ঢাকা ১১:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :

কি লেখা ছিল এপস্টেইনের “সুইসাইড নোটে”

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:১৭:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
  • / 100

ছবি: সংগৃহীত

 

যৌন পাচারের দায়ে অভিযুক্ত ও কারাগারে মৃত অবস্থায় পাওয়া মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টেইনের হাতে লেখা একটি ‘সুইসাইড নোট’ বা আত্মহননের চিরকুট জনসমক্ষে প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন ফেডারেল বিচারক।
স্থানীয় সময় বুধবার (৬ মে) প্রকাশিত এই নথিতে এপস্টেইন পৃথিবীকে বিদায় জানানোর সময় নিজে বেছে নিতে পারাকে ‘আনন্দের বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে। ২০১৯ সালে ম্যানহাটনের কারাগারে থাকাকালীন তার রহস্যজনক মৃত্যুর দীর্ঘ সময় পর এই নথিটি প্রকাশ্যে এলো।

নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনের সূত্র ধরে মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ কেনেথ কারাস এই নথিটি প্রকাশের আদেশ দেন। এটি মূলত খুনের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা এবং এপস্টেইনের সাবেক সেলমেট নিকোলাস টারটাগ্লিওনের মামলার প্রেক্ষিতে আদালতে জমা দেওয়া হয়েছিল।
বিচারক কারাস তার রায়ে উল্লেখ করেন, এটি একটি বিচার বিভাগীয় নথি এবং জনস্বার্থে এটি উন্মুক্ত রাখা প্রয়োজন। তবে আদালতের পক্ষ থেকে এই নোটের সত্যতা বা এর হাতবদলের পর্যায়গুলো নিশ্চিত করা হয়নি।

আরও পড়ুন  মার্কিন গাড়ি শিল্পে স্বস্তি আনতে শুল্ক হ্রাসের পথে ট্রাম্প প্রশাসন

প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, একটি হলুদ লিগ্যাল প্যাডে হাতে লেখা এই নোটটি টারটাগ্লিওনের আইনজীবীরা আদালতে উপস্থাপন করেন। এতে লেখা ছিল, কর্তৃপক্ষ দীর্ঘ সময় তদন্ত করেও তার বিরুদ্ধে কিছু পায়নি, তবুও ১৫ বছর আগের পুরনো অভিযোগগুলো সামনে আনা হয়েছে।
নোটটিতে আরও উল্লেখ করা হয়, “বিদায় জানানোর সময়টি নিজে বেছে নিতে পারা একটি আনন্দের বিষয়। তোমরা আমার কাছে কী চাও—আমি কি কান্নায় ভেঙে পড়ব! এতে কোনো মজা নেই—এটা এর যোগ্যও নয়।”

এপস্টেইনের সাবেক সেলমেট টারটাগ্লিওনের দাবি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের জুলাই মাসে যখন এপস্টেইন প্রথমবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে খবর রটেছিল, তখন তাদের সেলের একটি বইয়ের ভেতর চিরকুটটি লুকিয়ে রাখা ছিল।
এর কয়েক সপ্তাহ পর ১০ আগস্ট ২০১৯ তারিখে অন্য একটি ঘটনায় এপস্টেইনের মৃত্যু হয়। সেই সময়ে মেডিকেল পরীক্ষা শেষে তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে ফ্লোরিডায় এক নাবালিকার সঙ্গে যৌন সংসর্গের অভিযোগে এপস্টেইন দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের জুলাই মাসে তার বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক ও ফ্লোরিডায় অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন পাচার ও নির্যাতনের নতুন অভিযোগ আনা হয়।
ফেডারেল তদন্তকারীরা আগে এই নোটটির অস্তিত্ব সম্পর্কে জানতেন না বলে গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। বিচারক তার পর্যবেক্ষণে বলেন, এপস্টেইনের মৃত্যু নিয়ে জনমনে ব্যাপক আগ্রহ থাকায় ব্যক্তিগত গোপনীয়তার চেয়ে তথ্যের স্বচ্ছতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

