ঢাকা ০৩:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :

সিডনিতে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা; বাংলাদেশি প্রবাসী গ্রেফতার

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:২৯:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
  • / 84

ছবি: সংগৃহীত

 

অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরের ক্যাম্পবেল্টটাউন এলাকায় নিজ বাসভবনে ৪৬ বছর বয়সি স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগে ৪৭ বছর বয়সি এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রবাসীকে গ্রেফতার করেছে স্থানীয় পুলিশ। নিহত দুই শিশুর একজনের বয়স ১২ বছর এবং অন্যজনের বয়স মাত্র ৫ বছর বলে জানা গেছে।
সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় ওই ব্যক্তি নিজেই পুলিশে ফোন করে ঘটনার কথা জানান। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। সিডনি মর্নিং হেরাল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের শরীরে ভয়াবহ ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের পরিচয় সুরক্ষার স্বার্থে অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয়নি। তাকে গ্রেফতার করে পারিবারিক সহিংসতার মাধ্যমে হত্যার তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) ক্যাম্পবেলটাউন আদালতে মামলাটি সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা হলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি সশরীরে হাজির হননি।
তার আইনজীবী জাওয়াদ হোসাইন সাংবাদিকদের জানান, পুলিশ হেফাজতে তার মক্কেল বর্তমানে চরম মানসিক বিপর্যস্ত অবস্থায় আছেন। তবে অভিযুক্তের অতীতে কোনো পারিবারিক সহিংসতা, মাদক গ্রহণ বা মানসিক সমস্যার ইতিহাস ছিল কিনা—সে বিষয়ে মন্তব্য করতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।

আরও পড়ুন  শিশু রামিসা হত্যা: ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ আইনমন্ত্রীর

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি মূলত ঘরে থেকে দুই সন্তানের দেখাশোনা করতেন এবং দুই শিশুরই এক ধরনের বিকাশজনিত সমস্যা ছিল। অন্যদিকে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তাদের মা। প্রায় এক দশক আগে এই দম্পতি বাংলাদেশ থেকে স্থায়ীভাবে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন।
নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের অ্যাক্টিং সুপারিনটেনডেন্ট মিশেল মরোনি এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত নৃশংস অপরাধস্থল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, ঘরের ভেতর থেকে এমন কয়েকটি বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলো এই হত্যাকাণ্ডের আঘাতের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে বাড়িতে কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়নি।

পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি এর আগে কখনো কোনো অপরাধমূলক রেকর্ডের কারণে পুলিশের নজরে আসেননি। এমনকি এই পরিবারটির সঙ্গে সমাজসেবা বিভাগ বা শিশু সুরক্ষা সংস্থারও পূর্বে কোনো যোগাযোগের রেকর্ড নেই।
ঘটনার পর পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে তদন্তকারীরা প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন। তবে হামলার সময় বাড়ির ভেতরে অন্য কোনো বহিরাগতের উপস্থিতি ছিল না বলে ধারণা করছে পুলিশ।

স্থানীয় প্রতিবেশীরা এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, নিহত শিশুরা সবসময় হাসিখুশি ছিল এবং প্রায়ই বাড়ির বাইরে খেলাধুলা করত। নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মাইনস এই ঘটনাকে ‘ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক’ বলে উল্লেখ করে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
তিনি জানান, আসন্ন জুন মাসের রাজ্য বাজেটে পারিবারিক সহিংসতা মোকাবিলায় আরও অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। উল্লেখ্য, এই ঘটনার কয়েকদিন আগেই পারিবারিক সহিংসতা দমনে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে অস্ট্রেলিয়াজুড়ে ৯৯৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন

সিডনিতে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা; বাংলাদেশি প্রবাসী গ্রেফতার

আপডেট সময় ১২:২৯:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

 

অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরের ক্যাম্পবেল্টটাউন এলাকায় নিজ বাসভবনে ৪৬ বছর বয়সি স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগে ৪৭ বছর বয়সি এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রবাসীকে গ্রেফতার করেছে স্থানীয় পুলিশ। নিহত দুই শিশুর একজনের বয়স ১২ বছর এবং অন্যজনের বয়স মাত্র ৫ বছর বলে জানা গেছে।
সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় ওই ব্যক্তি নিজেই পুলিশে ফোন করে ঘটনার কথা জানান। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। সিডনি মর্নিং হেরাল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের শরীরে ভয়াবহ ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের পরিচয় সুরক্ষার স্বার্থে অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয়নি। তাকে গ্রেফতার করে পারিবারিক সহিংসতার মাধ্যমে হত্যার তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) ক্যাম্পবেলটাউন আদালতে মামলাটি সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা হলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি সশরীরে হাজির হননি।
তার আইনজীবী জাওয়াদ হোসাইন সাংবাদিকদের জানান, পুলিশ হেফাজতে তার মক্কেল বর্তমানে চরম মানসিক বিপর্যস্ত অবস্থায় আছেন। তবে অভিযুক্তের অতীতে কোনো পারিবারিক সহিংসতা, মাদক গ্রহণ বা মানসিক সমস্যার ইতিহাস ছিল কিনা—সে বিষয়ে মন্তব্য করতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।

আরও পড়ুন  চট্টগ্রামে হত্যা ও মাদকসহ ১৩ মামলার আসামি মজনু গ্রেপ্তার

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি মূলত ঘরে থেকে দুই সন্তানের দেখাশোনা করতেন এবং দুই শিশুরই এক ধরনের বিকাশজনিত সমস্যা ছিল। অন্যদিকে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তাদের মা। প্রায় এক দশক আগে এই দম্পতি বাংলাদেশ থেকে স্থায়ীভাবে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন।
নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের অ্যাক্টিং সুপারিনটেনডেন্ট মিশেল মরোনি এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত নৃশংস অপরাধস্থল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, ঘরের ভেতর থেকে এমন কয়েকটি বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলো এই হত্যাকাণ্ডের আঘাতের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে বাড়িতে কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়নি।

পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি এর আগে কখনো কোনো অপরাধমূলক রেকর্ডের কারণে পুলিশের নজরে আসেননি। এমনকি এই পরিবারটির সঙ্গে সমাজসেবা বিভাগ বা শিশু সুরক্ষা সংস্থারও পূর্বে কোনো যোগাযোগের রেকর্ড নেই।
ঘটনার পর পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে তদন্তকারীরা প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন। তবে হামলার সময় বাড়ির ভেতরে অন্য কোনো বহিরাগতের উপস্থিতি ছিল না বলে ধারণা করছে পুলিশ।

স্থানীয় প্রতিবেশীরা এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, নিহত শিশুরা সবসময় হাসিখুশি ছিল এবং প্রায়ই বাড়ির বাইরে খেলাধুলা করত। নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মাইনস এই ঘটনাকে ‘ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক’ বলে উল্লেখ করে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
তিনি জানান, আসন্ন জুন মাসের রাজ্য বাজেটে পারিবারিক সহিংসতা মোকাবিলায় আরও অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। উল্লেখ্য, এই ঘটনার কয়েকদিন আগেই পারিবারিক সহিংসতা দমনে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে অস্ট্রেলিয়াজুড়ে ৯৯৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।