ভূমিকম্পের ৬ দিন পর শিশুকে জীবিত উদ্ধার
- আপডেট সময় ১০:১৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
- / 27
ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ছয় দিন পর তিন বছর বয়সী এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর এই উদ্ধার অভিযানে নতুন আশার সঞ্চার হলেও দেশটিতে এখনো হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এ পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার মানুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৫০ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
বুধবার, ১ জুলাই প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের ছয় দিন পরও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দেশি-বিদেশি উদ্ধারকারী দলগুলো অনুসন্ধান অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে জর্ডানের একটি উদ্ধারকারী দল লা গুয়াইরা রাজ্যের ধ্বংসস্তূপ থেকে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করে।
উদ্ধার অভিযানের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুটিকে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনার পর উদ্ধারকারীরা আনন্দে উল্লাস প্রকাশ করেন।
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া শিশুটির নাম ক্লিয়েবার মোরান। তিনি এ ঘটনাকে ‘আশার মুহূর্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেন। পরে জর্ডানের সিভিল ডিফেন্স জানায়, শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
ভেনেজুয়েলার অ্যাসেম্বলি প্রেসিডেন্ট জর্জ রদ্রিগেজ জানান, রাজধানী কারাকাসে শিশুটির চিকিৎসা চলছে। তিনি বলেন, ক্লিয়েবারকে জীবিত উদ্ধার করার ঘটনা প্রমাণ করে যে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা অন্যদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনাও এখনো শেষ হয়ে যায়নি।
এদিকে জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় হাজার হাজার মানুষ তীব্র খাদ্য ও আশ্রয় সংকটে ভুগছেন। নাসার স্যাটেলাইট তথ্যের প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত অথবা ধ্বংস হয়েছে।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি লা গুয়াইরায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নিচ্ছেন। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, ওই এলাকায় খাদ্য সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। মৌলিক সেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং অনেক এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সংস্থাটির ভাষ্য, প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও উত্তেজনা বাড়ছে।
লা গুয়াইরার বাসিন্দা ১৮ বছর বয়সী দানিয়েলা আরমাস বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, কিছু ত্রাণ বিতরণ করা হলেও খাদ্যের সংকট এতটাই তীব্র যে, তা সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেক সময় মানুষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে।
ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত অন্তত ৩০ হাজার মানুষের জন্য আগামী ছয় মাস জরুরি সুরক্ষা, ত্রাণ ও অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে প্রাথমিকভাবে ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন।
অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা বর্তমানে চরম চাপের মুখে রয়েছে। সংস্থাটির মুখপাত্র ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডমেইয়ার সতর্ক করে বলেন, টিকাদানের হার কম থাকায় হাম ও ডিপথেরিয়ার মতো সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেড়েছে।
ধ্বংসস্তূপে এখনো অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে দেশি ও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো। লা গুয়াইরাসহ ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন রাজ্যে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকোসহ ডজনখানেক দেশের উদ্ধারকারী দল প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর ও ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, মঙ্গলবার ৪৭ টন মানবিক সহায়তা ভেনেজুয়েলায় পৌঁছেছে। এসব সহায়তার মধ্যে জরুরি স্বাস্থ্যসামগ্রী, নিরাপদ প্রসবের কিট এবং নবজাতকের পরিচর্যার প্রয়োজনীয় উপকরণ রয়েছে।






















