জাতিসংঘ ভবনের সামনে গায়ে আগুন দিয়ে তিব্বতি নাগরিকের আত্মাহুতি
- আপডেট সময় ০৫:০৩:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
- / 19
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে আগুনে দগ্ধ হয়ে এক তিব্বতি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত লোবগা রাংজেন (৫২) পেশায় একজন উবার চালক ছিলেন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য জানায়নি নিউইয়র্ক পুলিশ।
নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ৩২ মিনিটের দিকে ফার্স্ট অ্যাভিনিউ ও ৪২তম স্ট্রিটের সংযোগস্থলে এক ব্যক্তি অগ্নিদগ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বেলভিউ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, কী কারণে লোবগা রাংজেন এ ঘটনা ঘটিয়েছেন, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি।
তবে নির্বাসিত তিব্বতিদের সংবাদমাধ্যম ‘ভয়েস অব তিব্বত’ প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানায়, ঘটনার সময় রাংজেনের হাতে একটি তিব্বতি পতাকা ছিল এবং তিনি তিব্বতি সন্ন্যাসীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিহিত ছিলেন। সংবাদমাধ্যমটির দাবি, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করে তিব্বতের স্বাধীনতা ও ঐক্যের পক্ষে বক্তব্য দেন।
রাংজেনের বন্ধু ও উবারচালক লবসাং পালজোর বলেন, রাংজেন প্রায় ২০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন এবং দেশটির নাগরিকত্ব অর্জন করেছিলেন। তার দাবি, তিব্বতে চীনের নীতির কারণে রাংজেন ক্ষুব্ধ ছিলেন।
তিব্বতের স্বাধীনতাকামী সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন ফর তিব্বতের সভাপতি তেনচো গিয়াতসো বলেন, রাংজেন তিব্বতে চীনের নিয়ন্ত্রণ এবং ‘এথনিক ইউনিটি অ্যান্ড প্রোগ্রেস’ আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন।
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, চীনা শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ২০০৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে দেড় শতাধিক তিব্বতি নাগরিক আত্মাহুতির ঘটনা ঘটিয়েছেন।
তিব্বতের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে চীন ও তিব্বতিদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতপার্থক্য রয়েছে। চীনের দাবি, তিব্বত বহু শতাব্দী ধরে দেশটির অবিচ্ছেদ্য অংশ। অন্যদিকে, তিব্বতিদের দাবি, ১৯৫১ সালে চীন অঞ্চলটি দখল করে। সাম্প্রতিক সময়ে তিব্বতের মঠ, ধর্মীয় অনুশীলন ও ভাষা ব্যবহারের ওপর চীনা সরকারের নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স




















