যুক্তরাষ্ট্র ‘দস্যু রাষ্ট্রে’ রূপ নিয়েছে: ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট
- আপডেট সময় ০৫:৪৯:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
- / 14
হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী কার্গো জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা।
সোমবার, ১৪ জুলাই সাও পাওলো অঙ্গরাজ্যে এক জনসমাবেশে তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘দস্যু রাষ্ট্রে’ পরিণত হবে।
লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আশারাক আল-আওসাতের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ঘোষণা দেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত সব ধরনের কার্গোর ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এ ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
লুলা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি বড় দেশকে তিনি দীর্ঘদিন জলদস্যুতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে দেখেছেন বলে বিশ্বাস করেন। তাই এমন একটি দেশ নিজেরাই জলদস্যুর ভূমিকায় যেতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্পের ঘোষণার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার দায়িত্ব যে পক্ষ পালন করে, তাদের সেই সেবার বিনিময়ে পারিশ্রমিক পাওয়ার যৌক্তিকতা রয়েছে।
তাঁর ভাষ্য, ইরান সবসময় এই প্রণালীর অভিভাবক ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। তবে ২০ শতাংশ শুল্ককে তিনি অনেক বেশি উল্লেখ করে বলেন, ইরান ন্যায্য অবস্থান নেবে।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া আরেক পোস্টে ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালীর ইরানি বন্দরগুলোর ওপর পুনরায় অবরোধ কার্যকর করা হবে এবং ওই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত সব ধরনের কার্গোর ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। তাঁর দাবি, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র যে ব্যয় বহন করছে, সেই ব্যয় মেটাতেই এ অর্থ ব্যবহার করা হবে।
ট্রাম্প আরও বলেন, হরমুজ প্রণালী খোলা থাকবে—ইরান থাকুক বা না থাকুক। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পুনর্বহাল করা অবরোধ শুধু ইরানের জাহাজ বা ইরানের গ্রাহকদের প্রবেশ ও প্রস্থান সীমিত করবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, এই অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হওয়া ব্যয়ের বিপরীতে সব কার্গো জাহাজ থেকে ২০ শতাংশ হারে অর্থ আদায় করা হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, পরিকল্পনাটি দ্রুত কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে এটি বাস্তবায়নের পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
এর আগে ফক্স নিউজের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে টেলিফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও ট্রাম্প একই পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেন। সেখানে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নেবে এবং এর বিনিময়ে পারিশ্রমিক পাওয়া উচিত। তাঁর ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র প্রণালীটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং প্রয়োজনে এর পরিচালনার দায়িত্বও নিতে পারে।
বিশ্বের তেল সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরানের কার্যকর অবরোধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এদিকে সোমবার এক বিবৃতিতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস জানায়, হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক নৌপরিবহন পুনরুদ্ধারের একমাত্র উপায় হলো ওই জলপথে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস খাতে আরও বড় ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
























