কবর থেকে মরদেহ তুলে অন্যত্র দাফন, শামীমের মরদেহ দাফন হলো তিনবার
- আপডেট সময় ০৯:৪৫:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 29
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আবদুর রহমান ওরফে শামীমের মরদেহ দাফনের পর কবর থেকে তুলে অন্যত্র দাফনের ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দরবার প্রাঙ্গণ থেকে মরদেহটি উত্তোলন করে আগের কবরস্থানে পুনরায় দাফন করা হয়। এ নিয়ে মৃত্যুর পর শামীমের মরদেহ তিন দফায় দাফন করা হলো।
স্থানীয় সূত্র ও নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর দারোগার মোড় এলাকার একটি স্থানীয় কবরস্থানে আবদুর রহমান ওরফে শামীমকে প্রথমে দাফন করা হয়। তবে গত শুক্রবার দিবাগত রাতে কোনো একসময় কে বা কারা কবর খুঁড়ে তার মরদেহ তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরে মরদেহটি ফিলিপনগরের ‘শামীম বাবার দরবার’ প্রাঙ্গণে নিয়ে নতুন করে দাফন করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর শনিবার দুপুরে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাস ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় আগের কবর থেকে মরদেহ সরিয়ে নেওয়ার প্রাথমিক আলামত পাওয়া যায়। একই সঙ্গে দরবার প্রাঙ্গণে নতুন একটি কবরের সন্ধান মেলে। সেখানে পলিথিনে মোড়ানো একটি মরদেহ দেখতে পান সংশ্লিষ্টরা।
তবে দরবার প্রাঙ্গণের কবরে থাকা মরদেহটি শামীমের কি না, তা নিশ্চিত হতে প্রথমে তার আগের কবরের কিছু অংশ খুঁড়ে পরীক্ষা করা হয়। সেখানে মরদেহ না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, শামীমের মরদেহটি আগের কবর থেকে তুলে দরবার প্রাঙ্গণে নিয়ে দাফন করা হয়েছে।
পরে শনিবার দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ও পুলিশি পাহারায় দরবার প্রাঙ্গণের নতুন কবর থেকে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মরদেহটি আগের কবরস্থানে পুনরায় দাফন করা হয়।
মরদেহটি কারা কবর থেকে তুলে অন্যত্র নিয়ে গিয়েছিল, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। তবে নিহতের স্বজন ও স্থানীয় কয়েকজনের ধারণা, শামীমের ভক্তদের কেউ এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন।
শামীমের বড় ভাই ফজলুর রহমান বলেন, সকালে খবর পেয়ে তারা কবরস্থানে গিয়ে কবর খোঁড়া এবং মরদেহ সরিয়ে নেওয়ার স্পষ্ট আলামত দেখতে পান। পরে দরবার প্রাঙ্গণে গিয়ে নতুন একটি কবর খুঁড়ে সেখানে মরদেহ দাফন করা অবস্থায় দেখতে পান। এরপর বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। তবে মরদেহ সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তাদের পরিবারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানান তিনি।
দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান বলেন, দুটি কবরের আলামত দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার রাতেই আগের কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করে নতুন জায়গায় দাফন করা হয়েছে। তবে কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাস বলেন, অনুমতি ছাড়া কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করা বেআইনি। আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কোনো মরদেহ এক স্থান থেকে অন্যত্র নিয়ে পুনরায় দাফন করা যায় না। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর দরবার প্রাঙ্গণ থেকে মরদেহ উত্তোলন করে আগের কবরস্থানে পুনরায় দাফন করা হয়েছে।
শামীমকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছিল
চলতি বছরের ১১ এপ্রিল দুপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে শামীমের দরবারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ওই দিনই তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন ১২ এপ্রিল ময়নাতদন্ত শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।
নিহত আবদুর রহমান শামীম নিজেকে ‘কালান্দার বাবা’ হিসেবে পরিচয় দিতেন। তিনি সুরেশ্বরী দরবারের অনুসারী ছিলেন। ফিলিপনগরের দারোগার মোড় এলাকায় নিজস্ব দরবার শরিফ প্রতিষ্ঠা করে সুফিবাদী আধ্যাত্মিক চর্চা করতেন তিনি।
শামীম হত্যার ঘটনায় তার ভাই বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় কুষ্টিয়া জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি ও খেলাফত মজলিসের এক নেতাসহ চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলায় নাম থাকা চার আসামিই বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।























