ঢাকা ১২:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬

খামেনির দাফন ঘিরে উদ্বিগ্ন ইরান

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:৪৬:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
  • / 25

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন প্রক্রিয়া ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে তেহরান। সপ্তাহব্যাপী দাফন কর্মসূচিতে বিপুল জনসমাগমের সম্ভাবনা থাকায় সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশটির কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দাফন কার্যক্রম শুরুর আগে শুক্রবার ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ইরানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের হামলার চেষ্টা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে।

এর আগে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে সম্ভাব্য পরবর্তী লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এরপরই আইআরজিসির পক্ষ থেকে এ সতর্কবার্তা আসে।

আরও পড়ুন  রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খালেদা জিয়ার দাফন সম্পন্ন

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দাফন অনুষ্ঠানে লাখো মানুষের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি অতিথিদের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে অনুষ্ঠানে যেকোনো ধরনের হামলা বড় ধরনের প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে জনসমক্ষে উপস্থিত ইরানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

রয়টার্সের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, দাফন অনুষ্ঠান শুরুর আগে তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছেন। এছাড়া আগামী সোমবার তেহরানের আকাশসীমা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরান।

ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার ইরান শাখার সাবেক প্রধান ড্যানি সিট্রিনোউইটজ সিএনএনকে বলেন, সম্ভাব্য আকাশ ও স্থল হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। তার মতে, ইরান এ বিষয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চায় না।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুদ্ধের প্রথম দিন তার বাবা ও পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনি দাফন অনুষ্ঠানে জনসমক্ষে উপস্থিত হবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এদিকে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী দেশটির বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্ভাব্য তৎপরতার বিষয়েও সতর্ক রয়েছে। প্রতিবেদনে কুর্দি, আরব ও বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী এবং নির্বাসিত মুজাহিদিন-ই খালক (এমইকে)-এর সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

শুক্রবার তেহরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানান ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। এ সময় তারা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। প্রেস টিভির খবরে বলা হয়েছে, তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আয়োজিত শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

তেহরানের গভর্নর মোহাম্মদ সাদেক মোতামাদিয়ান বলেছেন, দাফন কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। শনিবার সকাল ৬টা থেকে গ্র্যান্ড মোসাল্লা সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে এবং নির্ধারিত সময়ের আগে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

সূত্র: সিএনএন

নিউজটি শেয়ার করুন

খামেনির দাফন ঘিরে উদ্বিগ্ন ইরান

আপডেট সময় ০১:৪৬:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন প্রক্রিয়া ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে তেহরান। সপ্তাহব্যাপী দাফন কর্মসূচিতে বিপুল জনসমাগমের সম্ভাবনা থাকায় সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশটির কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দাফন কার্যক্রম শুরুর আগে শুক্রবার ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ইরানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের হামলার চেষ্টা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে।

এর আগে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে সম্ভাব্য পরবর্তী লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এরপরই আইআরজিসির পক্ষ থেকে এ সতর্কবার্তা আসে।

আরও পড়ুন  তিব্বতে বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্যোগে চীন, উদ্বিগ্ন ভাটির দেশগুলো

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দাফন অনুষ্ঠানে লাখো মানুষের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি অতিথিদের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে অনুষ্ঠানে যেকোনো ধরনের হামলা বড় ধরনের প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে জনসমক্ষে উপস্থিত ইরানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

রয়টার্সের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, দাফন অনুষ্ঠান শুরুর আগে তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছেন। এছাড়া আগামী সোমবার তেহরানের আকাশসীমা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরান।

ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার ইরান শাখার সাবেক প্রধান ড্যানি সিট্রিনোউইটজ সিএনএনকে বলেন, সম্ভাব্য আকাশ ও স্থল হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। তার মতে, ইরান এ বিষয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চায় না।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুদ্ধের প্রথম দিন তার বাবা ও পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনি দাফন অনুষ্ঠানে জনসমক্ষে উপস্থিত হবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এদিকে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী দেশটির বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্ভাব্য তৎপরতার বিষয়েও সতর্ক রয়েছে। প্রতিবেদনে কুর্দি, আরব ও বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী এবং নির্বাসিত মুজাহিদিন-ই খালক (এমইকে)-এর সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

শুক্রবার তেহরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানান ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। এ সময় তারা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। প্রেস টিভির খবরে বলা হয়েছে, তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আয়োজিত শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

তেহরানের গভর্নর মোহাম্মদ সাদেক মোতামাদিয়ান বলেছেন, দাফন কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। শনিবার সকাল ৬টা থেকে গ্র্যান্ড মোসাল্লা সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে এবং নির্ধারিত সময়ের আগে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

সূত্র: সিএনএন