কি লেখা ছিল এপস্টেইনের “সুইসাইড নোটে”

আপডেট সময় ০১:১৭:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

 

যৌন পাচারের দায়ে অভিযুক্ত ও কারাগারে মৃত অবস্থায় পাওয়া মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টেইনের হাতে লেখা একটি ‘সুইসাইড নোট’ বা আত্মহননের চিরকুট জনসমক্ষে প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন ফেডারেল বিচারক।
স্থানীয় সময় বুধবার (৬ মে) প্রকাশিত এই নথিতে এপস্টেইন পৃথিবীকে বিদায় জানানোর সময় নিজে বেছে নিতে পারাকে ‘আনন্দের বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে। ২০১৯ সালে ম্যানহাটনের কারাগারে থাকাকালীন তার রহস্যজনক মৃত্যুর দীর্ঘ সময় পর এই নথিটি প্রকাশ্যে এলো।

নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনের সূত্র ধরে মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ কেনেথ কারাস এই নথিটি প্রকাশের আদেশ দেন। এটি মূলত খুনের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা এবং এপস্টেইনের সাবেক সেলমেট নিকোলাস টারটাগ্লিওনের মামলার প্রেক্ষিতে আদালতে জমা দেওয়া হয়েছিল।
বিচারক কারাস তার রায়ে উল্লেখ করেন, এটি একটি বিচার বিভাগীয় নথি এবং জনস্বার্থে এটি উন্মুক্ত রাখা প্রয়োজন। তবে আদালতের পক্ষ থেকে এই নোটের সত্যতা বা এর হাতবদলের পর্যায়গুলো নিশ্চিত করা হয়নি।

আরও পড়ুন  মধ্যপ্রাচ্যের ১৫ দেশ ছাড়ার জরুরি নির্দেশ দিল যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, একটি হলুদ লিগ্যাল প্যাডে হাতে লেখা এই নোটটি টারটাগ্লিওনের আইনজীবীরা আদালতে উপস্থাপন করেন। এতে লেখা ছিল, কর্তৃপক্ষ দীর্ঘ সময় তদন্ত করেও তার বিরুদ্ধে কিছু পায়নি, তবুও ১৫ বছর আগের পুরনো অভিযোগগুলো সামনে আনা হয়েছে।
নোটটিতে আরও উল্লেখ করা হয়, “বিদায় জানানোর সময়টি নিজে বেছে নিতে পারা একটি আনন্দের বিষয়। তোমরা আমার কাছে কী চাও—আমি কি কান্নায় ভেঙে পড়ব! এতে কোনো মজা নেই—এটা এর যোগ্যও নয়।”

এপস্টেইনের সাবেক সেলমেট টারটাগ্লিওনের দাবি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের জুলাই মাসে যখন এপস্টেইন প্রথমবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে খবর রটেছিল, তখন তাদের সেলের একটি বইয়ের ভেতর চিরকুটটি লুকিয়ে রাখা ছিল।
এর কয়েক সপ্তাহ পর ১০ আগস্ট ২০১৯ তারিখে অন্য একটি ঘটনায় এপস্টেইনের মৃত্যু হয়। সেই সময়ে মেডিকেল পরীক্ষা শেষে তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে ফ্লোরিডায় এক নাবালিকার সঙ্গে যৌন সংসর্গের অভিযোগে এপস্টেইন দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের জুলাই মাসে তার বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক ও ফ্লোরিডায় অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন পাচার ও নির্যাতনের নতুন অভিযোগ আনা হয়।
ফেডারেল তদন্তকারীরা আগে এই নোটটির অস্তিত্ব সম্পর্কে জানতেন না বলে গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। বিচারক তার পর্যবেক্ষণে বলেন, এপস্টেইনের মৃত্যু নিয়ে জনমনে ব্যাপক আগ্রহ থাকায় ব্যক্তিগত গোপনীয়তার চেয়ে তথ্যের স্বচ্ছতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।