শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে বাংলাদেশ মানবতার নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে দেখে
- আপডেট সময় ০৫:২৪:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
- / 72
জাতিসংঘের বিশ্বশান্তি রক্ষা কার্যক্রমকে বাংলাদেশ কেবল একটি সাধারণ আন্তর্জাতিক দায়িত্ব হিসেবে নয়, বরং মানবতার প্রতি গভীর নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। মরক্কোর রাজধানী রাবাতে অনুষ্ঠিত ফ্রাঙ্কোফোন পরিবেশে শান্তিরক্ষা বিষয়ক দ্বিতীয় মন্ত্রী পর্যায়ের উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে তিনি বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের এই দৃঢ় অবস্থান ও অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বহুপাক্ষিকতার প্রতি শতভাগ অটল থেকে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বরাবরই অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক শান্তিরক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ অন্যতম শীর্ষ দেশ হিসেবে অবদান রেখে চলেছে উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, বিশ্বশান্তির সুমহান বেদিতে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৭৪ জন বীর শান্তিরক্ষী সদস্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। তিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে এই শহীদদের অবদান স্মরণ করেন। এ ছাড়া মিশনে বাংলাদেশি নারী শান্তিরক্ষীদের ক্রমবর্ধমান ও গৌরবোজ্জ্বল অংশগ্রহণকে তিনি দেশের অন্যতম বড় টেকসই অর্জন হিসেবে অভিহিত করেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শাসনামলে তা আরও বেগবান ও শক্তিশালী হওয়ার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে চলমান সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা সংস্কার ও নারীর ক্ষমতায়নের মতো কর্মসূচিগুলো বিশ্বব্যাপী টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
শান্তিরক্ষা ও শান্তি বিনির্মাণে ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ এজেন্ডাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে বর্তমান আধুনিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের জটিলতা তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন, এখনকার দিনে ভুল তথ্য বা অপপ্রচার, ডিজিটাল হয়রানি এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার শান্তিরক্ষীদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে আরও বেশি গতিশীল ও কার্যকর করতে তিনি স্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত ম্যান্ডেট নির্ধারণ, পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করা, জাতিসংঘ এবং সেনা ও পুলিশ প্রেরণকারী দেশগুলোর মধ্যে নিবিড় সমন্বয় এবং মাঠপর্যায়ে শান্তিরক্ষীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রদানের ওপর জোর দেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস সাপোর্ট অপারেশন ট্রেনিং বা বিপসট-এর মাধ্যমে শান্তিরক্ষীদের প্রাক-মোতায়েন আধুনিক প্রশিক্ষণ আরও জোরদার করা হচ্ছে এবং পরিবেশবান্ধব শান্তিরক্ষা কার্যক্রমেও বাংলাদেশের পূর্ণ প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
মরক্কো ও ফ্রান্স সরকারের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে মরক্কোয় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফাইজুন্নেসা উপস্থিত ছিলেন।
এর পাশাপাশি, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাবাতের ফোর সিজনস হোটেলে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল গ্রোথ কনফারেন্স ২০২৬-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে মূল বক্তা হিসেবে অংশ নেন শামা ওবায়েদ।
সেখানে তিনি বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, পরাশক্তিগুলোর শক্তির ভারসাম্য এবং আন্তর্জাতিক বিভাজনের ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর এর প্রভাব নিয়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থান অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরেন।

























