যানজট নিয়ন্ত্রণে রাজধানীতে যুক্ত হচ্ছে ড্রোন
- আপডেট সময় ০২:১৭:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
- / 19
রাজধানীর যানজট নিয়ন্ত্রণ ও সড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফেরাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ক্যামেরার পর এবার ড্রোন সার্ভিলেন্স চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। পরীক্ষামূলকভাবে একটি ড্রোন দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও যানজটপ্রবণ এলাকায় রিয়েল টাইম তথ্য সংগ্রহ করা হবে। পরে অটোমেটেড নম্বর প্লেট রিকগনিশন (এএনপিআর) প্রযুক্তি যুক্ত করে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় ভিডিও মামলা করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
সম্প্রতি ডিএমপি সদর দপ্তরে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ পরিকল্পনার কথা জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান।
তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে ড্রোন সার্ভিলেন্স ব্যবহৃত হলেও ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এটি নতুন একটি ধারণা। সড়কের পাশাপাশি ফ্লাইওভার ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতেও অনেক সময় যানজট তৈরি হয়। কিন্তু এসব যানজটের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে ড্রোন ব্যবহার করা গেলে সরাসরি রিয়েল টাইম তথ্য পাওয়া যাবে এবং সেই অনুযায়ী দ্রুত নির্দেশনা দেওয়া সহজ হবে।
আনিছুর রহমান জানান, ড্রোনের সঙ্গে এএনপিআর প্রযুক্তি যুক্ত করা গেলে এর মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহন শনাক্ত করে ভিডিও মামলা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
ড্রোনে শব্দ বা ভয়েস ব্যবস্থাও রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে যানজট সৃষ্টি করা কোনো যানবাহনকে ঘটনাস্থল থেকেই সতর্ক করা যাবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, কোনো গাড়ি যানজট সৃষ্টি করলে ড্রোন থেকে চালককে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, ড্রোনের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি আইন লঙ্ঘনের ঘটনাও শনাক্ত করা সম্ভব হবে। তবে পুরো উদ্যোগটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। একটি সংস্থা পরীক্ষামূলকভাবে ডিএমপিকে একটি ড্রোন দিয়েছে এবং সেটি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। দ্রুত মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করার আশা করছে ডিএমপি।
ড্রোন থেকে সরাসরি রিয়েল টাইম তথ্য পাওয়া সম্ভব কি না জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, তা সম্ভব। তবে এ জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, সার্ভার ও ইন্টারনেট সুবিধা লাগবে। এসব ব্যবস্থার সঙ্গে ব্যয়ের বিষয়টিও জড়িত।
ড্রোনের ফুটেজের ভিত্তিতে মামলা স্বয়ংক্রিয়ভাবে হবে কি না—এ বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা দেওয়ার পর্যায়ে যায়নি ডিএমপি। প্রযুক্তিগতভাবে এটি সম্ভব হলেও ভুলের আশঙ্কা থাকায় ফুটেজ আগে বিশ্লেষণ করা হবে। এরপর প্রয়োজন হলে মামলা দেওয়া হবে।
আনিছুর রহমান বলেন, মামলার সংখ্যা দিয়ে ট্রাফিক পুলিশের কাজের মান বিচার করা উচিত নয়। বেশি মামলা হওয়ার অর্থ বেশি মানুষ ট্রাফিক আইন ভাঙছে। ডিএমপির লক্ষ্য বেশি মামলা দেওয়া নয়; বরং মানুষকে সড়ক আইন মেনে চলতে অভ্যস্ত করা।
ড্রোন পরিচালনার জন্য ডিএমপির সদস্যদের প্রশিক্ষণও শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে তেজগাঁও বিভাগ থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে এবং সেখানে একটি দল প্রশিক্ষণ নিয়েছে। পরবর্তী ধাপে উত্তরা বিভাগের সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আগামী সপ্তাহ থেকে তাদের প্রশিক্ষণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
ডিএমপির ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তি ব্যবহারের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে এআই ক্যামেরা নিয়েও কাজ শুরু হয়েছে। আনিছুর রহমান জানান, শাহবাগ থেকে শুরু করে ১৪টি এবং লেক রোডে একটি—মোট ১৫টি ট্রাফিক সিগন্যাল এআই প্রযুক্তির আওতায় আনা হয়েছে। এর বাইরে ডিএমপির আরও কিছু সিগন্যাল রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রথমে এআইভিত্তিক ব্যবস্থা কার্যকর কি না, তা যাচাই করা হয়েছে। বর্তমানে এটি কাজ করছে, যদিও কিছু সমস্যা রয়েছে। ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলার অভ্যাস তৈরি করতেও সময় লাগছে।
ঢাকার যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে বাসের অনিয়মিত থামার বিষয়টিও তুলে ধরেন এই কর্মকর্তা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক বাস নির্দিষ্ট বাসস্টপে না থেমে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করায় পেছনে যানজট তৈরি হয়। বাস মালিকদের সঙ্গে চালকদের দৈনিক টাকার চুক্তির কারণে যাত্রী পাওয়ার জন্য বাসগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উন্নত দেশগুলোতে নির্দিষ্ট সময় ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাস চলাচল করলেও দেশে সে ধরনের ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি বলে জানান তিনি। তার মতে, ই-টিকিটিং ব্যবস্থা ও বাস রুট রেশনালাইজেশন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত বাসকেন্দ্রিক যানজট ও ভোগান্তি পুরোপুরি কমানো কঠিন।
ড্রোন সার্ভিলেন্স চালুর ক্ষেত্রেও সময় লাগবে বলে জানান আনিছুর রহমান। তিনি বলেন, এটি আগে পরীক্ষা করে দেখা হবে। ব্যবহারের সময় কোনো নেতিবাচক দিক পাওয়া গেলে ড্রোন ব্যবস্থা চালু করা হবে না।






















