক মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে এসব তথ্য প্রকাশ করে। এসব প্রতিবেদনের বিষয়ে অবগত সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর সক্ষমতা নিয়ে ইরানের আত্মবিশ্বাস আগের তুলনায় বেড়েছে।

আরও পড়ুন  রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা অগ্রহণযোগ্য: ট্রাম্প

গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড সীমিত পর্যায়ে থাকলেও দেশটির নেতৃত্ব বড় ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টির পরিকল্পনা করতে পারে। যুদ্ধ শুরুর পর ইরান নিজেদের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পেয়েছে এবং সেই সক্ষমতার ওপর তাদের আস্থাও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংঘাতের অবসান ঘটাতে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন হতে পারে বলেও গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলোতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে বিবেচনায় রেখে ট্রাম্পকে রাজনৈতিকভাবে আরও চাপে ফেলতে ইরান সংঘাত দীর্ঘায়িত করতে সন্তুষ্ট বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এসব নিষেধাজ্ঞা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরান জুলাইয়ের মতো আরও পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। ওই সময় ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে আঘাত এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি সাইবার ক্ষেত্রেও ইরানের তৎপরতা বাড়ার কথা বলা হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর ইরানি হ্যাকাররা পুনরায় সংগঠিত হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সরাসরি হুমকি তৈরি করছে বলে বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাইবার হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন দুর্বল করাই ইরানি হ্যাকারদের অন্যতম লক্ষ্য।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্স এমন সাইবার হামলার সম্ভাবনার কথা স্বীকার করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মার্কিন নাগরিকদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ইরানের পক্ষ থেকে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটানোর সক্ষমতাকে সীমিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ভ্যান্স বলেন, ইরানের পক্ষে আমেরিকানদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করার সক্ষমতা ‘বেশ সীমিত’। তবে এটি একেবারে শূন্য নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে অন্য পক্ষগুলোর সাইবার হামলা নিয়ে তিনি আরও বেশি উদ্বিগ্ন বলে জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্পকে চাপে ফেলতে চায় ইরান

আপডেট সময় ১০:৫৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত আরও কয়েক মাস দীর্ঘায়িত করার বিষয়ে ইরান দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাতে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে ইরান সংঘাত অব্যাহত রাখতে আগ্রহী।

শুক্রবার নিউইয়র্ক টাইমস সাম্প্রতিক মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে এসব তথ্য প্রকাশ করে। এসব প্রতিবেদনের বিষয়ে অবগত সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর সক্ষমতা নিয়ে ইরানের আত্মবিশ্বাস আগের তুলনায় বেড়েছে।

আরও পড়ুন  ডিসেম্বরে নির্বাচনে একমত বিএনপি ও ১২ দলীয় জোট: নজরুল ইসলাম খান

গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড সীমিত পর্যায়ে থাকলেও দেশটির নেতৃত্ব বড় ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টির পরিকল্পনা করতে পারে। যুদ্ধ শুরুর পর ইরান নিজেদের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পেয়েছে এবং সেই সক্ষমতার ওপর তাদের আস্থাও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংঘাতের অবসান ঘটাতে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন হতে পারে বলেও গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলোতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে বিবেচনায় রেখে ট্রাম্পকে রাজনৈতিকভাবে আরও চাপে ফেলতে ইরান সংঘাত দীর্ঘায়িত করতে সন্তুষ্ট বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এসব নিষেধাজ্ঞা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরান জুলাইয়ের মতো আরও পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। ওই সময় ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে আঘাত এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি সাইবার ক্ষেত্রেও ইরানের তৎপরতা বাড়ার কথা বলা হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর ইরানি হ্যাকাররা পুনরায় সংগঠিত হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সরাসরি হুমকি তৈরি করছে বলে বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাইবার হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন দুর্বল করাই ইরানি হ্যাকারদের অন্যতম লক্ষ্য।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্স এমন সাইবার হামলার সম্ভাবনার কথা স্বীকার করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মার্কিন নাগরিকদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ইরানের পক্ষ থেকে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটানোর সক্ষমতাকে সীমিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ভ্যান্স বলেন, ইরানের পক্ষে আমেরিকানদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করার সক্ষমতা ‘বেশ সীমিত’। তবে এটি একেবারে শূন্য নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে অন্য পক্ষগুলোর সাইবার হামলা নিয়ে তিনি আরও বেশি উদ্বিগ্ন বলে জানান।