মালয়েশিয়ায় অভিযানে বাংলাদেশিসহ ২০০ অভিবাসী আটক
- আপডেট সময় ১১:৪৫:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
- / 21
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে বাংলাদেশিসহ সাত দেশের ২০০ বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম)। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজধানীর অন্যান্য রাতের বাজার ও বিদেশিদের সমাগমস্থলেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
রোববার (৫ জুলাই) সন্ধ্যায় কুয়ালালামপুরের চেরাস এলাকার তামান মালুরি রাতের বাজারে (পাসার মালাম) এ অভিযান পরিচালিত হয় বলে দেশটির সংবাদমাধ্যম হারিয়ান মেট্রো জানিয়েছে।
অভিবাসন বিভাগ জানায়, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ এবং দুই সপ্তাহের গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে ‘অপ কুটিপ’ নামে বিশেষ এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। কুয়ালালামপুর ও পুত্রাজায়ার অভিবাসন বিভাগের কর্মকর্তারা কুয়ালালামপুর সিটি হলের (ডিবিকেএল) সহযোগিতায় অভিযানটি পরিচালনা করেন।
অভিযানে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, আটক হওয়া অধিকাংশ বিদেশি বাজারে কাঁচাবাজার, মাছ-মাংস, রান্নার উপকরণ ও প্রস্তুত খাবার কিনতে এসেছিলেন। প্রতিদিনের মতো ওই সময়েও বাজারে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক বিদেশি শ্রমিক ও অভিবাসীর উপস্থিতি ছিল।
কুয়ালালামপুর অভিবাসন বিভাগের পরিচালক হামশা ইনজাউ জানান, অভিযানে মোট ৫০০ জনের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। তাদের মধ্যে ৪০৭ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন মালয়েশিয়ার নাগরিক ছিলেন। যাচাই শেষে ২০০ জনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১২৫ জন পুরুষ ও ৭৫ জন নারী। তারা বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম, চীন, পাকিস্তান ও ভারতের নাগরিক।
অভিবাসন বিভাগের ভাষ্য, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান, বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকা, পাসের অপব্যবহার, পাসের শর্ত লঙ্ঘনসহ ১৯৫৯/৬৩ সালের অভিবাসন আইন অনুযায়ী বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেছে। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুয়ালালামপুর সিটি হলের এনফোর্সমেন্ট পরিচালক মোহদ মুজ্জামের জামালউদ্দিন বলেন, তাদের পর্যবেক্ষণে আটক হওয়া অধিকাংশ বিদেশি বাজারে ক্রেতা হিসেবে এসেছিলেন। স্থানীয় ব্যবসা পরিচালনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অভিযান-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে হামশা ইনজাউ বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসীদের নিয়োগদাতা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক, দালালচক্র, এজেন্ট এবং যারা তাদের আশ্রয় বা সহযোগিতা দেন, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।























