ঢাকা ০৩:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

হাসপাতাল থেকে ফের কারাগারে ইমরান খান

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৪৭:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 23

ছবি সংগৃহীত

 

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আবার কারাগারে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোরে চিকিৎসকেরা তাকে সুস্থ ঘোষণা করার পর কারাগারে ফেরত পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার। খবর বিবিসির।

তথ্যমন্ত্রী জানান, একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও একজন মেডিসিন চিকিৎসকসহ যোগ্য চিকিৎসকদের একটি দল ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে চলা পুরো চিকিৎসা পরীক্ষার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন বলেও জানান আতাউল্লাহ তারার।

আরও পড়ুন  পাকিস্তানকে মোদির হুঁশিয়ারি: ‘অপারেশন সিন্দুর’ স্থগিত, শেষ নয়

স্বাস্থ্য নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর মঙ্গলবার পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসকদের মাধ্যমে পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। আদালতের নির্দেশে হাসপাতালে নেওয়ার পাশাপাশি তাকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়।

কয়েক মাস ধরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ইমরানের দেখা হয়নি। আদালতের নির্দেশের পর মঙ্গলবার রাতে তার বোন আজমা খান কারাগারে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন।

ইমরানের চিকিৎসাকে কেন্দ্র করে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। সেখানে ব্যারিকেড বসিয়ে পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি পুলিশ ও সাঁজোয়া যান টহল দেয়।

সুপ্রিম কোর্ট ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফকে (পিটিআই) হাসপাতালের সামনে সংবাদ সম্মেলন না করার নির্দেশ দিয়েছে। ইমরানের হাসপাতালে থাকার বিষয়টি যাতে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পরিণত না হয়, সে লক্ষ্যেই আদালত এ নির্দেশ দিয়েছে।

ইমরানের আইনজীবীদের দাবি, তিনি চোখের সমস্যাসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন এবং কারাগারে প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত চিকিৎসা পাচ্ছেন না। গত ফেব্রুয়ারিতে তার এক আইনজীবী দাবি করেছিলেন, কারা কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে ইমরানের ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি ১৫ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

পিটিআই সাধারণত ইমরানের বিরুদ্ধে যাওয়া আদালতের সিদ্ধান্তগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে থাকে। তবে এবার সুপ্রিম কোর্টের হাসপাতালসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা রয়েছে কি না—এমন জল্পনা নিয়ে দলটির পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

মঙ্গলবারের আদেশে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকেরা বলেন, একজন বন্দির জীবন, স্বাস্থ্য, মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষা করা সাংবিধানিক ও আইনি দায়িত্ব। একই সঙ্গে ইমরানের চিকিৎসায় একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

হাসপাতাল থেকে ফের কারাগারে ইমরান খান

আপডেট সময় ১১:৪৭:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

 

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আবার কারাগারে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোরে চিকিৎসকেরা তাকে সুস্থ ঘোষণা করার পর কারাগারে ফেরত পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার। খবর বিবিসির।

তথ্যমন্ত্রী জানান, একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও একজন মেডিসিন চিকিৎসকসহ যোগ্য চিকিৎসকদের একটি দল ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে চলা পুরো চিকিৎসা পরীক্ষার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন বলেও জানান আতাউল্লাহ তারার।

আরও পড়ুন  চীন ও তুরস্কের সহায়তার অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করল পাকিস্তান

স্বাস্থ্য নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর মঙ্গলবার পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসকদের মাধ্যমে পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। আদালতের নির্দেশে হাসপাতালে নেওয়ার পাশাপাশি তাকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়।

কয়েক মাস ধরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ইমরানের দেখা হয়নি। আদালতের নির্দেশের পর মঙ্গলবার রাতে তার বোন আজমা খান কারাগারে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন।

ইমরানের চিকিৎসাকে কেন্দ্র করে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। সেখানে ব্যারিকেড বসিয়ে পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি পুলিশ ও সাঁজোয়া যান টহল দেয়।

সুপ্রিম কোর্ট ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফকে (পিটিআই) হাসপাতালের সামনে সংবাদ সম্মেলন না করার নির্দেশ দিয়েছে। ইমরানের হাসপাতালে থাকার বিষয়টি যাতে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পরিণত না হয়, সে লক্ষ্যেই আদালত এ নির্দেশ দিয়েছে।

ইমরানের আইনজীবীদের দাবি, তিনি চোখের সমস্যাসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন এবং কারাগারে প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত চিকিৎসা পাচ্ছেন না। গত ফেব্রুয়ারিতে তার এক আইনজীবী দাবি করেছিলেন, কারা কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে ইমরানের ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি ১৫ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

পিটিআই সাধারণত ইমরানের বিরুদ্ধে যাওয়া আদালতের সিদ্ধান্তগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে থাকে। তবে এবার সুপ্রিম কোর্টের হাসপাতালসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা রয়েছে কি না—এমন জল্পনা নিয়ে দলটির পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

মঙ্গলবারের আদেশে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকেরা বলেন, একজন বন্দির জীবন, স্বাস্থ্য, মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষা করা সাংবিধানিক ও আইনি দায়িত্ব। একই সঙ্গে ইমরানের চিকিৎসায় একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়।