শিশু রামিসা হত্যা: ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ আইনমন্ত্রীর
- আপডেট সময় ০১:২৯:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
- / 82
রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মম ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে এক সপ্তাহের মধ্যে মামলার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে আইনমন্ত্রী এই সুনির্দিষ্ট নির্দেশ প্রদান করেন বলে আইন মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের বিচার কাজ যেন কোনোভাবেই দীর্ঘায়িত না হয়, বরং দ্রুততম সময়ের মধ্যে যেন বিচার সম্পন্ন করা যায়, সেজন্য সরকার ও মন্ত্রণালয় থেকে সব ধরনের যথাযথ ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এদিকে গতকাল বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে হাজির করা হলে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের মূল কারিগর ও গ্রেপ্তারকৃত প্রধান আসামি সোহেল রানা নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সোহেল রানা অবুঝ শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও পরবর্তীতে মাথা কেটে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার এক লোমহর্ষক ও বিস্তারিত বর্ণনা দেন।
আদালত সূত্র জানায়, জবানবন্দিতে সোহেল রানা দাবি করেছেন, ঘটনার সময় তিনি তীব্র মাদকাসক্ত অবস্থায় ছিলেন এবং ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের সঙ্গে তাঁর পূর্বশত্রুতা বা কোনো ধরনের বিরোধ ছিল না; মূলত পাশবিক লালসা থেকেই তিনি এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন।
মামলার এজাহার ও পুলিশি বিবরণ অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে শিশু রামিসা বাসা থেকে বের হলে সুকৌশলে তাকে ডেকে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যায় অভিযুক্তের স্ত্রী। সেখানে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণ চালানো হয়। এরপর অপরাধ ঢাকতে তাকে নির্মমভাবে খুন করে মরদেহ টুকরো টুকরো করা হয়।
পরবর্তীতে শিশুটির সন্ধান না পেয়ে স্বজনরা ওই ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং খাটের নিচ থেকে রামিসার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করেন। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে শৌচাগারের (বাথরুম) একটি বালতির ভেতর থেকে শিশুটির খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করা হয়।
এই বীভৎস ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযুক্তের স্ত্রীকে ফ্ল্যাট থেকেই অবরুদ্ধ অবস্থায় আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে মূল ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। বর্তমানে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।


























