রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও বরিশালে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের আন্দোলন
- আপডেট সময় ০৪:২০:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
- / 15
বৈরী আবহাওয়া, বন্যা পরিস্থিতি ও পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও বরিশালে বিক্ষোভ করেছেন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবস্থান নিয়ে তারা পরীক্ষা পেছানো, পুনঃপরীক্ষার সুযোগ এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবি জানান। কয়েকটি স্থানে সড়ক অবরোধের কারণে যান চলাচলও ব্যাহত হয়।
রাজশাহীতে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন পরীক্ষার্থীরা। এ সময় তারা শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও শিক্ষা বোর্ড-সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, বন্যা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিশেষ করে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন বহু পরীক্ষার্থী চরম ভোগান্তির মধ্যে পরীক্ষা দিয়েছেন এবং প্রায় ১১ হাজার পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। তারা পুনঃপরীক্ষার সুযোগ, সারাদেশে পরবর্তী পরীক্ষা স্থগিত, প্রশ্নপত্র সহজ করা এবং বিভিন্ন ত্রুটির সমাধানের দাবি জানান। পরে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা দুই দফায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বললেও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেননি।
ময়মনসিংহে দুপুর ১২টার দিকে টাউন হল মোড় এলাকায় ‘এইচএসসি শিক্ষার্থী’ ব্যানারে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন বিভিন্ন কলেজের পরীক্ষার্থীরা। এতে ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। আন্দোলনকারীরা নিরাপদ পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণ, যৌক্তিক কারণে অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের পুনঃপরীক্ষার সুযোগ, প্রশ্নপত্রের মানদণ্ড পুনর্বিবেচনা এবং শিক্ষামন্ত্রীর জবাবদিহি ও পদত্যাগসহ চার দফা দাবি জানান। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়ায় তারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আসাদুজ্জামান শাকিল বলেন, শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছেন এবং তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
বরিশালেও শিক্ষা বোর্ডের সামনে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন বিভিন্ন কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। দুপুরে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পরীক্ষা গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন। একপর্যায়ে তারা সড়কে অবস্থান নিলে প্রায় এক ঘণ্টা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পরীক্ষা দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত দাবি বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে। পরে প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আলোচনা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।






















