ঢাকা ০৮:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

খামেনির জানাজার মধ্যেই ট্রাম্পের কটাক্ষ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:১১:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
  • / 20

ছবি: সংগৃহীত

 

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে নিয়ে দেওয়া এক বক্তব্যে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র দেশটিকে ‘ভয়াবহভাবে আঘাত করেছে’ এবং অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য ‘এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে’। তার এ মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) প্রকাশিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন  খামেনির দাফন ঘিরে উদ্বিগ্ন ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে মাউন্ট রাশমোরের কাছে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা একদিনেই ভেনেজুয়েলাকে হারিয়েছি এবং ইরানকে ভয়াবহভাবে আঘাত করেছি। তারা এখন সমঝোতার জন্য মরিয়া। আমরা তাদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য এক সপ্তাহ সময় দিয়েছি, কারণ আমরা ভালো মানুষ।’

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলায় আলি খামেনি নিহত হন। ওই হামলার পরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাফনের বিধান থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া বিলম্বিত হয়।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও এর পরও মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক দফা গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে যুদ্ধবিরতির পরিস্থিতি কিছুটা অনিশ্চিত হয়ে ওঠে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘর্ষের মাত্রা কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

৪ জুলাই থেকে শুরু হওয়া রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কর্মসূচি ছয় দিন চলবে। এর অংশ হিসেবে ৭ জুলাই কোম শহরে ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। পরে ৯ জুলাই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পবিত্র শহর মাশহাদে, যা আলি খামেনির জন্মস্থান, সেখানে তাকে দাফন করা হবে।

রাষ্ট্রীয় জানাজাকে কেন্দ্র করে তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আলি খামেনির ছবি সংবলিত পোস্টার ও বিলবোর্ড টানানো হয়েছে। রাজধানীর গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে কয়েকজন শোকাহতকে ট্রাম্পবিরোধী স্লোগানসংবলিত ব্যানার বহন করতেও দেখা যায়।

ভারতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি আয়াতুল্লাহ হাকিম এলাহির বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে আলি খামেনির ছেলে এবং বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি প্রকাশ্যে তার বাবার শেষকৃত্যে অংশ নেবেন না। ইসরাইলের সম্ভাব্য হুমকি ও নজরদারির ঝুঁকির কারণেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেষকৃত্যে আলি খামেনির কফিনের পাশে তার ১৪ মাস বয়সী নাতনির ছোট একটি কফিনও রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় ওই শিশুসহ খামেনির পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি।

নিউজটি শেয়ার করুন

খামেনির জানাজার মধ্যেই ট্রাম্পের কটাক্ষ

আপডেট সময় ০৫:১১:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

 

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে নিয়ে দেওয়া এক বক্তব্যে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র দেশটিকে ‘ভয়াবহভাবে আঘাত করেছে’ এবং অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য ‘এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে’। তার এ মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) প্রকাশিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন  খামেনির দাফন ঘিরে উদ্বিগ্ন ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে মাউন্ট রাশমোরের কাছে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা একদিনেই ভেনেজুয়েলাকে হারিয়েছি এবং ইরানকে ভয়াবহভাবে আঘাত করেছি। তারা এখন সমঝোতার জন্য মরিয়া। আমরা তাদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য এক সপ্তাহ সময় দিয়েছি, কারণ আমরা ভালো মানুষ।’

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলায় আলি খামেনি নিহত হন। ওই হামলার পরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাফনের বিধান থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া বিলম্বিত হয়।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও এর পরও মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক দফা গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে যুদ্ধবিরতির পরিস্থিতি কিছুটা অনিশ্চিত হয়ে ওঠে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘর্ষের মাত্রা কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

৪ জুলাই থেকে শুরু হওয়া রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কর্মসূচি ছয় দিন চলবে। এর অংশ হিসেবে ৭ জুলাই কোম শহরে ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। পরে ৯ জুলাই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পবিত্র শহর মাশহাদে, যা আলি খামেনির জন্মস্থান, সেখানে তাকে দাফন করা হবে।

রাষ্ট্রীয় জানাজাকে কেন্দ্র করে তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আলি খামেনির ছবি সংবলিত পোস্টার ও বিলবোর্ড টানানো হয়েছে। রাজধানীর গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে কয়েকজন শোকাহতকে ট্রাম্পবিরোধী স্লোগানসংবলিত ব্যানার বহন করতেও দেখা যায়।

ভারতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি আয়াতুল্লাহ হাকিম এলাহির বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে আলি খামেনির ছেলে এবং বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি প্রকাশ্যে তার বাবার শেষকৃত্যে অংশ নেবেন না। ইসরাইলের সম্ভাব্য হুমকি ও নজরদারির ঝুঁকির কারণেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেষকৃত্যে আলি খামেনির কফিনের পাশে তার ১৪ মাস বয়সী নাতনির ছোট একটি কফিনও রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় ওই শিশুসহ খামেনির পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি।