মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ ট্রাম্পের
- আপডেট সময় ১১:৫৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
- / 26
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে একাধিক গোয়েন্দা নথি প্রকাশ করেছেন। তবে তার এই দাবি যুক্তরাষ্ট্রের আগের সরকারি গোয়েন্দা মূল্যায়নের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যেখানে নির্বাচনের ফলাফলে চীনের প্রভাবের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) প্রায় ২৫ মিনিটের বক্তব্যে ট্রাম্প দাবি করেন, চীন অবৈধভাবে প্রায় ২২ কোটি মার্কিন ভোটারের তথ্য সংগ্রহ করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব তথ্যের মধ্যে ভোটারদের নাম, ঠিকানা এবং ভোটার নিবন্ধনের বিভিন্ন তথ্য রয়েছে।
ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার কয়েকজন কর্মকর্তা ইচ্ছাকৃতভাবে চীনের কর্মকাণ্ড-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রেখেছেন।
তবে ২০২১ সালে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর যৌথ মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছিল, ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটার নিবন্ধন, ভোটগ্রহণ, ভোট গণনা বা ফলাফল পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে কোনো বিদেশি শক্তি প্রযুক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ করেছে—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ওই মূল্যায়ন ট্রাম্প প্রশাসনের তৎকালীন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জন র্যাটক্লিফের নেতৃত্বে প্রস্তুত করা হয়েছিল।
আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী (মিডটার্ম) নির্বাচনকে সামনে রেখে ট্রাম্প আবারও নির্বাচনী নিরাপত্তাকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি রিপাবলিকানদের প্রতি ভোটদানে বাধ্যতামূলক পরিচয়পত্র ও নাগরিকত্ব যাচাইয়ের বিধান চালুর আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের বিভিন্ন তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির ঘটনা অত্যন্ত বিরল বলে উঠে এসেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্পের বক্তব্যের আগে হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মকর্তা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, চীন-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের চীনবিরোধী কঠোর অবস্থান এমন সময়ে সামনে এলো, যখন গত বছরের ব্যয়বহুল বাণিজ্যযুদ্ধের পর ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। আগামী সেপ্টেম্বরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নয়ন নিয়ে বৈঠকের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন ট্রাম্প।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ চ্যাং ট্রাম্পের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, চীন কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।
২০২০ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের কাছে পরাজয়ের পর থেকেই ট্রাম্প বারবার নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে আসছেন। তিনি ডাকযোগে ভোট, ভোটিং মেশিন এবং অ-নাগরিকদের ভোটদান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আদালতের পর্যালোচনা এবং একাধিকবার ভোট পুনর্গণনার পরও বড় ধরনের কোনো জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্পের দাবি, প্রকাশিত নথিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থার ‘ভয়াবহ দুর্বলতা’ তুলে ধরবে। তবে নথিগুলোর অনেকগুলোই তার দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
প্রকাশিত একটি সিআইএ নথিতে যুক্তরাষ্ট্র নয়, ভেনেজুয়েলার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আরেকটি নথিতে বলা হয়েছে, ভোট গণনার ব্যবস্থায় এমনভাবে হস্তক্ষেপ করা অত্যন্ত কঠিন, যাতে নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তন করা সম্ভব হয়।
আরও একটি সিআইএ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চীনা গোয়েন্দারা জো বাইডেনের নির্বাচনী প্রচারণাকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল। তবে একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের নির্বাচনের ফল পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে গোপনে হস্তক্ষেপের কোনো পরিকল্পনা তখন চীনের ছিল না, যদিও ভবিষ্যতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
এদিকে সিনেটের গোয়েন্দা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার ট্রাম্পের অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর অভিন্ন মূল্যায়ন হলো—২০২০ সালের নির্বাচনে চীন একটি ভোটও পরিবর্তনের চেষ্টা করেনি।























