২৯০ কিমি বেগে গুয়ামে আঘাত হানল সুপার টাইফুন ‘বাভি’
- আপডেট সময় ১১:৫৭:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
- / 22
ঘণ্টায় প্রায় ২৯০ কিলোমিটার বেগের বাতাস নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপাঞ্চল গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হেনেছে সুপার টাইফুন ‘বাভি’। প্রবল ঝড় ও ভারি বৃষ্টিতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কার পাশাপাশি হতাহতের শঙ্কার কথাও জানিয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, টাইফুনটি ঘণ্টায় প্রায় ২৯০ কিলোমিটার বেগের স্থায়ী বাতাস এবং ঘণ্টায় ৩৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত দমকা হাওয়া নিয়ে গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জ অতিক্রম করছে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, ঝড়ের কারণে সমুদ্রে প্রায় ১১ মিটার উচ্চতার ঢেউ সৃষ্টি হতে পারে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
ঝড় আঘাত হানার আগে বহু বাসিন্দা নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যান এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেন। এনডব্লিউএস জানায়, নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণাঞ্চলের জনবসতিপূর্ণ রোটা দ্বীপে সরাসরি আঘাত হেনেছে ‘বাভি’। দ্বীপটি গুয়াম থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত।
রোটার মেয়র কার্যালয় বাসিন্দাদের ধ্বংসাত্মক বাতাসের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে আবহাওয়ার দ্রুত অবনতির কারণে অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রোটার মেয়র কার্যালয়ের এক মুখপাত্র এএফপিকে বলেন, প্রবল বাতাস ও বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির একাধিক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা চলছে।
এদিকে রোটার উত্তরের সাইপান দ্বীপের বিমানবন্দরে ঘণ্টায় ১৬১ কিলোমিটারের বেশি গতির দমকা বাতাস রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ মার্কাস ল্যান্ডন আইডলেট। তিনি বলেন, গত এপ্রিলে সুপার টাইফুন ‘সিনলাকু’র ক্ষতি থেকে অনেক মানুষ এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারেননি। ওই ঝড়ে গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে ১৭ জন নিহত হন এবং প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।
এনডব্লিউএস জানিয়েছে, সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরের আগে পর্যন্ত ঝড়ের তীব্রতা কমার সম্ভাবনা নেই। পরে এটি ধীরে ধীরে ক্রান্তীয় ঝড়ে রূপ নিতে পারে।
প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার মানুষের বসবাসকারী পর্যটনকেন্দ্র গুয়ামে ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের জন্য পাঁচটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে প্রায় এক হাজার ৭০০ জন আশ্রয় নিতে পারবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টার (জেটিডব্লিউসি) ‘বাভি’কে সুপার টাইফুন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ঘণ্টায় ২৪০ কিলোমিটারের বেশি গতির বাতাস থাকলে কোনো টাইফুনকে সুপার টাইফুন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এনডব্লিউএসের মতে, এর ধ্বংসক্ষমতা ক্যাটাগরি-৪ বা ক্যাটাগরি-৫ হারিকেনের সমতুল্য।























