ঢাকা ০৮:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রের

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:২৬:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 15

ছবি সংগৃহীত

 

বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়ার ওপর জানুয়ারিতে আরোপ করা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির একটি ফেডারেল আদালতের আদেশের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, গত ২১ আগস্ট থেকে ওই স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা: বাংলাদেশে ‘স্বৈরাচারের পাশে নয়, মানবাধিকারের পক্ষে’ থাকবে দৃঢ় সমর্থন

গত ২১ জানুয়ারি স্থগিতাদেশটি কার্যকর করা হয়েছিল। এর আওতায় বাংলাদেশ ছাড়াও ভুটান, নেপাল ও পাকিস্তানসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসার আবেদন স্থগিত রাখা হয়।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছিল, অভিবাসী ভিসা যাচাই-বাছাইয়ের নীতিমালা পর্যালোচনার সময় এ স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীরা যেন নিজেদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর রাখতে পারেন এবং সরকারের ওপর আর্থিকভাবে নির্ভরশীল না হন বা অবৈধভাবে সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধা গ্রহণ না করেন, তা নিশ্চিত করা।

স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকার সময় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকরা ভিসার আবেদন জমা দেওয়া ও সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে আবেদনগুলোর পরবর্তী প্রক্রিয়া স্থগিত ছিল।

এখন স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হওয়ায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আবেদনকারীরা নিয়ম অনুযায়ী অভিবাসী ভিসার আবেদন ও প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে পারবেন।

স্থগিতাদেশের আওতায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে ছিল আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহামাস, বাংলাদেশ, বারবাডোস, বেলারুশ, বেলিজ, ভুটান, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, ব্রাজিল, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, কেপ ভার্দে, কলম্বিয়া, আইভরি কোস্ট, কিউবা, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, ডোমিনিকা, মিসর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিজি, গাম্বিয়া, জর্জিয়া, ঘানা, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, গিনি, হাইতি, ইরান, ইরাক, জ্যামাইকা, জর্ডান, কাজাখস্তান, কসোভো, কুয়েত, কিরগিজস্তান, লাওস ও লেবানন।

এ তালিকায় আরও ছিল লাইবেরিয়া, লিবিয়া, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টেনেগ্রো, মরক্কো, নেপাল, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, উত্তর মেসেডোনিয়া, পাকিস্তান, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, রাশিয়া, রুয়ান্ডা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনস, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া, তানজানিয়া, থাইল্যান্ড, টোগো, তিউনিসিয়া, উগান্ডা, উরুগুয়ে, উজবেকিস্তান ও ইয়েমেন।

৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি বাতিল করে গত ২১ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটান ডিস্ট্রিক্ট আদালত রায় দেন। বিচারক জ্যানেট ভার্গাস রায়ে বলেন, জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর অভিবাসী ভিসা আবেদন নিয়ে যে নীতি ঘোষণা করেছিল, সেটি ‘স্পষ্টতই বেআইনি’। নীতিটি কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইনেরও পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন তিনি।

রায়ে আরও বলা হয়, বিদ্যমান আইনে অভিবাসী ভিসার আবেদনপ্রক্রিয়ায় কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ওপর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষমতা স্পষ্টভাবে সীমিত করা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ওই নীতি গ্রহণের মাধ্যমে তার আইনগত এখতিয়ারের সীমা ছাড়িয়ে গেছেন বলে আদালত মন্তব্য করেন।

মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর কোনো ব্যক্তিকে ভিসা দেওয়া হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট ভিসা কর্মকর্তারাই নিয়ে থাকেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রের

আপডেট সময় ০৭:২৬:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়ার ওপর জানুয়ারিতে আরোপ করা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির একটি ফেডারেল আদালতের আদেশের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, গত ২১ আগস্ট থেকে ওই স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই।

আরও পড়ুন  মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরি পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

গত ২১ জানুয়ারি স্থগিতাদেশটি কার্যকর করা হয়েছিল। এর আওতায় বাংলাদেশ ছাড়াও ভুটান, নেপাল ও পাকিস্তানসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসার আবেদন স্থগিত রাখা হয়।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছিল, অভিবাসী ভিসা যাচাই-বাছাইয়ের নীতিমালা পর্যালোচনার সময় এ স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীরা যেন নিজেদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর রাখতে পারেন এবং সরকারের ওপর আর্থিকভাবে নির্ভরশীল না হন বা অবৈধভাবে সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধা গ্রহণ না করেন, তা নিশ্চিত করা।

স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকার সময় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকরা ভিসার আবেদন জমা দেওয়া ও সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে আবেদনগুলোর পরবর্তী প্রক্রিয়া স্থগিত ছিল।

এখন স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হওয়ায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আবেদনকারীরা নিয়ম অনুযায়ী অভিবাসী ভিসার আবেদন ও প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে পারবেন।

স্থগিতাদেশের আওতায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে ছিল আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহামাস, বাংলাদেশ, বারবাডোস, বেলারুশ, বেলিজ, ভুটান, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, ব্রাজিল, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, কেপ ভার্দে, কলম্বিয়া, আইভরি কোস্ট, কিউবা, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, ডোমিনিকা, মিসর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিজি, গাম্বিয়া, জর্জিয়া, ঘানা, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, গিনি, হাইতি, ইরান, ইরাক, জ্যামাইকা, জর্ডান, কাজাখস্তান, কসোভো, কুয়েত, কিরগিজস্তান, লাওস ও লেবানন।

এ তালিকায় আরও ছিল লাইবেরিয়া, লিবিয়া, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টেনেগ্রো, মরক্কো, নেপাল, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, উত্তর মেসেডোনিয়া, পাকিস্তান, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, রাশিয়া, রুয়ান্ডা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনস, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া, তানজানিয়া, থাইল্যান্ড, টোগো, তিউনিসিয়া, উগান্ডা, উরুগুয়ে, উজবেকিস্তান ও ইয়েমেন।

৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি বাতিল করে গত ২১ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটান ডিস্ট্রিক্ট আদালত রায় দেন। বিচারক জ্যানেট ভার্গাস রায়ে বলেন, জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর অভিবাসী ভিসা আবেদন নিয়ে যে নীতি ঘোষণা করেছিল, সেটি ‘স্পষ্টতই বেআইনি’। নীতিটি কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইনেরও পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন তিনি।

রায়ে আরও বলা হয়, বিদ্যমান আইনে অভিবাসী ভিসার আবেদনপ্রক্রিয়ায় কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ওপর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষমতা স্পষ্টভাবে সীমিত করা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ওই নীতি গ্রহণের মাধ্যমে তার আইনগত এখতিয়ারের সীমা ছাড়িয়ে গেছেন বলে আদালত মন্তব্য করেন।

মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর কোনো ব্যক্তিকে ভিসা দেওয়া হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট ভিসা কর্মকর্তারাই নিয়ে থাকেন।