সাবমেরিন থেকে চীনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, প্রতিবেশীদের উদ্বেগ
- আপডেট সময় ০৪:৫০:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
- / 22
প্রশান্ত মহাসাগরে সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (এসএলবিএম) পরীক্ষা চালিয়েছে চীন। দেশটির দাবি, এটি বার্ষিক সামরিক প্রশিক্ষণের অংশ। তবে এ পরীক্ষাকে ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। দুই দেশই বলেছে, এ ধরনের পদক্ষেপ অঞ্চলটির শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সোমবার (৬ জুলাই) চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) নৌবাহিনীর মুখপাত্র সিনিয়র ক্যাপ্টেন ওয়াং সুয়েমেং এক বিবৃতিতে জানান, পিএলএর একটি সাবমেরিন থেকে ডামি বা নকল ওয়ারহেড বহনকারী একটি কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র প্রশান্ত মহাসাগরের উন্মুক্ত সমুদ্রাঞ্চলের নির্ধারিত জলসীমায় উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রটি নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানে।
তিনি বলেন, এ পরীক্ষা চীনের বার্ষিক সামরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অংশ। পরীক্ষার আগে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে অবহিত করা হয়েছিল এবং পুরো কার্যক্রম আন্তর্জাতিক আইন ও প্রচলিত রীতিনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
বেইজিং পরীক্ষায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের ধরন প্রকাশ করেনি। বর্তমানে চীনের নৌবাহিনীর কাছে জেএল-২ এবং জেএল-৩ নামে দুটি সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, জেএল-৩-এর পাল্লা এতটাই দীর্ঘ যে চীনের উপকূলবর্তী জলসীমা থেকেই এটি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে পৌঁছাতে সক্ষম।
চীনের প্রধান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন টাইপ-০৯৪ বা ‘জিন ক্লাস’। বর্তমানে দেশটি এ ধরনের ছয়টি সাবমেরিন পরিচালনা করছে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)-এর মিসাইল ডিফেন্স প্রজেক্টের তথ্য অনুযায়ী, জেএল-৩ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম পরীক্ষা চালানো হয় ২০১৮ সালে এবং পরের বছর আরও একটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
চীনের এই পদক্ষেপে উদ্বেগ প্রকাশ করে নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স বলেন, উৎক্ষেপণ করা ক্ষেপণাস্ত্রটি দক্ষিণ প্রশান্ত পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত অঞ্চলের জলসীমায় নিক্ষেপ করা হয়েছে। তিনি বলেন, নিউজিল্যান্ড এ ঘটনাকে অযাচিত ও উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছে এবং অঞ্চলটিকে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংও এ পরীক্ষাকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নেতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, চীনের দ্রুত সামরিক শক্তি বৃদ্ধি, স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যার অভাবের প্রেক্ষাপটে এ ঘটনাকে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, এ ঘটনা ২০২৪ সালে চীনের আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। তিনি এ ধরনের সামরিক পরীক্ষা স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত না করার আহ্বান জানান।
তবে পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশগুলোর জন্য ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়মিত সামরিক কার্যক্রমের অংশ। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ট্রাইডেন্ট ক্ষেপণাস্ত্রের একাধিক পরীক্ষা চালায়। একই সময়ে ভারত ও রাশিয়াও সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা সম্পন্ন করে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামগ্রিক পারমাণবিক সক্ষমতা জোরদারের অংশ হিসেবে চীন ধারাবাহিকভাবে তার পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন বহর সম্প্রসারণ করছে।























