ঢাকা ০৩:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়াল, নিখোঁজ ৪৪০০

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:০১:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 29

ছবি সংগৃহীত

 

নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নেপালে ৯৮৭ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। চীনের তিব্বত অঞ্চলে নিহত হয়েছেন আরও ১৬ জন। দুই দেশ মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ১ হাজার ৩ জনে। নেপালে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ।

গত ২৬ আগস্ট হিমালয়ে হিমবাহ ধসে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। এতে নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। পানির প্রবল স্রোত ও ভূমিধসে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু এবং বিভিন্ন অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যায়।

আরও পড়ুন  ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ২০, ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকার শঙ্কা

বন্যার ছয় দিন পরও দুর্গম বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার অভিযান চলছে। এখন পর্যন্ত নেপালে অন্তত ১১ হাজার ৮১৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ৪ হাজার ৪০০ ছাড়িয়ে যাওয়ায় উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

উদ্ধার অভিযানের মধ্যে নেপালের বিদুরে একটি বাড়ি থেকে ২৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বন্যার সময় বাড়িটির ভেতরে এসব মানুষ আটকা পড়েছিলেন বলে জানা গেছে। পরে বন্যার পানির সঙ্গে আসা কাদার নিচে চাপা পড়ে তাদের মৃত্যু হয়।

উদ্ধারকারীদের আশঙ্কা, বাড়িটিতে আরও মরদেহ চাপা পড়ে থাকতে পারে। একটি বাড়ি থেকে একসঙ্গে এত মরদেহ উদ্ধারের পর আশপাশের অন্যান্য বাড়িতেও নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নেপালের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ত্রিশুলি ও ভোতে কোশি নদী অববাহিকা। বন্যা ও ভূমিধসে সড়ক ও সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় দুর্গম এলাকাগুলোতে স্থলপথে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ কারণে বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। দুর্গত এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এদিকে বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রায় ৯০০ কর্মীও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভয়াবহ এই দুর্যোগের ছয় দিন পরও নিখোঁজদের সন্ধান এবং দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়াল, নিখোঁজ ৪৪০০

আপডেট সময় ০৬:০১:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নেপালে ৯৮৭ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। চীনের তিব্বত অঞ্চলে নিহত হয়েছেন আরও ১৬ জন। দুই দেশ মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ১ হাজার ৩ জনে। নেপালে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ।

গত ২৬ আগস্ট হিমালয়ে হিমবাহ ধসে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। এতে নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। পানির প্রবল স্রোত ও ভূমিধসে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু এবং বিভিন্ন অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যায়।

আরও পড়ুন  সকাল থেকে খোঁজাখুঁজি, তেঁতুল গা‌ছের মগডা‌লে বসে ছিল নারী

বন্যার ছয় দিন পরও দুর্গম বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার অভিযান চলছে। এখন পর্যন্ত নেপালে অন্তত ১১ হাজার ৮১৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ৪ হাজার ৪০০ ছাড়িয়ে যাওয়ায় উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

উদ্ধার অভিযানের মধ্যে নেপালের বিদুরে একটি বাড়ি থেকে ২৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বন্যার সময় বাড়িটির ভেতরে এসব মানুষ আটকা পড়েছিলেন বলে জানা গেছে। পরে বন্যার পানির সঙ্গে আসা কাদার নিচে চাপা পড়ে তাদের মৃত্যু হয়।

উদ্ধারকারীদের আশঙ্কা, বাড়িটিতে আরও মরদেহ চাপা পড়ে থাকতে পারে। একটি বাড়ি থেকে একসঙ্গে এত মরদেহ উদ্ধারের পর আশপাশের অন্যান্য বাড়িতেও নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নেপালের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ত্রিশুলি ও ভোতে কোশি নদী অববাহিকা। বন্যা ও ভূমিধসে সড়ক ও সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় দুর্গম এলাকাগুলোতে স্থলপথে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ কারণে বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। দুর্গত এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এদিকে বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রায় ৯০০ কর্মীও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভয়াবহ এই দুর্যোগের ছয় দিন পরও নিখোঁজদের সন্ধান এবং দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।