ইবোলার টিকা আসতে সময় লাগতে পারে ৯ মাস: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
- আপডেট সময় ০১:০০:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
- / 79
বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়ানো ভাইরাসজনিত প্রাণঘাতী রোগ ইবোলার নতুন প্রতিষেধক বা টিকা বাজারে আসতে আরও অন্তত ৯ মাস সময় লেগে যেতে পারে। জাতিসংঘের বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বিষয়ক অঙ্গসংগঠন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) উপদেষ্টা ড. ভাসি মূর্তি জেনেভায় সংস্থার সদরদপ্তরে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন।
ড. ভাসি মূর্তি জানান, ইবোলা ভাইরাসের অতি সংক্রামক ‘বুন্ডিবুগিও’ প্রজাতির বিস্তার রোধে বর্তমানে দুটি সম্ভাব্য ‘ক্যান্ডিডেট ভ্যাকসিন’ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। তবে টিকা দুটি এখনো প্রাথমিক গবেষণার পর্যায়ে রয়েছে এবং মানবদেহে পরীক্ষার জন্য ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হয়নি। টিকা দুটির চূড়ান্ত উৎপাদন ও ট্রায়াল সফলভাবে শেষ করে বাজারে আনতে সব মিলিয়ে ৯ মাস সময় লেগে যেতে পারে।
বর্তমানে মধ্য আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক (ডিআর) কঙ্গোতে ইবোলা প্রায় মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস জানিয়েছেন, কঙ্গোতে এ পর্যন্ত ইবোলার উপসর্গ নিয়ে ১৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও প্রায় ৬০০ জনের শরীরে এই রোগের লক্ষণ শনাক্ত হয়েছে।
কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় দুই প্রদেশ ইতুরি ও উত্তর কিভুর মোট ৫১ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে ইবোলা শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ উগান্ডার রাজধানী কামপালায় ২ জন ইবোলা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। কঙ্গোতে চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে ৬ জন মার্কিন নাগরিকও রয়েছেন, যাদের ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে গত ১৭ মে বিশ্বজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে ডব্লিউএইচও। তবে সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে যে, এই প্রাদুর্ভাব আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে উচ্চমাত্রার হলেও এখনো ‘বৈশ্বিক মহামারি’ পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এদিকে কঙ্গোর এই সংকট মোকাবিলায় এবং সম্মুখসারির স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষায় যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে ২ কোটি পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩২৯ কোটি ৪১ লাখ টাকা) অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
ইবোলা ভাইরাসের বৈজ্ঞানিক নাম ‘অর্থোইবোলাভাইরাস জাইরেন্স’। এ পর্যন্ত ইবোলার ছয়টি প্রজাতি শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে বর্তমানে কঙ্গোতে ‘বুন্ডিবুগিও’ ধরনটি সক্রিয় রয়েছে। এর প্রধান শিকার মানুষ এবং শিম্পাঞ্জি বা গরিলার মতো প্রাইমেট গোত্রীয় প্রাণী। ফলখেকো বাদুড়কে ইবোলার প্রাকৃতিক বাহক হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তবে বাদুড় নিজে এই রোগে আক্রান্ত হয় না। এটি কোনো বায়ুবাহিত রোগ নয়।
আক্রান্ত ব্যক্তি বা প্রাণীর রক্ত, লালা, ঘাম, বমি বা মলমূত্রের সরাসরি সংস্পর্শে এলে এবং আক্রান্তের ব্যবহৃত সুঁই বা কাপড় ব্যবহার করলে এই ভাইরাস ছড়ায়। এমনকি মৃতদেহের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় সরাসরি সংস্পর্শ থেকেও এটি সংক্রমিত হতে পারে।
ভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় দিন থেকেই হঠাৎ তীব্র জ্বর, প্রচণ্ড শারীরিক দুর্বলতা, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও পেশিতে ব্যথা দেখা দেয়। পরবর্তী ধাপে ডায়রিয়া, বমি এবং লিভার ও কিডনির কার্যকারিতা হ্রাস পায়। রোগের চূড়ান্ত পর্যায়ে রোগীর নাক, মুখ ও মলদ্বার দিয়ে তীব্র অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
অনবরত রক্তপাতের কারণে রোগীর মৃত্যু হয় বলে চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে ‘হেমারোজিক ফিভার’ বা রক্তক্ষরণ জ্বরও বলা হয়ে থাকে। ইবোলায় আক্রান্তদের গড় মৃত্যুহার ৫০ শতাংশ হলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গোর বর্তমান প্রাদুরাভাবে এই মৃত্যুহার ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত পরিলক্ষিত হয়েছে।























