ঢাকা ১০:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কিছু রাজনৈতিক দল অরাজকতা পাঁয়তারা চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:০৯:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 24

ছবি সংগৃহীত

 

বিভ্রান্তি ছড়িয়ে কিছু রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি দেশে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শনিবার এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে বিএনপি এ সভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

আরও পড়ুন  বিগত দুই সরকার হামের টিকা না দিয়ে ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে: প্রধানমন্ত্রী

তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারী শাসনের সময় একটি দল ‘গুপ্ত বেশ’ ধারণ করেছিল এবং পরে ওই দলের নিজেদের লোকজনই বিষয়টি স্বীকার করেছেন। বর্তমানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেশে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছেন বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এর পেছনে কারা রয়েছে, তা জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।

বিগত স্বৈরাচারী সরকারের সময় যারা ‘গুপ্ত’ অবস্থানে ছিল, তাদের মধ্যেই এখন ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচার আশ্রয় নিয়ে অরাজকতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে কি না—এমন প্রশ্নও সামনে এসেছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তার ভাষ্য, এমনটি হয়ে থাকলে ওই ‘গুপ্ত’ শক্তি স্বৈরাচারকে আবার সামনে নিয়ে আসার কাজে সহযোগিতা করছে।

তারেক রহমান অভিযোগ করে বলেন, “এই ভাইস ভার্সা গুপ্ত বাহিনী ১৯৭১ সাল থেকে বিভিন্ন সময় একে অন্যকে আড়াল ও আশ্রয় দিয়ে এসেছে। ১৯৮৬ ও ১৯৯৬;—গত এক যুগ এবং বর্তমান সময়েও বিভিন্নভাবে তারা একে অন্যকে আড়াল করেছে।”

সরকারের অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। সরকার গণতন্ত্রের ধারা সমুন্নত রাখার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক নীতি-নৈতিকতা বজায় রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।

তিনি বলেন, “কেউ যদি অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়; সেটিকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে তা দেশের আইনে বলে দেওয়া আছে। কাজেই জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার হিসেবে পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, প্রত্যেকের নিজেদের সীমার মধ্যে থাকা দরকার।”

দেশের বিভিন্ন সংকটের সময়ে বিএনপির ভূমিকা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, প্রতিটি সংকটকালীন মুহূর্তে দলটি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করেছে। ধীরে ধীরে দেশকে সংকট থেকে বের করে আনার ক্ষেত্রেও দলটি ভূমিকা রেখেছে বলে দাবি করেন তিনি।

বর্তমানে বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্বে থাকায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে ভোগা মানুষের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিল্পকারখানার মালিকসহ অনেক সাধারণ মানুষ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে কষ্টে রয়েছেন। তাদের সবার কাছে দলের পক্ষ থেকে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ দলের প্রয়াত নেতাকর্মীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে সভার কার্যক্রম শুরু হয়।

এ সময় জিয়াউর রহমান, দলের সাবেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সব শহীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে বিএনপির ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং শুরু হয় মূল আলোচনা পর্ব।

সভাটি সঞ্চালনা করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু। এতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আমানউল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম ও মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

কিছু রাজনৈতিক দল অরাজকতা পাঁয়তারা চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৯:০৯:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

বিভ্রান্তি ছড়িয়ে কিছু রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি দেশে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শনিবার এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে বিএনপি এ সভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

আরও পড়ুন  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সৌজন্য সাক্ষাৎ

তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারী শাসনের সময় একটি দল ‘গুপ্ত বেশ’ ধারণ করেছিল এবং পরে ওই দলের নিজেদের লোকজনই বিষয়টি স্বীকার করেছেন। বর্তমানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেশে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছেন বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এর পেছনে কারা রয়েছে, তা জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।

বিগত স্বৈরাচারী সরকারের সময় যারা ‘গুপ্ত’ অবস্থানে ছিল, তাদের মধ্যেই এখন ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচার আশ্রয় নিয়ে অরাজকতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে কি না—এমন প্রশ্নও সামনে এসেছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তার ভাষ্য, এমনটি হয়ে থাকলে ওই ‘গুপ্ত’ শক্তি স্বৈরাচারকে আবার সামনে নিয়ে আসার কাজে সহযোগিতা করছে।

তারেক রহমান অভিযোগ করে বলেন, “এই ভাইস ভার্সা গুপ্ত বাহিনী ১৯৭১ সাল থেকে বিভিন্ন সময় একে অন্যকে আড়াল ও আশ্রয় দিয়ে এসেছে। ১৯৮৬ ও ১৯৯৬;—গত এক যুগ এবং বর্তমান সময়েও বিভিন্নভাবে তারা একে অন্যকে আড়াল করেছে।”

সরকারের অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। সরকার গণতন্ত্রের ধারা সমুন্নত রাখার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক নীতি-নৈতিকতা বজায় রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।

তিনি বলেন, “কেউ যদি অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়; সেটিকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে তা দেশের আইনে বলে দেওয়া আছে। কাজেই জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার হিসেবে পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, প্রত্যেকের নিজেদের সীমার মধ্যে থাকা দরকার।”

দেশের বিভিন্ন সংকটের সময়ে বিএনপির ভূমিকা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, প্রতিটি সংকটকালীন মুহূর্তে দলটি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করেছে। ধীরে ধীরে দেশকে সংকট থেকে বের করে আনার ক্ষেত্রেও দলটি ভূমিকা রেখেছে বলে দাবি করেন তিনি।

বর্তমানে বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্বে থাকায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে ভোগা মানুষের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিল্পকারখানার মালিকসহ অনেক সাধারণ মানুষ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে কষ্টে রয়েছেন। তাদের সবার কাছে দলের পক্ষ থেকে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ দলের প্রয়াত নেতাকর্মীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে সভার কার্যক্রম শুরু হয়।

এ সময় জিয়াউর রহমান, দলের সাবেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সব শহীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে বিএনপির ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং শুরু হয় মূল আলোচনা পর্ব।

সভাটি সঞ্চালনা করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু। এতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আমানউল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম ও মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।