ইরান যুদ্ধের তথ্য ফাঁস, পেন্টাগনে ৫০ জনের পলিগ্রাফ পরীক্ষা
- আপডেট সময় ১০:৩৪:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 11
ইরান যুদ্ধ ও মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে সংবেদনশীল তথ্য সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট স্টাফের প্রায় ৫০ জন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ও বেসামরিক কর্মীকে পলিগ্রাফ বা লাই ডিটেক্টর পরীক্ষার মুখোমুখি করা হয়েছে। গত আগস্টে চালানো এই গণপরীক্ষার লক্ষ্য ছিল তথ্য ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকানো।
সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের কয়েকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
এসব প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে পেন্টাগনে তৎপরতা শুরু হয়। পেন্টাগনের মুখপাত্র শোন পার্নেল এক বিবৃতিতে বলেন, অভ্যন্তরীণ বা ব্যক্তিগত বিষয়ে বিভাগ সাধারণত মন্তব্য করে না। তবে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গোপনীয় তথ্য ফাঁসকে তারা অত্যন্ত গুরুতর বিষয় হিসেবে দেখছেন এবং এ নিয়ে কঠোর তদন্ত চলছে।
গত ৫ মে থেকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রেস ব্রিফিং থেকে বিরত রয়েছেন। একই সময়ে পেন্টাগনে সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকারও অনেকাংশে সীমিত করা হয়েছে।
এর আগে গত মাসে পেন্টাগনের সমালোচনামূলক সংবাদ প্রকাশের জেরে একটি সংবাদপত্রের শীর্ষ সম্পাদকসহ কয়েকজন সাংবাদিককে বরখাস্ত করার ঘটনাও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
এদিকে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারে ঘাটতির খবর ও এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সমালোচকদের কঠোর ভাষায় আক্রমণ করে এসব প্রচারকে তিনি ‘দেশদ্রোহী’ কর্মকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন সামরিক বাহিনীর অস্ত্রভাণ্ডার ফুরিয়ে যাওয়ার যে কথা বলা হচ্ছে, তা ‘একশ শতাংশ মিথ্যা’ ও ভিত্তিহীন।
তার ভাষ্য, যারা এ ধরনের তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে পরাজিত দেখতে চায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মাঝারি থেকে উচ্চমানের গোলাবারুদের বিপুল মজুত রয়েছে, যা ইরান কিংবা অন্য কোনো বড় ধরনের যুদ্ধের প্রয়োজনের তুলনায় বহুগুণ বেশি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যেকোনো ধরনের সামরিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র উৎপাদন ও প্রস্তুতির মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়েছে বলেও দাবি করেছেন ট্রাম্প।
তথ্য ফাঁসের তদন্ত, পেন্টাগনে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সীমিত করা এবং অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য—সব মিলিয়ে ইরান যুদ্ধ ঘিরে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরের পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সূত্র: এনডিটিভি

























