হরমুজ উত্তেজনার মধ্যেই ইরানে তৃতীয় দফায় মার্কিন হামলা
- আপডেট সময় ১১:১৫:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
- / 25
হরমুজ প্রণালিতে একটি কন্টেইনার জাহাজে হামলার ঘটনার পর ইরানে তৃতীয় দফায় রাতভর সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে ইরান হরমুজ প্রণালি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। রোববার (১২ জুলাই) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা প্রত্যাহার করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, কূটনৈতিক আলোচনার পথ এখনো উন্মুক্ত রয়েছে।
ইরান জানিয়েছে, অননুমোদিত নৌপথ ব্যবহার করে চলাচলের চেষ্টা করা একটি জাহাজের উদ্দেশে সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ার পর হরমুজ প্রণালি সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনার কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলেও দেশটির পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, হামলার শিকার জাহাজটি ছিল সাইপ্রাসের পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজ এম/ভি জিএফএস গ্যালাক্সি। হামলায় জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একজন বেসামরিক নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাত উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কার্যকর অবরোধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে, যা বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির ওপরও প্রভাব ফেলছে।
ইরানের ভাষ্য, কয়েকটি জাহাজ ‘অননুমোদিত নৌপথ’ ব্যবহার করে অতিক্রমের চেষ্টা করেছিল। তাদের গতিপথ পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হলেও তা মানা হয়নি।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না।
অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, আইআরজিসির বিবৃতি প্রকাশের প্রায় এক ঘণ্টা পর শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে সামরিক অভিযান শুরু হয়। এর আগে ইরান সতর্ক করে বলেছিল, কন্টেইনার জাহাজে হামলার ঘটনার জেরে যুক্তরাষ্ট্র কোনো পদক্ষেপ নিলে মধ্যপ্রাচ্যে ‘শত্রুদের নতুন ঘাঁটি’ লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
























